শিক্ষাব্যবস্থার সব খাতে মান বাড়ানো প্রয়োজন
প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৪, ২২:২২
বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় এত এত কঠিন কঠিন পড়াশোনা করেও বিদেশিদের থেকে আমরা পিছিয়ে কেন? আমার মনে হয় নিচের সমস্যাটা এজন্য অনেকাংশে দায়ী।
নির্মলেন্দু গুণ ১৯৬৪ সালে এইচএসসিতে বোর্ড বৃত্তি পেয়েছিলেন। সেজন্য তিনি সরকার থেকে মাসে পেতেন ৪৫ টাকা আর বছর শেষে বই কেনা বাবদ পেতেন ২৫০ টাকা। তখন সোনার ভরি ছিল ১০০-১২০ টাকা করে। (তথ্য সূত্র:আমার কণ্ঠস্বর, লেখক-নির্মলেন্দু গুণ)
এবারে ২০১৪ সালের গল্পটা শুনুন। এইচএসসিতে দিনাজপুর বোর্ডে আমি সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাই। সাধারণ গ্রেডে আমার বোর্ডে অবস্থান ছিল ২২তম। বোর্ড বৃত্তি হিসাবে সরকার থেকে পাই বছরে সাড়ে তিন হাজার টাকা। কোনো বই কেনার টাকা নেই। এখন সোনার ভরির দাম প্রায় ৬০ হাজার টাকা!
১৯৬৪ থেকে ২০১৪, সময়টা বেশ দীর্ঘ। আর এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের দেশে সোনার ভরি হয়েছে ১২০ টাকা থেকে ৬০ হাজার আর পড়াশোনা করে বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রের দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা!
যে দেশে শিক্ষা খাতের চেয়ে অন্য কোনো খাতে বাজেট বেশি থাকে সেখানে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করাও বোকামি! উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষকের মর্যাদা সবার ওপরে। রাস্তাঘাটে, চলতে ফিরতে, বেতনভাতায় সব মিলিয়ে তারা বেশ মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করেন। আর আমাদের দেশে শিক্ষকেরা অনেক সময় পায়ে হেঁটে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করেন যাতে রিকশাভাড়াটা বাঁচানো যায়। রিকশাভাড়া বাঁচিয়ে মাস শেষে টেনেটুনে সংসার চালান। শিক্ষকদের সামাজিক অবস্থানও অনেক নিচে। উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকেরা এখানে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা।
আমরা শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের পর পরিবর্তন আনি। একমুখী শিক্ষা, বহুমুখী শিক্ষা, সৃজনশীল শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা... কত শিক্ষা! অথচ সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো শিক্ষাঙ্গনের সব খাতের মান উন্নত করা, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় করা, শিক্ষাঙ্গনকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত রাখা। এগুলো নিয়ে আমাদের নেতা-নেত্রীরা কিছু ভাবেন বলে তো মনে হয় না। তাঁদের চাওয়া হচ্ছে সরকারি টাকায় বিদেশ সফরের নিশ্চয়তা, ফ্রি বাড়ি, শুল্ক মুক্ত গাড়ি... এগুলো নিশ্চিত করা।
এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন পেছনে না গিয়ে কি সামনে যাবে?
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়