বারান্দার বৈচিত্র্যে

কোলাহলময় ঢাকায় একান্ত নিজের মতো করে সময় কাটানোর জায়গার খুব অভাব। এই অবস্থায় আপনি আপনার বারান্দাকে ভিন্নভাবে সাজিয়ে তুলুন, যেখানে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিতে পারেন আপনার অবসর সময়গুলো। যদি আপনি নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারেন তবে এই এক চিলতে বারান্দা হয়ে উঠতে পারে আপনার সময় কাটানোর প্রিয় স্থান। বারান্দার সাজসজ্জার মধ্যে প্রকাশ পায় আপনার সৃষ্টিকর্ম, রুচিবোধ ও ব্যক্তিত্ব। লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র গল্প, আড্ডা বা নিজের একান্ত সময় কাটাতে ঘরের মধ্যে একমাত্র আপন জায়গাটি হচ্ছে বারান্দা। এই কোলাহলময় শহরে প্রকৃতি থেকে একটু উষ্ণতা সংগ্রহে বারান্দাটাই হয় একমাত্র উত্স। তাই চাইলেই আপনার বারান্দাটাকে ভিন্নভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন, যেখানে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিতে পারেন আপনার অবসর সময়গুলো। একটু গুছিয়ে নিলে আপনার ছোট্ট বারান্দাটাই হতে পারে অবসরের প্রিয় জায়গা। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন, বারান্দায় বসার ব্যবস্থা করতে চাইলে প্রথমে বারান্দাটি খানিকটা উঁচু করে দিন। খেয়াল রাখুন বৃষ্টির পানি যেন গড়িয়ে বাইরে যেতে পারে। বারান্দা ছোট হলে কম উচ্চতার ডিভান, ছোট ছোট বেত বা বাঁশের মোড়া ও টুল দিয়ে বসার ব্যবস্থা করতে পারেন। অবসরে বই পড়ার জন্য একটা রকিং চেয়ারও রাখতে পারেন। বারান্দা বড় হলে ইচ্ছামতো সাজানোর সুযোগ থাকে। এখানে রাখতে পারেন ডিভান, রড আয়রন, বেত বা বাঁশের সোফা। বারান্দায় রাখা সোফা বা ডিভানে অ্যানামেল পেইন্ট করে নিন। এতে পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। বারান্দায় ময়লা হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি, তাই ছিমছাম ডিজাইনের ফার্নিচার বেছে নিন। সোফার কভার নিন গাঢ় একরঙা। তবে কুশনগুলো কালারফুল হলেই ভালো। সোফা ও কুশন কভারে একটু সিনথেটিক কাপড় দিন। এতে বেশি ধুলেও কভার নষ্ট হবে না। বারান্দার দেয়ালটা সাজাতে পারেন সুন্দর করে। রং করতে চাইলে একটু গাঢ় রঙের ডিস্টেম্পার করুন। ভিন্নতা চাইলে দেয়ালে টেরাকোটা লাগাতে পারেন। আবার প্লাস্টার না করে ইটগুলো শুধু বার্নিশ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ম্যানশন পলিশ করলে দেয়াল ম্যাট দেখাবে, আবার ক্লিয়ার বার্নিশের সঙ্গে রেড অক্সাইড মিশিয়ে দেয়ালে লাগালে চকচকে দেখাবে। অনেক সময় বারান্দার মাঝখানে কলাম থাকে। কলামটিকে সুন্দর করে সাজালে তা বারান্দার সৌন্দর্য বাড়াতে পারে অনেকখানি। কলাম সাজাতে ব্যবহার করুন রাস্টিক টাইলস, উডেন প্যানেল, ছোট ছোট আয়না কিংবা ঝোলানো শোপিস। বারান্দার ফ্লোরেও বসার ব্যবস্থা করতে পারেন। এজন্য বেছে নিন শতরঞ্জি, শীতল পাটি বা মাদুর। এর ওপর দিন বিভিন্ন আকৃতির রঙিন কিছু কুশন। গাছ ছাড়া বারান্দার সাজ পূর্ণতা পায় না। বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্লান্ট এবং ফুলের গাছ রাখুন বারান্দায়। বারান্দার সামনের অংশে ঝুলিয়ে দিতে পারেন ঝুলন্ত গাছ। খেয়াল রাখুন গাছের টবগুলো যেন দৃষ্টিনন্দন হয়। চাইলে অসুন্দর টবগুলো সুন্দর মাটির পটারিতে ভরে রাখতে পারেন। বারান্দার দেয়ালের রং নির্বাচন করার সময় খেয়াল রাখুন তা যেন হালকা ধরনের হয়। কারণ হালকা রং ব্যবহারে বারান্দায় এক ধরনের স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি হয়, যা আপনার ক্লান্তি দূর করতে এবং চোখের প্রশান্তি আনতে সহায়তা করবে। কম আলোর বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহারে সংকীর্ণ বারান্দা অনেক বেশি সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। রাতের বেলায় বারান্দায় স্নিগ্ধ লাইটগুলোর আলো-ছায়ার খেলায় পরিবেশ হয়ে উঠবে সম্পূর্ণ নান্দনিক ও ভিন্ন আঙ্গিকের। এটা যেমন দেখতে ভালো লাগবে তেমনি আপনার মনের ভেতরে আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করবে। বারান্দায় লাইট ও রঙের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করুন, এতে আপনার বারান্দায় অন্যরকম এক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।