নজর ব্রাজিল -আর্জেন্টিনাতেই
প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৪, ২২:০৬
বিশ্ব ফুটবলেই দেশ দুটিকে দেখা হয় আলাদা করে। আর বিশ্বকাপ যখন অনুষ্ঠিত হবে লাতিন আমেরিকাতে তখন তাদেরকে একটু এগিয়ে রাখতেই হয়। আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগেও তেমনটাই হচ্ছে। ফুটবল বোদ্ধা থেকে শুরু করে বর্তমান খেলোয়াড়দের ফেবারিটের তালিকায় উপরের দিকেই আছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
আর বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে শুরু হয়ে গেছে খেলোয়াড়দের কথার দাপট। মুখ খুলেছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের দুই প্রাণভোমরা—অস্কার লুইস ও সার্জিও অ্যাগুয়েরো। দুই তারকাই বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছেন নিজেদের দলকে।
চেলসির ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার অস্কার লুইস বলেন, ‘আমি লন্ডনে চেলসির হয়ে খেলি। সেটার বয়স দুই বছর হল। এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে খেলা ব্রাজিলিয়ানরা বিশ্বকাপ উপলক্ষে এক হয়েছি। এটা আমাদের জন্য বিশেষ একটা উপলক্ষ। ব্রাজিলিয়ান দর্শকদের সামনে খেলতে পারা আমাদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’
দলের বিশ্বকাপ জয়ের দারুণ সম্ভাবনা আছে বলেই মনে করছেন অস্কার। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘরের মাঠে আমরা দারুণ উপভোগ করছি। একইসাথে আমরা ফুটবল নিয়েও ব্যাপক সিরিয়াস। ব্রাজিলে খেলাটা আমাদের জন্য একরকম চাপও বটে। আমরা অবশ্য এটাকে মোটেই চাপ হিসাবে দেখছি না। আমরা তরুণ হলেও, নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। দর্শকদের ভালবাসাকে আমরা কোনভাবেই চাপ হতে দিবো না। আমরা লড়াই করতে চাই। ফুটবল আমাদের রক্তের সাথে মিশে আসে। বিশ্বকাপ জিতেই আমরা ফুটবলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই।’
ব্রাজিলে সর্বশেষ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫০ সালে। সেবার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ফাইনালে হারতে হয়। মারাকানার এক লাখ সত্তর হাজার দর্শক দেখে ব্রাজিলের পরাজয়। এতোদিন ধরে সেই ভূত তাড়িয়ে বেড়িয়েছে ব্রাজিলকে। সেটা মনে রেখেই অস্কার বলেন, ‘হ্যা মারাকানাজো ব্যাপারটা আমরা মাথায় রাখছি। জানি, সেটাকে আমাদের ফুটবল সমর্থকরা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে। সেদিক থেকে দেখলে আমাদের এবারের বিশ্বকাপ জয় করাটা খুবই জরুরি।’
এদিকে ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার সার্জিও অ্যাগুয়েরো ট্রফি দেখছেন আর্জেন্টাইনদের হাতে। ভারতীয় দৈনিক পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ আমি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছি। সেখানে আমি সফল। তবে, বিশ্বকাপ এরচেয়েও বড় একটা মিশন। আশা করি বড় এই মিশনে আর্জেন্টিনা সফল হবে।’
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে মূল ভূমিকায় মেসিকেই দেখছেন কিংবদন্তী ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার জামাতা, ‘আমাদের দলে আছেন লিওনেল মেসি। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে ও সেরা ফুটবলার। বাছাইপর্বে ওর দাপটেই আমরা শীর্ষে ছিলাম। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আমরা ওর উপরই নির্ভর করবো। বিশ্ব জয়ের সব ক্ষমতাই ওর আছে।’
মেসি ছাড়াও দলের অন্য খেলোয়াড়দেরও জ্বলে উঠতে হবে বলে মনে করছেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো, ‘আমাদের আক্রমণভাগটা বেশ মজবুত। মিডফিল্ড থেকে আমরা বলের যোগানটা ভালভাবে দিতে পারলেই হল। আমাদের দলে প্রতিভা ও যোগ্যতা দুটোই আছে। এবার ম্যাচের দিনে জ্বলে উঠতে পারলেই হয়।
গ্রুপ পর্যায়ের লড়াইয়ের ব্যাপারে অ্যাগুয়েরো বলেন, ‘আমাদের গ্রুপটাকে অনেকে খুব সহজ বলে ভাবছেন। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? নাইজেরিয়া আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন। বসনিয়া হারজেগোভিনা প্রথম বিশ্বকাপ খেললেও ওরা দারুণ ফুটবল খেলে। ওরা ইতিহাস গড়েই এতোদূর এসেছে। নজর রাখতে হবে ইরানের দিকেও।’
এছাড়া ব্রাজিলের হয়ে ২৩টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইন্টার মিলানের মিডফিল্ডার হারন্যানেসও তরুণ দলটির উপর কোন চাপ নেই বলেই মন্তব্য করেছেন। ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবলে চাপ সবসময়ই থাকবে। তাই ব্যাপারটার সাথে আমরা অভ্যস্ত। সেই চাপ নিয়েই আমরা দেশের দর্শকদের সামনে বিশ্বকাপ জিততে চাই।’