ঐতিহ্যের ধারক অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ

রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি এর অধ্যক্ষ ড. শহীদুল ইসলাম বিশ্বাসের সঙ্গে বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয় । তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি ফলাফলের দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে সেটা কাটিয়ে উঠার জন্য আমরা কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। অভিভাবক সমাবেশ, ক্রমাগত তদারকি, ভালো শিক্ষক নিয়োগ, লাইব্রেরি সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণি কক্ষ এবং ওয়াইফাই সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে ফল ভালো হবে বলে প্রত্যাশা করছি। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লালবাগের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দেশসেরা করার সকল উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি। এটার জন্য সবার আন্তরিক সহায়তা দরকার। জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৪ সালে এসএসসিতে অংশগ্রহণ করে ৩৬৭ জন ছাত্রী। পাসের হার ৯৮.৬৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৬৬ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৯৩ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৩ জন ছাত্রী। মানবিক বিভাগ থেকে ৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭ জন পাস করেছেন। ২০১৩ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৯২ জন ছাত্রী। পাসের হার ৯৭.৯৪ শতাংশ। ২০১২ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩২৫ জন ছাত্রী। পাসের হার ৯৯.৬৯ শতাংশ। ২০১১ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৭৫ জন ছাত্রী। পাসের হার ৯৯.৬৪ শতাংশ। এবছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া নাতাশা এবং সুমাইয়া বলেন, শিক্ষকরা আমাদের যত্ন নিয়ে পড়ান। তাদের সহায়তা আর আমাদের পরিশ্রমের ফসল ভালো ফল। জিপিএ-৫ পাওয়া মুনিরা, সানজিদা ও ফাতিমা বলেন, মা-বাবার উত্সাহ আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমরা ভালো করেছি। সামনের সব পাবলিক পরীক্ষায় আরো ভালো করতে চাই। প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রশংসার দাবি রাখে। গার্লস গাইড, সেমিনার, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, গানের অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হয়। এছাড়া কানেক্টিং ক্লাব এবং কম্পিউটার ক্লাব রয়েছে। জানা যায়, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর জাপান, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ নানা দেশে ছাত্রী এবং শিক্ষকদের একটি দল স্কুল ভ্রমণে যান। তাদের এই ভ্রমণের লক্ষ্য বৈশ্বিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা নেয়া। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘কানেকটিং ক্লাসেস প্রোগ্রামে’র আওতায় তাদের এই যাওয়া। এছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস ফর সেইফার স্কুল’ প্রজেক্টে সবার সেরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গতবছর ৯ ছাত্রী এবং দুই শিক্ষকের একটি প্রতিনিধি দল নেপালে গেছেন প্রশিক্ষণ নিতে। ১৯৫৭ সালের ২১ জানুয়ারি। ১৪ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু আজিমপুর কিন্ডার গার্টেন স্কুল নামে। পরে এটি হয় প্রাইমারি ও জুনিয়র স্কুল। যুগের প্রয়োজনে স্কুলের কাঠামো বদলে যায়। মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী পড়ানো শুরু হয়। ১৯৬৬ সালে ফের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়। ১৯৯৪ সালের ১ জুলাই। প্রতিষ্ঠানটির আরেক মাইলফলক। চালু হয় কলেজ শাখা। এবার নামকরণ হয় অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ।