বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৪, ২২:৪৪
বাংলাদেশ-ভারত
সম্পর্ক এবং
বর্তমান প্রত্যাশা
ভারতের সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের ভরাডুবি ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি’র একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ শুধু ভারতীয় সংখ্যালঘুদের নয় বাংলাদেশকেও ভাবিয়ে তোলার মত বিষয় এনে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ বিরোধী কঠোর মনোভাবের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ তো সবারই জানা হয়ে গেছে। তারই রেশ ধরে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিজেপি সরকারের সম্পর্কের কতটুকু উন্নতি হবে এ ব্যাপারে সবাই সন্দিহান। তবে আশার কথা হলো, পূর্বে যখন বাজপেয়ী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ছিল। তাদের সাথে বর্তমান সরকারের সুসম্পর্ক ছিল। সে সূত্র ধরে মোদী সরকারও যে এখন প্রতিবেশি দেশ হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করবে না তা কিন্তু নয়। আশা করি, আমাদের সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ভারতের সাথে বৈদেশিক নীতিতে কৌশলী হতে যত্নবান হবেন।
নীলা দাস
১ম বর্ষ (২য় সেমিস্টার)
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
==
ঢাকা-দিল্লি
সম্পর্কে ভাটা
পড়তে পারে
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে স্বভাবতই ভারতের ক্ষমতার পালাবদলের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের সাথে বিজেপি ঠিক কি ধরনের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবে তা বুঝতে হলে আমাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিস্তা চুক্তি, ছিটমহল সমস্যা, সীমান্ত হত্যার মত স্পর্শকাতর দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা হতাশাবাদী নই, আমরা আশাবাদীর দলে। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ রাখতে সরকারকে অত্যন্ত ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও কৌশলের সহিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর তবেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যোগ হবে নতুন মাত্রা।
মো. মাসফিকুর রহমান বায়েজীদ বি,এস,এস (অনার্স) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।
===
বিজেপি’র জয়ে
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কোনো
নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না
বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর নিরঙ্কুশ বিজয় সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে, সেই সাথে এটা ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে বিস্ময়ও বটে। যদিও প্রথমদিকে মোদীর বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য ছিল এবং এর প্রেক্ষিতেই রাজনীতিক বিশ্লেষক, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের ধারণা ছিল বিজেপি জয়ী হলে বাংলাদেশের জন্য তা হবে নেতিবাচক। তবে সব চিন্তার অবসান ঘটিয়ে মোদী তার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে নমনীয় হয়েছেন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত-বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে হবে, গণতান্ত্রিক ভাবধারা বজায় রাখতে হবে, অপরদিকে নরেন্দ্র মোদীও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে উভয়ের সম্পর্ক জোরদার করবে—এই প্রত্যাশাই আমাদের।
রাজীব রাজ
সম্মান ৩য় বর্ষ
ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা
ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র
===
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
কেমন হবে তা
সময়ই বলে দেবে
মোদীর বিজেপি যে যাদু দেখিয়েছে তা সত্যিই গোটা বিশ্বকে অবাক করেছে। বিচক্ষণ এই ব্যক্তিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ের পিছনে তার জনপ্রিয়তা ও কৌশল যেমন কাজ করেছে, ঠিক তেমনি কংগ্রেসের দুর্নীতি আর দুর্বলতা তাকে দিয়েছে পূর্ণ সুযোগ গ্রহণের ক্ষমতা।
সবকিছু বিবেচনায় মনে হয়েছে মোদী একজন রক্ষণশীল মানুষ। তিনি তার নির্বাচনী ইসতেহারে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, সে হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক আরো ভালো হওয়ারই কথা। আর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক সবসময় অধিক গুরুত্ব বহন করে বিশেষত অফিসিয়াল ও বাণিজ্যিক কাজের জন্য। তাই এর জন্য এখন থেকেই সরকারের যথাযথ কূটনৈতিক তত্পরতা চালানো উচিত। আমরা সকলেই আশা করছি, এবার তিস্তাসহ সকল সমস্যা সমাধান খুব শিঘ্রই হবে।
মোহাম্মদ মজিবর রহমান মুহিত
এমবিএ শিক্ষার্থী।
হাজী মোহাম্মদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।
===
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
আগের চেয়ে
ভাল হবে
আমার মনে হয়, নরেন্দ্র মোদী আগের সরকারের মত একচেটিয়া নির্দিষ্ট কোনো দলের সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে না। তিনি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ চিন্তা করেই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবেন। তাছাড়া তার দলের দীর্ঘমেয়াদী উদ্দেশ্যও মাথায় রাখবেন। যেহেতু বিজেপি সরাসরি ধর্মীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসী একটি দল, সেহেতু সম্পর্ক উন্নয়নে ধর্মীয় স্বার্থ বজায় রাখবেন। হয়তো এমন কিছু করতে চাইবেন না যাতে দীর্ঘমেয়াদে ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের বর্তমান অসামপ্রদায়িক সরকারের উচিত হবে যেভাবেই হোক বিজেপি’র সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ হাসিল করা।
মো. আল-আমিন ভুঁইয়া
১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।