ল্যাপটপের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘সারফেস প্রো থ্রি’ ট্যাব
প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৪, ২১:৫৭
স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট পিসির মাঝামাঝি আকৃতির ফ্যাবলেট এখন যথেষ্টই জনপ্রিয়। আবার একটু বড় আকারের ট্যাবলেট পিসিকে এখন ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এই হাইব্রিড ডিভাইসের দিকে এবারে ঝুঁকেছে মাইক্রোসফট। তাদের সারফেস ট্যাবলেট পিসি বাজারে তেমন একটা সাড়া ফেলতে না পারলেও এবারে তারা সারফেস ট্যাবলেট পিসির নতুন সংস্করণ বাজারে আনতে যাচ্ছে, যাকে তারা মূলত ল্যাপটপের বাজারের দিকে নজর রেখেই নিয়ে আসছে।
‘সারফেস প্রো ৩’ মডেলের এই ট্যাবলেট পিসি একটি ল্যাপটপের সমান দক্ষতায় কাজ করতে সমর্থ হবে বলেই জানিয়েছে মাইক্রোসফট।
যা থাকছে সারফেস প্রো ৩তে
ল্যাপটপের সমান কর্মদক্ষতা রয়েছে নতুন সংস্করণের এই সারফেস ট্যাবলেট পিসিতে। আর তার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেলের কোরআই প্রসেসর। মডেলেভেদে ইন্টেল কোরআই৩ থেকে শুরু করে এতে ব্যবহূত হয়েছে সর্বোচ্চ কোরআই৭ প্রসেসর। ফলে কর্মদক্ষতায় একে পিছিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এর স্টোরেজকেও ট্যাবলেট পিসির প্রচলিত আকার থেকে অনেক বাড়ানো হয়েছে। এর স্টোরেজ শুরুই হয়েছে ৬৪ গিগাবাইট থেকে। এর কয়েকটি মডেলের মধ্যে রয়েছে ১২৮ গিগাবাইট, ২৫৬ গিগাবাইট এবং সর্বোচ্চ ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজ। এই স্টোরেজগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি) ধরনের। ফলে প্রচলিত হার্ডডিস্কের তুলনায় এই স্টোরেজ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। আর শুরুর মডেলেই র্যাম রয়েছে ৪ গিগাবাইট। প্রাথমিক কয়েকটি মডেলের পরেই এগুলোতে র্যাম রয়েছে ৮ গিগাবাইট করে।
ডিজাইন ও ফিচার
সারফেস প্রো ৩-এর আকার রয়েছে ৮ ইঞ্চি বাই ১১.৫ ইঞ্চি বাই ০.৩৬ ইঞ্চি। এর ওজন মাত্র ১.৭৫ পাউন্ড। ল্যাপটপের সব কাজ যাতে করা যায় সেজন্য এর সাথে রয়েছে বিশেষ ধরনের টাইপ কভার এবং সারফেস টাচ পেন। কভারসহ অবশ্য এর ওজন হবে ২.৪৪ পাউন্ড। তবে সেটা ছোট আকৃতির ল্যাপটপ বা নোটবুকগুলোর প্রায় সমান। সাধারণভাবে টাইপ কভারটি ছাড়া এটি সহজেই ট্যাবলেট পিসি হিসেবে ব্যবহূত হতে পারে। আর কভারটি লাগানোর পর এটি পুরোদস্তুর একটি ল্যাপটপ হিসেবেই কাজ করবে। তখন যেকোনো ওয়ার্কস্পেসেই এটি ল্যাপটপ হয়েই কাজ করবে। এর টাইপ কভারটি ল্যাপটপের পূর্ণাঙ্গ কিবোর্ড হিসেবে যেমন কাজ করবে, তেমনি এর টাচ পেন দিয়ে সরাসরিই বিভিন্ন কাজ করা যাবে ডিসপ্লেতে। এই পেন দিয়ে সহজেই লেখালেখির কাজ করা ছাড়াও দুইটি ভিন্ন ভিন্ন মোডে এটি দিয়ে লেখা যেমন মুছে ফেলা যায়, তেমনি লেখাগুলো সিলেক্ট করেও সম্পদনা করা যায়। মাইক্রোসফটের ওয়াননোট ছাড়াও মাইক্রোসফট অফিস, স্কাইপ, ফ্রেশ পেইন্টের মতো অ্যাপ্লিকেশনেও এটি কাজ করে।
ডিসপ্লে ও সংযোগ
সারফেস প্রো ৩তে ব্যবহার করা হয়েছে গরিলা গ্লাস। এর রেজ্যুলেশনও আগের তুলনায় বেশ উন্নত করা হয়েছে। বর্তমান সংস্করণের ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন ২১৬০ বাই ১৪৪০। ফলে এইচডি ভিডিও দেখতে এতে কোনো সমস্যাই হবে না। প্রফেশনাল গ্রাফিক্সের কাজ কিংবা এইচডি গেমিংয়ের জন্যও এটি আদর্শ হিসেবে কাজ করবে। এর রেয়ার ফেসিং ক্যামেরাটি ৫ মেগাপিক্সেলের, যার মাধ্যমে ১০৮০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা যায়। প্রফেশনাল কাজ করতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য এতে নানা ধরনের সংযোগ সুবিধাই রয়েছে। রয়েছে ইউএসবি ৩.০, মিনি ডিসপ্লে পোর্ট, হেডসেট জ্যাক এবং মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট।
ইতোমধ্যেই সারফেসের নতুন এই সংস্করণের প্রি-অর্ডার উন্মুক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বাজারের জন্য। আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকেই এটি পৌঁছে যাবে গ্রাহকদের হাতে। প্রফেশনাল কাজের জন্য ডিজাইন করা এই সারফেসগুলোর দামও রাখা হয়েছে উঁচুর দিকেই। ৮০০ ডলার থেকে শুরু হয়েছে সারফেস প্রো ৩’র সর্বোচ্চ কনফিগারেশনের দাম রাখা হয়েছে ১৯৫০ ডলার।
মোজাহেদুল ইসলাম