পারলেন না সিমিওনে, তবে...

এই ম্যাচ জিতলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের তো বটেই ফুটবল রূপকথারই হয়তো অংশ হয়ে যেতেন দিয়েগো সিমিওনে। লাল কার্ড দেখে সেই ম্যাচের শেষটায় কিনা মাঠেই থাকা হলো না তার! তবে নিতান্ত মাঝারি মানের এক দলকে এই মৌসুমে ইউরোপের অন্যতম সফল দলে পরিণত করা এই আর্জেন্টাইনের অর্জন তাতে খাটো হয়ে যাচ্ছে না মোটেই। বরং খেলোয়াড়ি জীবনের অর্জন দিয়েই অ্যাটলেটিকোর ইতিহাসে জায়গা করে নেয়া সিমিওনে ক্লাবের ইতিহাসে করে নিয়েছেন স্থায়ী আসনই। এই মৌসুমের আগে অ্যাটলেটিকোর সর্বশেষ লিগ সাফল্যের সময় ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়। আর সেই ঘটনার দেড় যুগ পর ১৭ মে বার্সেলোনাকে তাদেরই মাঠে রুখে দিয়ে দলটি যখন গত বহু বছরর মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্যটি পেল তখন কোচ সেই সিমিওনেই। লিসবনে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচটি জিততে পারলে ক্লাবের সম্মানের পাশাপাশি সিমিওনে চিরস্থায়ী আসন করে নিতেন ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসেই। একমাত্র লাতিন কোচ হিসাবে জিতে নিতেন এক মৌসুমে লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তবে দুই মিনিটের আক্ষেপে শেষ পর্যন্ত হলো না কিছুই। উল্টো পরাজয় যখন নিশ্চিত তখন রিয়াল মিডফিল্ডার আলভারো মোরাটার উপর চড়াও হয়ে দেখতে হয়েছে লাল কার্ড। তবে কেবল এক ম্যাচ কিংবা একটি শিরোপা দিয়েই কি বিচার করা যাবে সিমিওনেকে? গত কয়েক মৌসুম ধরে রিয়ালের নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারফরম্যান্স সেই প্রশ্নের উত্তরে বলছে না। সিমিওনের কোচিংয়েই উয়েফা ইউরোপা কাপ, সুপার কাপ এবং ঘরোয়া লিগ কাপ জিতে গত কয়েক বছর ধরেই রিয়াল-বার্সেলোনার একাধিপত্য ভেঙ্গে লা লিগার তৃতীয় শক্তি হিসাবে উঠে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে অ্যাটলেটিকো। মাদ্রিদের তুলনামূলক দারিদ্র্যপীড়িত দক্ষিণাঞ্চলের এই দল উঠে আসার সেই পথে সবচেয়ে বড় লাফটি দিয়েছে এই মাসেই। বার্সেলোনাকে তাদের মাঠে রুখে দিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগ পর লিগ শিরোপা জিতেছে অ্যাটলেটিকো। এই শিরোপাকে নিতান্ত একটি সাফল্য হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। এমন দল যারা মাঝে মাঝে বড় দলকে হারিয়ে চমকে দেয়, সেই তকমা ঝেড়ে ফেলে স্প্যানিশ ফুটবলের প্রকৃত সুপারপাওয়ার হয়ে ওঠারও সূক্ষ্ম একটা ইঙ্গিত ছিল অ্যাটলেটিকোর এই শিরোপা বিজয়ে। দশম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার খোঁজে এক যুগ ধরে হন্যে হয়ে ছুটতে থাকা রিয়ালের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার একটা পরিষ্কার ইশারাও পাওয়া গেছে অ্যাটলেটিকোর এই সাফল্যে। আর ১৯০১ আর ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত রিয়াল ও অ্যাটলেটিকোর শতাব্দী প্রাচীন মাদ্রিদ ডার্বিতেও প্রথমবারের মতো বড় ম্যাচের উত্তেজনা এনে দেয়ার পেছনে ছিলেন এই সিমিওনেই। তাই অ্যাটলেটিকো মিডফিল্ডার টিয়াগো কেবল শিরোপা দিয়ে বিচার করতে নারাজ সিমিওনেকে। অ্যাটলেটিকোর জন্য সিমিওনে সৃষ্টিকর্তার মতোই বলে জানালেন তিনি, ‘আমাদের জন্য, ক্লাবের সবার জন্যই তিনি হচ্ছেন ঈশ্বরের মতো। তিনি ক্লাবে আসলেন এবং সবকিছু বদলে দিলেন। তিনি যা বলতেন সত্যি হয়ে যেত সেটাই। আমরা কেবল তাকে অনুসরণ করি। সে যদি আমাদের বলে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়তে আমরা ঠিক তাই করবো।’ বোঝাই যাচ্ছে সাধারণ এক কোচ থেকে বহু আগেই খেলোয়াড়দের কাছে অসাধারণ এক আদর্শে রূপ নিয়েছেন তিনি। আর কে না জানে, ব্যক্তির মৃত্যু হলেও আদর্শ বেঁচে থাকে আজীবন! ওয়েবসাইট অবলম্বনে।