গরমে শিশুদের পোশাক

ঋতু বদলের সাথে সাথে শিশুর পরিচর্যাতেও আনতে হয় পরিবর্তন। আর শিশুদের পরিচর্যার অনেক বড় একটা অংশ হলো পোশাক। এ সময় নিজেদের ভালো তারা বুঝতে পারে না তাই এই ব্যাপারটা আমাদেরই দেখতে হবে। গরমে শিশুদের স্বস্তিকর পোশাকের কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত গরমে শিশুদের খাবারের পাশাপাশি পোশাকের বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন। এই গরমে সিনথেটিক পোশাক না পরানোই ভালো। এ কাপড় ঘাম শুষে নিতে পারে না এমনকি বাইরের বাতাসকেও শরীরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে প্রচুর ঘাম হয়। ঘাম জমে ঠাণ্ডা বসে যাওয়া এ সময় খুব সাধারণ ঘটনা। ঘামাচি দেখা দিলে ঘামাচি নিবারণ পাউডার ব্যবহার করতে হবে। তাতে ঘামাচি দূর হবে। শিশুদের শরীর ঘেমে গেলে গামছা বা নরম কাপড় দিয়ে মুছে দেবেন। জামা ঘামের কারণে বেশি ভিজে গেলে ওই জামা পাল্টে অন্য জামা পরিয়ে দেবেন। স্কুলের ড্রেস প্রতিদিন পরতে হয়, ঘামের গন্ধ এড়াতে এক দিন পরপরই ধুয়ে দেবেন। তাহলে ময়লা বা ঘাম সহজে জমতে পারবে না। ছোট হাতার ফ্রক বা নিমা পরাবেন। চুলগুলো ছোট রাখলেই ভালো হবে। গরমে শিশুদের ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরাবেন। পোশাকের ক্ষেত্রে রঙও একটি বড় ব্যাপার। কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় তাপ শুষে নেয়, তাই এ সময় হালকা রঙকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। দিন দিন গরমের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বড়দের তুলনায় ঘরের ছোট্ট সোনামণিদের জীবন-যাপনে ভোগান্তির মাত্রা যেন চরমে উঠেছে। তীব্র এ গরমে ছোট্ট সোনামণির গায়ের পোশাকটি কী হতে পারে, তা নিয়েও অনেক অভিভাবককে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আর যাই হোক, গরমে শিশুর শরীর ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তার জন্য আরামদায়ক পোশাক চাই। সেই সঙ্গে চাই পোশাকে বিশেষ কোনো বৈচিত্র্য। গরমে সুতির পোশাকই শিশুর জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। তবে তাপমাত্রা হঠাত্ বেড়ে যাওয়ায় খাটো হাতার পোশাকই এখন বেশি চলছে। আবার হাতাকাটা ফতুয়া, টি-শার্টেও গরমে স্বস্তি মিলছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, তীব্র এই গরমে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোতে চাপা সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা নীল, আকাশি, ধূসর, হলুদ, সবুজ ও লেবু রঙের কাপড়ের কালেকশন সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রয়েছে, কমলা ও উজ্জ্বল সবুজ রঙের সব কাপড়। মেয়ে শিশুদের পোশাকে নকশা ও কাটিংয়ে রয়েছে বিশেষ ভিন্নতা। গরমে এলাইন কাট, হাতাকাটা পোশাক ছাড়াও ঘটি হাতার ফ্রক ও টপসের কালেকশন বেড়েছে। নবজাতকের পোশাক গরমে নবজাতকের জন্য চাই আরেকটু বিশেষ যত্ন। কারণ গরম এলেই নবজাতকের শরীরে ঘামাচি ও ন্যাপির্যাশের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই এ থেকে বাঁচতে নবজাতকের শরীরে মাত্রাতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার না করে তাকে সবসময় শুষ্ক স্থানে এবং সুতি কাপড়ে রাখাটাই শ্রেয়। বাজারে নবজাতকের জন্য ফুল-পাতা প্রিন্টের বিভিন্ন সুতি কাপড় পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে হাতাকাটা ও ফিতাযুক্ত পোশাকের কদর সবচেয়ে বেশি। কাপড়ের মানের দিক দিয়ে এসব কাপড় শিশুর শরীরের ঘাম অতিমাত্রায় শোষণ করে নিতে সক্ষম। দরদাম দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোতে শিশুদের হালকা ডিজাইনের পোশাকের দাম পড়বে ২৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর বিভিন্ন মার্কেটের পোশাকগুলোর নকশাভেদে দাম পড়বে ১৫০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। আর নবজাতকের গরমের পোশাকের দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। তবে চাইলে আপনার সোনামণির জন্য গজ কাপড় কিনেও পোশাক তৈরি করে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে শিশুর পোশাক শরীরে যেন একটু ঢিলেঢালা হয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখুন। মডেল প্রার্থনা