স্মৃতিতে
মারাকানাজো
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৪, ২১:৪৯
ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও বিশ্বকাপ—এই তিনটি শব্দ একসাথে উচ্চারিত হলে আপনা আপনিই চলে আসবে ঐতিহাসিক ও নাটকীয় এক অধ্যায়ের স্মৃতি। ফিরে যেতে হয় ৬৪ বছর আগের মারাকানা স্টেডিয়ামে। ব্রাজিলের জন্য ফিরে আসে এক দু:স্বপ্ন, উরুগুয়ের জন্য এক স্বর্ণালী অতীত।
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে গোটা ব্রাজিলকে হতবাক করে দিয়ে বিজয়মাল্য বরণ করে উরুগুয়ে। এক লাখ সত্তর হাজার দর্শকের সামনে আলসিদেস ঘিগিয়া ‘স্বপ্ন চুরি’ করেন ব্রাজিলের। সেলেচাওরা অবশ্য ২০ বছর বাদে ক্ষতস্থানে প্রলেপ দেয়ার ছোট একটা উপলক্ষ নিয়ে আসেন। মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পেলে-গারিঞ্চা-টোস্টাওরা হারিয়ে দেয় উরুগুয়েকে। তখনকার বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ‘মনুষ্য দেয়াল’ খ্যাত ল্যাডিস্ল্যাও মাজুরকিজকে হতবিহ্বল করে অবিশ্বাস্য এক গোল করেন। ম্যাচটিতে ৩-১ গোলে জয় পায় ব্রাজিল। নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের দিকে অগ্রসর হয় আরেক ধাপ। ফাইনালে ইতালিকে ব্রাজিলিয়ানরা হারিয়েছিল ৪-১ গোলে।
এরপরও মারাকানার কান্নাকে কখনওই মুছে ফেলা যায়নি ইতিহাসের পাতা থেকে। আবারও সন্নিকটে বিশ্বকাপ। আর মঞ্চটা ব্রাজিল বলেই ঘুরেফিরে আসছে মারাকানাজোর প্রসঙ্গ। ব্রাজিল কিংবা উরুগুয়ে, কোন দলই উড়িয়ে দিতে পারছে না মারাকানাজোর স্মৃতি। প্রতিবেশি দেশ দুটির কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি কিংবা উরুগুয়ের অস্কার তাবারেজ, দুজনই বেড়ে ওঠার সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠেছেন মারাকানাজোর কিংবদন্তীর সাথে। তাবারেজ বলেন, ‘খুব ছোট থাকতে প্রথম এই ব্যাপারে শুনেছিলাম। আর এর সবটাই সত্যিও ছিল না।’
স্কোলারির মতে, দেশের মানুষ ম্যাচটির ব্যাপারে কিছু ভুল ব্যাখ্যা করে, ‘যারা ঘটনাটিকে নেতিবাচক হিসাবে উপস্থিত করেন আমি তাদের সাথে একমত নই। কারণ, সেবারই প্রথমবারের মত ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে। আমরা হয়তো হেরেছিলাম, কিন্তু মনে রাখতে হবে এরপর আমরা পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছি। আর শুরুটা হয়েছিল সেখান থেকেই।’
প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, অতীত-ইতিহাস থাকুক, সেটার প্রভাব খেলার মাঠে থাকুক আর নাই থাকুক, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের ম্যাচ যদি এবারের বিশ্বকাপে আদৌ অনুষ্ঠিত হয়, সেটা হবে দুই দলের মধ্যে সুসম্পর্কের এক প্রদর্শনী, অন্ততপক্ষে ৯০ মিনিটের জন্য। দুই কোচই এমনটাই মত দিলেন। স্কোলারিতো রীতিমত তাবারেজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘আমি তাকে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করি, সেটা কোচ হিসাবে তো বটেও। আর নিজেকে কিংবা খেলোয়াড়দের যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন সেটা যেকোন কোচের জন্যই আদর্শ। আমিও তাকে আদর্শের তালিকায় রাখি।’