আদিবাসী উন্নয়নে চাই বাজেটে পৃথক বরাদ্দ
প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৪, ২২:০৬
আদিবাসীদের উন্নয়নের ধারায় আনতে হলে জাতীয় বাজেটে পৃথকভাবে যথেষ্ট বরাদ্দ প্রয়োজন। তাই এবারের জাতীয় বাজেটে পৃথক অনুচ্ছেদ যুক্ত করে আদিবাসী জনগণের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও বাজেট বক্তৃতায় আদিবাসী বিষয়ে বিবরণের সুপারিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও একশনএইড বাংলাদেশ।
রবিবার ডেইলি স্টার ভবনে আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে আসন্ন ২০১৪-১৫ জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ‘আদিবাসীবান্ধব জাতীয় বাজেট চাই’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব সুপারিশ জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
মন্ত্রী বলেন, আদিবাসীদের সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করতে হবে। বাজেটে গরীবদের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি বলেন, বাজেটে আদিবাসীরা গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ বাজেটে তাদের কথা উল্লেখ আছে। তিনি বলেন, বাজেট ভাবনা কেবল একমাসের বিষয় না; এটা সারা বছরের বিষয়। তিনি বলেন, সংবিধানে ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ে পরিবর্তন আনা দরকার।
অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, প্রতিবছর বাজেট বড় হচ্ছে; কিন্তু সেই বাড়তি বাজেটের সুফল আদিবাসী কিংবা অন্য বঞ্চিত জনগোষ্ঠী পাচ্ছে না। তিনি আদিবাসীদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সহিংসতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৫ লাখ মানুষ উদবাস্তু। এদের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ দরকার। ৬৫ হাজার শরণার্থী আছে, যাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ দরকার।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। তিনি বলেন, নানা কারণে আদিবাসীরা উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে না। তাই জাতীয় বাজেটে তাদের জন্য পৃথক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সমতলের আদিবাসীদের বিষয়টি দেখার জন্য যেহেতু কোন মন্ত্রণালয় নেই; সেকারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই থোক বরাদ্দ পরিচালনার জন্য সমতলের আদিবাসীদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি বা বোর্ড গঠন করা যেতে পারে।
সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহবায়ক ফজলে হোসেন বাদশা, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য উষাতন তালুকদার এমপি, আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ডালেম চন্দ বর্মন, আদিবাসী ফোরামের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা প্রমুখ।