শি ক্ষা য় প্র যু ক্তি
উন্নয়নশীল বিশ্বের সহায় মোবাইল ফোন
প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৪, ২১:৫৭
মোবাইলে বই পড়ার সুযোগ উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোর জন্য কতটা সহায়ক, তা নিয়ে সম্প্রতি বড় আকারের এক জরিপ পরিচালনা করে ইউনেস্কো। এই জরিপে তাদের সাথে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল ওয়ার্ল্ডরিডার এবং নকিয়া। জরিপ থেকে দেখা গেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল হতে পারে শিক্ষা বিস্তারের হাতিয়ার। উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোতে মোবাইলের মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের প্রসারের এই জরিপ নিয়ে জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ছে প্রযুক্তি। বিশেষ করে গত কয়েকবছরে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীরা বইয়ের বদলে বহন করছে ল্যাপটপ এবং এমনকি ট্যাবলেট পিসি। কিন্তু এসব হলো উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর কথা। উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোতে এমন চিত্র বাস্তবতার সাথে মেলে না। শুধু তাই নয়, এসব দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহারও মাত্র বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এসব দেশের বেশিরভাগ মানুষের হাতেই এখনও শোভা পাচ্ছে বেসিক বা ফিচার ফোন। কিন্তু এই ফিচার ফোনগুলোও এসব দেশে ব্যবহূত হতে পারে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের শিক্ষা বিস্তারে। পাঠ্যাভ্যাস ধরে রাখতে এসব ফিচার ফোনই হয়ে উঠতে পারে হাতিয়ার। এমনটিই জানিয়েছে ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক এক জরিপ। অলাভজনক সংস্থা ওয়ার্ল্ডরিডার এবং নকিয়ার সাথে যৌথ উদ্যোগে এই জরিপ পরিচালনা করে ইউনেস্কো।
ইউনেস্কোর এই জরিপ পরিচালনা করা হয় উন্নয়নশীল সাতটি দেশের ওপর। জরিপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষরা জানিয়েছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তারা পড়ালেখার কাজটি চালিয়ে যেতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া সাতটি দেশ হলো—ঘানা, ইথিওপিয়া, ভারত, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান এবং জিম্বাবুয়ে। এসব দেশে দেখা যায় বইয়ের সংকট রয়েছে। তবে মোবাইল ফোন এখন এসব দেশের মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। স্মার্টফোন না হলেও ফিচার ফোনের দেখা মেলে এসব দেশের সব মানুষের হাতেই। এসব ফিচার ফোনও এসব দেশের মানুষের পাঠ্যাভ্যাসের উপায় হতে পারে বলেই জানিয়েছে অংশগ্রহণকারী পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ।
এই জরিপের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মোবাইলে বই পড়া এসব দেশের জন্যও ভবিষ্যতের কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি এই সময়ের জন্যও বাস্তব। এসব দেশের মানুষের মোবাইলের ওয়ার্ল্ডরিডারের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চলছে। আর এই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ওয়ার্ল্ডরিডারের ডিজিটাল পাবলিশিং অ্যান্ড মোবাইল প্ল্যাটফর্মের ডিরেক্টর এলিজাবেথ হেনসিক উড বলেন, ‘বেসিক ফিচার ফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করে মাসে কয়েকশ ঘণ্টা সময় কেবল পড়ার পেছনেই ব্যয় করছে এসব দেশের মানুষ। এই তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এই তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে মোবাইল ব্যবহার করে পাঠ্যক্রম চালু করলে তা সাড়া ফেলবে। এই জরিপ পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ সকলের কাছেই জানতে চেয়েছি। এবং তাদের সকলের বক্তব্যই হলো তাদের কাছে ছাপা বইয়ের সংস্থান খুব বেশি নেই। মোবাইল ফোনে হাজার হাজার বইয়ের সন্ধান পেয়ে তারা খুব খুশি এবং এর ফলে তারা আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি পড়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং সেই সুযোগ কাজেও লাগাচ্ছে।’
এই জরিপে দেখা গেছে তুলনামূলকভাবে মেয়েরা মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পড়ছে বেশি। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পড়ার পরিমাণ প্রায় ছয় গুণ। আবার অভিভাবকরা মোবাইল থেকেই পড়ে শোনায় তাদের সন্তানদের। মোবাইলে পড়ার সুযোগ উপভোগও করছে মানুষ আর মোবাইলে পড়ার সুযোগ পড়ালেখা সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব দূর করতেও ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সাতশ কোটি মানুষের মধ্যে এখন ছয়শ কোটি মানুষের হাতেই রয়েছে মোবাইল ফোন। বলতে গেলে প্রতিটি মানুষই এখন মোবাইল ফোনের আওতায় রয়েছে। ফলে মোবাইলে পড়ালেখার সুযোগ উন্মুক্ত করলে তার সুফল ভোগ করবে সারা পৃথিবীর মানুষই। ইউনেস্কোর এই জরিপের প্রতিবেদন রচয়িতা মার্ক ওয়েস্ট বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করার জন্য মোবাইল পরিণত হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে। আর স্বাক্ষরতা মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে সবদিক থেকেই। এই জরিপ থেকে এটা স্পষ্ট যে মোবাইলকে স্বাক্ষরতার জন্য ব্যবহার করতে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই আগ্রহ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।’
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে স্বাক্ষরতার হার খুব কম, সেই দেশগুলোকে মোবাইল ডিভাইসে পড়ালেখার সুযোগ উন্মুক্ত করার পরামর্শই প্রদান করেছে ইউনেস্কা পরিচালিত এই জরিপ।