সুস্বাস্থ্যের পরিমাপ

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। জীবনকে সফল ও উপভোগ্য করতে এবং সর্বোপরি কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পেতে আপনাকে ফিটনেস বজায় রাখতে হবে। আর শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মনও থাকে প্রফুল্ল। ফিটনেস নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ফিটনেস মূলত দুই রকম—শারীরিক ও মানসিক। যদিও ফিটনেস অনেক বড় একটা বিষয়, তবে এখানে শারীরিক ফিটনেসের একটি সাধারণ কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। তা হচ্ছে অতিরিক্ত মেদ ও ওজন কমানো। যারা সময়মতো এ দুটি বিষয়কে পাত্তা না দেন তাদেরকে পরবর্তীতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফিটনেস শুরু হয় শরীরের মধ্যাংশ থেকে অর্থাত্ পেটের অবস্থার উপর। আর এটা পরিমাপের উপায় হলো পেটের ব্যায়াম ‘প্লাঙ্ক’। ফলাফল  বেসিক প্লাঙ্ক ৬০ সেকেণ্ডের কম থাকতে পারলে ফিটনেস এভারেজের নিচে।  ৬০ সেকেন্ড থাকতে পারলে এভারেজ ফিটনেস।  পা একটা টেবিলের উপর তুলে দিয়ে ৬০ সেকেন্ড থাকতে পারলে ফিটনেস এভারেজের উপরে।  কনুই ভাঁজ না করে হাত টান করে ৬০ সেকেণ্ডের মতো থাকতে পারলে শরীর পুরো ফিট। বুকডনের সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এর পজিশন এবং মুভমেন্ট খুব সহজ বলে এটা বুকের পেশি বাড়াতে খুব জনপ্রিয় একটা ব্যায়াম। টান হয়ে শুয়ে পায়ের আঙুল ও হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে অবস্থান নিতে হবে। তারপর কনুই ভাঁজ করে বুক ফ্লোরের এক ইঞ্চি উপরে পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে এক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে হবে। এতে একটি বুকডন গণনা করা হয়। অনেকে কোমর আঁঁকাবাঁকা করে বুকডন দেন, সেটার কোনো দরকার নেই। ফলাফল  একবারে ১৫টির কম বুকডন মানে ফিটনেস এভারেজের নিচে।  ১৬ থেকে ২৯টি বুকডন মানে ফিটনেস এভারেজ।  ৩০-৪৪টি বুকডন মানে ফিটনেস এভারেজের উপরে।  ৪৫টির বেশি বুকডন মানে পুরো ফিট। হাত, বাহু, পিঠ, কাঁধসহ শরীরের পুরো উপরের পিছন ভাগের জন্য ‘চিনআপ’ অন্যতম প্রধান ব্যায়াম। ব্যায়ামটা দুইভাবে করা যায়, ১. হাতের তালু নিজের দিকে মুখ করে, ২. হাতের তালু নিজের বিপরীত দিকে মুখ করে। বারে যেকোনো একভাবে ঝুলে বুক তুলে বারের সংস্পর্শে আনতে হবে। ওখানে এক সেকেন্ডের মতো বিরতি দিয়ে আবার ধীরে ধীরে শরীর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। শরীর তুলে একবার উপরে এবং একবার নিচে নামানোতে একটি পুলআপ হবে। ফলাফল  ৩টির কম চিনআপ মানে ফিটনেস এভারেজের নিচে।  ৩ থেকে ৭টি মানে ফিটনেস এভারেজ।  ৮-১০টি মানে ফিটনেস এভারেজের উপরে।  ১০টির বেশি মানে ফিটনেস পুরো ফিট।