বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার ভিত্তিতে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে আমরা জানি যে, ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়ী হয়েছে বিজেপি। মানুষ আশা করে স্বপ্ন দেখে। নতুন এর কাছে আরও আশাবাদী থাকে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যে ভারত বিমুখতা সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করতে পারবে বলে আশা করি। যদিও বা নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন জনসভায় মোদি যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার ঘৃণায় জড়িয়ে গিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন বটে। তারপরও বাংলাদেশের সাথে তিস্তা ইস্যু, ফারাক্কা ইস্যু, সীমানা ইস্যু, করিডোর ইস্যু এই সব বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার ভিত্তিতে সমাধান করে দিল্লির সাথে ঢাকার একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বন্ধু দেশ ভারত। ভারতের কাছ থেকে বঞ্চনা নয় বরং সহযোগিতা চাই। আশা করি বিজেপির সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধুত্ব পূর্ণ হবে। আফিফী আক্তার (ঈশিতা) কম্পিউটার বিভাগ, ৩য় বষর্, ৫ম সেমিস্টার ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। ০০০০০০০০০০০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কেমন হবে তা সময়ই বলে দেবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ভারতের কাঙ্ক্ষিত ১৬তম লোকসভা নির্বাচন। যে নির্বাচনে ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের বিরাট বিপর্যয় ঘটে। সেই সাথে দিল্লির মসনদের মালিকানা চলে যায় কট্টরপন্থী সাম্প্রদায়িক দল বিজেপির দখলে। আর বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। আমাদের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা এই জয়কে কেন্দ্র করে দুটি মেরুতে দাঁড়িয়েছেন। কেউ বলছেন বিজেপির এই জয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলবে আবার কেউ বলছেন স্থিতিশীল থাকবে। যে যাই বলুক না কেন, আমার মতে এই জয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। তাদের দলের নীতিনির্ধারকরা এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না যাতে তাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখীন হয়। বিজেপি সাম্প্রদায়িক শক্তিতে বিশ্বাসী হলেও তারা যে দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী নয়, এর প্রমাণ কিন্তু তারা ইতিপূর্বে দিয়েছে বিজেপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সাথে ঢাকার সম্পর্ক কিন্তু সুমধুরই ছিল। কাজেই বিরাজমান সীমান্ত, পানি বণ্টন, বাণিজ্য, ট্রানজিট সম্পর্কিত সমস্যাগুলো আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে। সাম্প্রদায়িকতা সেখানে কোন ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে না। মো. শাহিনুর রহমান (শিমুল) সম্মান তয় বর্ষ (ইংরেজি বিভাগ) শেরপুর সরকারি কলেজ, শেরপুর। ০০০০০০০০০০০০০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরো গভীর হবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভালো-খারাপ নির্ভর করবে ভারতের নির্বাচিত নতুন সরকার বিজেপির উপর। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে কি আচরণ করবে অথবা বিএনপিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকে তাগিদ দিবে কিনা, তা এখন মূল আলোচ্য বিষয়। অন্যদিকে মোদীর নিকটতম সহযোগী অমিত শাহ এই বিষয়টি খোলাসা করেই বলেছেন দেশের সার্বিক স্বার্থের উপর ভিত্তি করেই পররাষ্ট্র নীতি গঠিত হয়। সুতরাং এই নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেই আমার মনে হয়। তবুও দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, তিস্তা ইত্যাদি চুক্তিসমূহ দুই দেশের স্বার্থরক্ষা করে প্রতিবেশীর মত সহযোগিতা করাই আমাদের কাম্য। তাওফিক আহমেদ (তুহিন) বি.বি.এ (১ম বর্ষ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা, বাংলাদেশ। ০০০০০০০০০০০০০ ভেবে দেখার আছে অনেক কিছুই রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন কোন মোড় নেয়ার সুযোগ নাই। তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কংগ্রেস—এর সাথে যে এক তরফা সম্পর্ক ছিল, তা আর থাকবে না বলেই অনুমেয়। ২০০১ সালে গুজরাট দাঙ্গার নায়ক নরেন্দ্র মোদীর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ফলে এ অঞ্চলে সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলমানদের চিন্তার অনেক কারণ আছে। বিজেপির একজন দায়িত্বশীল নেতা অবৈধ বাংলাদেশিদের জন্য খুলনা হতে সিলেট পর্যন্ত রেখা টেনে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি নিতে চেয়েছেন। নয়তো অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেন। বাংলাদেশ সরকারের বলিষ্ঠ ও বিচক্ষণ পররাষ্ট্রনীতি এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাথে সাথে সীমান্ত চুক্তি, তিস্তার পানি বণ্টন হিস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। কারো কাছে মাথা নত না করে বাংলাদেশের জনগণের হিস্যা আদায় করতে পারলে সরকার আরও জনপ্রিয় হবে। শরীফ মাসনাদ হোসেন সানি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং চতুর্থ বর্ষ, বস্ত্র ও ধাতব কৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।