গরমে রোদচশমা
প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৪, ২০:০০
প্রচণ্ড গরম, সেই সাথে যোগ হয়েছে ধুলোবালি। এই গরমে যতই এগুলো থেকে দূরে থাকতে চান না কেন, ঘুরে-ফিরে সেগুলোর মাঝেই থাকতে হয় আমাদের। ত্বকে না হয় সানস্ক্রিন বা লোশনে কাজ চালিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু চোখ? আর এই চোখ রক্ষা করতে অনেকেই ব্যবহার করেন সানগ্লাস। চোখের জন্য দরকারি সানগ্লাসের খবর জানাচ্ছেন নওশীন শর্মিলী
এই প্রচণ্ড রোদে সানগ্লাস খুব উপকারী। গরমেই মূলত চোখের নানা ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। আর এর সাথে, কারও যদি মাইগ্রেন বা সাইনাসের সমস্যা থাকে তাহলে তো কথাই নেই! এসব সমস্যা থেকে খুব সহজে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো সানগ্লাস ব্যবহার করা।
ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস
ব্র্যান্ডেড জিনিসের প্রতি প্রায় সবারই একটা বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বহুতল বিপণী সবখানেই সানগ্লাসের দোকান খুঁজে পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস কিনতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ভালো দোকানে যেতে হবে। ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস দুই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। রোদচশমার গুণগত মান ভালো থাকে এবং এগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনেক ফ্যাশনেবল হয়। বিভিন্ন নামের ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস ক্ষেত্রে আছে রে ব্যান, গুচি, সিকে, পুলিশ ইত্যাদি। এসব ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস ছেলেমেয়েদের আলাদা ডিজাইন এবং ভিন্ন দামে পাওয়া যায়। এ ছাড়া দেশের সবখানেই সানগ্লাস নন-ব্র্যান্ডেড পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। এগুলোতে দেখা যায় বৈচিত্র্যতা এবং দামটাও হাতের নাগালে। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য আলাদা করে তৈরি করা হয়। তবে কিছু কিছু সানগ্লাস ছেলেমেয়ে সবাই ব্যবহার করতে পারবে। ফ্যাশনের প্রয়োজনে যদি কিছুদিন অন্তর অন্তর সানগ্লাস বদলাতে চান, তবে নন-ব্র্যান্ডেড পণ্যই ব্যবহার করা ভালো।
হালের ফ্যাশনে গা না ভাসিয়ে নিজের পছন্দের সাথে মিলিয়ে সানগ্লাস কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন মাপেরই সানগ্লাস বাজারে আসুক না কেন, সেটা কেনার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নেবেন। সেটা আপনাকে মানাচ্ছে কি না! গোলগাল চেহারা হলে অবশ্যই আপনি সানগ্লাস গ্লাসটা যেন একটু লম্বাটে ধরনের হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আবার একটু লম্বাটে ধরনের মুখ হলে ডাম্বেল আকৃতি বা মুগুরাকৃতির সানগ্লাস বেশ ভালো মানাবে। খেয়াল রাখবেন, চোখের কোল ঢেকে যায় এমন সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
চোখের আলাদা করে সত্যিই তেমন একটা যত্ন নেওয়া হয় না। শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি কিন্তু সামান্য যত্নআত্তিতেই নিরাপদ রাখা যায়—
সাঁতার
সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার সময় জল-নিরোধক চশমা পরে নিন। এই বিশেষ চশমা পুলের পানি থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়। সুইমিংপুলের পানিতে ব্যবহূত হয় ক্লোরিন, যা চোখের জন্য সত্যিই ক্ষতিকর।
লবণ
অতিরিক্ত লবণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আর যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে, তাদের জন্য লবণ বিষ। চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয় লবণ। তাই লবণ খেতে হবে পরিমিত। অর্থাত্ তরকারির সঙ্গে যেটুকু লবণ থাকে সেটুকুই। বাড়তি লবণ একদম না।
হাঁটা
প্রাত্যহিক ব্যায়াম ও হাঁটায় চোখের ইন্ট্রাওকুলার প্রেসার কমে, যা গ্লুকোমা প্রতিরোধে সহায়ক। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব গ্লুকোমার রোগী সপ্তাহে অন্তত চার দিন ৪০ মিনিট করে হাঁটেন, তাদের ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমে যায় অনেকখানি।
বিশ্রাম
যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টানা পড়াশোনা করেন, তারা প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর চোখকে বিশ্রাম দিন। ৩০ মিনিট অন্তর মাত্র ৩০ সেকেন্ড বিশ্রামই চোখের জন্য যথেষ্ট।
মাছ
মাছে থাকে উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটা প্রমাণিত যে, ড্রাই আই সিনড্রোম প্রতিরোধে মাছ ভারী কার্যকর। প্রতিদিন মাছ খাওয়া খুবই ভালো। সেটা সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাছ খেতে হবে নিয়ম করে।
মডেল নওরীন ছবি তাহের মানিক