‘মিরাকল’ চাই দেশমের!
প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৪, ২২:১৫
ঘোর লাগানো চাহনি। চোখ দুটি দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময়ও তীব্র দৃষ্টিটা রাখলেন সুদূরে। তিনি জানেন স্বপ্ন সফল করতে হলে কি করতে হবে। সেই স্বপ্ন হল বিশ্বকাপ জয়। আর ব্রাজিলে সেটা হয়ে গেলেই ইতিহাসের পাতায় উঠে যাবেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও ব্রাজিলের মারিও জাগালোর পর তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে অধিনায়ক ও কোচ — দুই ভূমিকাতেই ট্রফি হাতে তুলবেন।
কিন্তু বিশ্বজয়ের প্রয়োজনীয় রসদ আছে তো? ২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার স্মৃতি আছে, আছে সাম্প্রতিক সময়ে বাছাইপর্বে নাকানি-চুবানি খাওয়ার ইতিহাস। ৪৫ বছর বয়সী দেশমও তাই বাস্তববাদী, ‘ব্রাজিলে আমি অনেক আশা নিয়ে যাচ্ছি। একই সাথে আমি বাস্তববাদী। কাগজে-কলমে আমাদের চেয়ে ভাল বেশ কয়েকটি দল আছে। তাই বিশ্বকাপ জয় নিয়ে আগাম কিছু বলতে পারছি না। জিতে গেলে সেটা হবে মিরাকল।’
‘ই’ গ্রুপের লড়াইয়ে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষরা হল: সুইজারল্যান্ড, হন্ডুরাস ও ইকুয়েডর। দেশমের ভাবনা আপাতত সেই তিনটি ম্যাচ নিয়েই, ‘আমরা সত্যকে অস্বীকার করতে পারবো না। গত ১২ বছরের মধ্যে ফ্রান্স গ্রুপ পর্যায়ে মাত্র একটা ম্যাচই জিতেছে। সেটা হল ২০০৬ সালে টোগোর বিপক্ষে।’
দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বকাপ বলে ফুটবল বোদ্ধাদের শিরোপা উঠতে যাচ্ছে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার হাতে। এখানে দেশমের মত অন্যরকম। ফেবারিটের তালিকায় তিনি উপরে রাখছেন স্পেনকে। তালিকায় আছে আরও কয়েকটি দল, ‘স্পেন শেষ বিশ্বকাপ ও দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ জিতেছে। এছাড়াও ফেবারিট হিসেবে আরও ছয়-সাতটা দল খেলবে। অবস্থাটা অনেকটা গতবছরের মতই - স্পেন, ব্রাজিল, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ড...’ ইংল্যান্ড? হ্যাঁ, দিদিয়ের দেশমের তালিকায় এরপরই আসছে ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম, ‘এরপর আমি রাখবো ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামকে।’
টুর্নামেন্ট না আসলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের একসাথে খুব একটা পাওয়া যায় না। আর এখন আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগ অনেক বেশি কমে গেছে বলে মনে করছেন দিদিয়ের দেশম, ‘নতুন প্রযুক্তি চলে আসায় খেলোয়াড়দের কোচিং করানোটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। অবসর সময়ে তারা একা থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। তারা কম কথা বলেন। তাদের সঙ্গ দেয়ার জন্য আছে নানা রকম অ্যাপস, ফোনে কথা বলেন, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে সময় কাটান।’
দিদিয়ের দেশমের কথায় পার্থক্যটা স্পষ্ট সামনে চলে আসলো, ‘এখন আমি কোন খেলোয়াড়দের একসাথে হয়ে তাস খেলতে দেখি না। আমাদের সময়ে আমরা একসাথে হয়ে তাস খেলতাম। তবে, আমাকে অবশ্যই নতুনত্বকে গ্রহণ করে নিতে হবে।’