বাংলাদেশ দলে সেই হিথ স্ট্রিক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৪, ২২:১৩
আজ টেস্ট ক্রিকেটে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ের দিকে তাকালে বিশ্বাস করা কঠিন যে, এই দলটি এক সময় বিশ্ব শাসন করার মতো অবস্থায় চলে গিয়েছিল। জিম্বাবুয়ের সেই সোনালী প্রজন্মের দলটা যাদের কল্যাণে হয়ে উঠেছিল ত্রাস, তাদেরই একজন ছিলেন হিথ স্ট্রিক। বলে গতির আগুন ঝরতো, বল নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ ক্ষমতার জন্য ছিলেন আলোচ্য।
এই জিম্বাবুয়ের সোনালী প্রজন্মের ফাস্ট বোলারকে এবার থেকে দেখা যাবে বাংলাদেশ দলে। না, মাঠে নেমে খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। ৪০ বছর পার করা এই সাবেক জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক অনুমিতভাবেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিশেষজ্ঞ পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।
প্রধান কোচ হিসেবে চান্দিকা হাতুসিংহের নাম ঘোষণার আগে থেকেই বাতাসে ভাসছিল স্ট্রিকের নাম। শোনা যাচ্ছিল, তিনি বা চামিন্দা ভাস হবেন বাংলাদেশের নতুন বোলিং কোচ। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই নিশ্চিত করলো স্ট্রিকের নাম। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস পরিষ্কার করলেন স্ট্রিকের ভূমিকাটা, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা কয়েকদিন ধরে বোলিং কোচ খুঁজছিলাম। জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার হিট স্ট্রিকের সাথে দুই বছরের জন্যে চুক্তি করেছি। তবে উনি শুধু জাতীয় দলের বোলিং কোচ হবেন না। উনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন। আমরা যেখানে যে জায়গায় চাবো সেখানেই উনি কাজ করবেন।’
বিসিবি নিজে যেমন এই হাই প্রোফাইল কোচকে নিয়োগ দিতে পেরে তৃপ্ত, তেমনই দারুণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্ট্রিক নিজেও। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিম্বাবুয়ের এই সাবেক কোচ ও অধিনায়ককে উদ্ধৃত করা হয়েছে এভাবে, ‘আমি টাইগারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি। বিসিবিকে ধন্যবাদ দেই এই সুযোগটা করে দেয়ার জন্য। আমার জন্য এই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটা সত্যিই রোমাঞ্চকর। আশা করি আমার অভিজ্ঞতাটা আমি বাংলাদেশি বোলারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে পারবো।’
বর্ণবাদী সমস্যায় জিম্বাবুয়ের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক ক্রিকেটার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এই হিথ স্ট্রিকের কাঁধে পড়েছিল জিম্বাবুয়ের অধিনায়কত্ব সামলানোর দায়িত্ব। এক দফা ফর্মহীনতার কারণে দায়িত্ব ছেড়ে ফিরে আসলেও রাজনীতির কাছে তাকেও মাথা নোয়াতে হয়েছিল। নানামুখী অসন্তোষ নিয়ে ছেড়েছিলেন জাতীয় দল। এর আগেই অবশ্য জিম্বাবুয়ের ইতিহাস গড়ে গেছেন। ৬৫ টেস্টে ২১৬ উইকেট এবং ১৮৯ ওয়ানডেতে ২৩৯ উইকেট নিয়েছেন। পাশাপাশি টেস্টে ১৯৯০ এবং ওয়ানডেতে ২৯৪৩ রান করে নিজেকে কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবেই উপস্থাপন করেছিলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষেও টি টেস্ট ও ১০টি ওয়ানডে খেলেছেন।
সেই স্ট্রিক বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবেন জুন মাসের শুরুতেই। টানা চাকরি করবেন না। তার সঙ্গে আসলে বিসিবির চুক্তিটা হয়েছে, দুই বছরে তিনি ৪৫০ দিন করে কাজ করবেন। যেটা বলছিলেন জালাল ইউনুস, ‘আশা করছি উনি ইন্ডিয়া সিরিজের আগেই আসবেন। জুনের প্রথম সপ্তাহে চলে আসবেন। প্রথম সপ্তাহে এসে দলের সাথে যোগ দিবেন। দুই বছরের জন্যে উনি কন্ট্রাকটেড হয়েছেন। দুই বছরের মধ্যে ৪৫০ দিন উনি আমাদের সাথে কাজ করবেন। ফলে মোটামুটি প্রতিটা সিরিজের সাথে উনি আমাদের সাথে থাকবেন।’
বিসিবি মনে করছে, বোলিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে দুই বছরে ৪৫০ দিন কাজ করাটা মোটামুটি জাতীয় দলের জন্য যথেষ্ট একটা ব্যাপার। সে জন্য তারা একটা পরিকল্পনাও করেছেন, ‘ইতোমধ্যে হিথ স্ট্রিককে ধারাবাহিক যে কর্মসূচি, এফটিফি আছে সেটা আমরা আগেই পাঠিয়ে দিয়ে ছিলাম। এরমধ্যে ৪৫০ দিন সে আমাদের সঙ্গে থাকবে। ৪৫০ দিনের বেশি আসলে আমাদের লাগছে না। এ ক’দিন কাজ করলে মনে হয় যথেষ্ট।’
এর আগে এরকম দিন হিসেব করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সাকলাইন মুশতাককে। তখন সমস্যা হল, সাকলাইন অন্যান্য বোর্ডের কাজেও ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এবার জালাল বললেন, ‘অন্য কোন বোর্ডের সঙ্গে কাজ করতে পারবে না। অন্য জায়গায় কাজ করতে হলে বিসিবির অনুমতি লাগবে। প্রতি সিরিজের আগে উনি তিন সপ্তাহে আগে চলে আসবেন।’