বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কেমন হবে তা সময়ই বলে দেবে ভারত এমন একটি দেশ যার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনেক ভূমিকা রাখে আমাদের নীতি নির্ধারণে। সম্প্রতি ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সমর্থিত প্রার্থী নরেন্দ্র দামোদর মোদী বিজয় লাভ করেন। মোদীর এ বিজয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এক পক্ষ ভাবছেন এতে বাংলাদেশ হুমকির সম্মুখীন হবে বিভিন্ন দিক দিয়ে। আরেক পক্ষের মতামত ইতিবাচক। মূলত সত্যতা যাচাই করার সময় এখনো আসেনি। যেহেতু রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলতে কিছু নেই। আমার মতে, আমাদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করে নিজ দেশের স্বার্থরক্ষার মাধ্যমে ও আমরা ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারব বলে আশা রাখি। সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চাই পারে এ পরিস্থিতির সুন্দর সমাধান দিতে। আবিদা সুলতানা ১ম বর্ষ (২য় সেমিস্টার), ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। বিজেপির জয় :ঢাকা-দিল্লি সুসম্পর্ক নিয়ে টানাপড়েন কেন? দেশে দেশে নির্বাচন হবে; এ জানা কথা। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নির্বাচন হলো। বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জয়ও পেয়েছে। ক্ষমতায় বিজেপি আসলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ভাল যাবে না এমনটা আমি ভাবি না। সুসম্পর্ক থাকলে কি আর না থাকলে কি? কংগ্রেসের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সুসম্পর্কে আমরা কতটুকু লাভবান হতে পেরেছি? কথা হলো, ভারতের সাথে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জাতীয় সমস্যাগুলোর কতটুকু সমাধান হচ্ছে? ঢাকা-দিল্লি সুসম্পর্কে ফাটল ধরাবে না। ঢাকা-দিল্লি সুসম্পর্ক তখনি খারাপ হবে যখন এদেশ তাঁদের জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন হবে। মাহমুদ শিক্ষার্থী , মাস্টার্স, ভেটেরিনারি অনুষদ, চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়। ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে, তবে রাজনীতির উপর প্রভাব পড়তে পারে ভারতের সরকার পরিবর্তন হয়েছে সে দেশের মানুষ চেয়েছে বলে এতে বাংলাদেশের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না তবে রাজনীতির উপর একটু প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ হিসাবে ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে ছিলো। বন্ধুত্ব থাকবে, সরকার পরিবর্তনে তাই কিছু কিছু ব্যাপারে পরিবর্তন হবে আর হওয়াটা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। যেমন বলা যায় ভারতে অনুপ্রবেশ অবাধে হচ্ছে, বসবাস অবৈধভাবে, ক্ষমতাসীনরা সুযোগ-সুবিধা একটু বেশি নিচ্ছে হয়তো এই বিষয়গুলো একটু হলেও পরিবর্তন হবে। আমরা একটা বিষয় লক্ষ্য করছি ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে ভারতের সরকার কিছু না জেনে বিশ্লেষণ না করে একতরফাভাবে বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন করে গেলো তার মানে হলো মনমোহনের সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটা অন্য রকম সম্পর্ক ছিলো, সেই ক্ষেত্রে বিজেপির সাথে ক্ষমতাসীনদের সম্পর্ক আছে, তবে মনমোহনের মতো না, যার জন্য রাজনীতির বিষয়টাতে একটু হলেও প্রভাব পড়বে। মো. দেলোয়ার হোসাইন সরকারি তিতুমীর কলেজ মাস্টার্স ১ম বর্ষ, মহাখালী, ঢাকা। মোদির জয়ে বিএনপির বগল বাজানোর কিছু নেই বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ভারতের সরকারের সম্পর্ক অনেক গভীর? নরেন্দ্র মোদীর জয়লাভ আওয়ামী লীগের জন্য কোনো সমস্যা নয়। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতের আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। আর এজন্য ভারত সরকারকে কোটি কোটি রুপি খরচ করতে হয়েছে গত জোট সরকারের আমলে। এ কারণে ভারত নিজের স্বার্থেই বিএনপির সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলবে না। তাই তার জয় নিয়ে বিএনপির খুশিতে বগল বাজিয়ে নাচার কিছু নেই? ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঠাঁই অনেক পিছিয়ে। পাকিস্তান, চীন সবার আগে। তারপর আমেরিকা। রাশিয়া। পশ্চিম ইউরোপের ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স। ইদানিং মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ। নেপাল, মিয়ানমারের দিকে চোখ বেশি। বাংলাদেশ নিয়ে মোদী সরকারের কোনো মাথাব্যথা থাকবে না। সুতরাং বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখবে বিজেপি সরকার। আহসান কামরুল এম.এ (কামিল), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক দিল্লির উপর নির্ভর করবে বিজেপি সরকার গঠনের পর আগামী দিনে ঢাকা দিল্লীর সম্পর্ক কেমন হবে তা পুরোটাই নির্ভর করছে দিল্লীর স্বদিচ্ছার উপর। যেহেতু বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে সেক্ষেত্রে সীমান্ত চুক্তির মতো চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে তাদের স্বদিচ্ছাই যথেষ্ট। তবে এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে কেননা বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় বিজেপি এসব চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির প্রধান অন্তরায় যাকে মনে করা হয় সেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এর অবস্থান পশ্চিমবঙ্গে আরো দৃঢ় হয়েছে। তাই এ চুক্তিটির ব্যাপারেও আশাবাদী হওয়ার মত যৌক্তিক কারণ দৃশ্যমান হচ্ছে না। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে বিজেপির সাথে তাদের খানিকটা দূরত্ব রয়েছে। তাই আগামিদিনে দুদেশের সম্পর্ক খারাপ না হলেও বর্তমানের চেয়ে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং আগামি দিনে তা আরো একপেশে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেটা বাংলাদেশের জনগণকে আরো হতাশ করতে পারে। মো. মেহেদী হাছান ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার, ব্যাবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট