ফিক্সিং :সুরাহার দিকে চেয়ে বিসিবি

প্রায় ১৬ মাস আগে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসর। কিন্তু আজ অবদি সেই আসরের ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ব্যাপারে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কিছু হয়নি। দীর্ঘ সময় পর আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু) রিপোর্ট দিয়েছে। তারপরও দীর্ঘ সময় পর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রাথমিক রায় পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত রায় এখনো না আসায় বোঝাই যাচ্ছে না মোহাম্মদ আশরাফুলসহ ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় দোষীদের শাস্তিটা কী হল। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও বললেন, তারা চূড়ান্ত রায় পাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষা করছেন। এমনকি আইসিসিও এটা জানার জন্য বারবার তাগিদ দিচ্ছে। এ মাসের মধ্যে কিছু জানতে না পারলে তারা ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে চিঠি দেবেন বলেও বললেন পাপন, ‘বিপিএলের ব্যাপারটা নিয়ে আমিও চিন্তিত, গত বোর্ড মিটিংয়ে আইসিসিও জিজ্ঞেস করেছিল দেরির কারণ। প্রায় ১৫/২০ দিন আগে আমি যখন জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা বলেছিল দুই থেকে তিন সপ্তাহ লাগবে। আমার ধারণা ছিল এ মাসের মধ্যেই হয়ে যাবে। আমি এ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেখবো; এরপর চিঠি দেব।’ আলোচনা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আশরাফুলের কথা এলো। আশরাফুলের শাস্তি কমানোর সুপারিশ আছে কি না—এ প্রসঙ্গে পাপন বললেন, ‘এটা আমাদের বিবেচনা করার কিছু নেই। আমরা তো রায়ের কপি পাইনি। আইসিসি বরং জিজ্ঞেস করেছিল, আমি বলতে পারিনি। তারা জানতে চাচ্ছে একজন স্বীকার করেছে, সে টাকা নিয়েছে, তাহলে যে টাকা দিয়েছে, তার কী হল? তাদের কথা, একজনের শাস্তি হবে আরেকজনের হবে না, এটা কেমন কথা।’ বিপিএলের চেয়ে অবশ্য পাপনকে বেশি কথা বলতে হল কোচিং স্টাফ নিয়ে। তিনি বলছেন, ইতিমধ্যে প্রধান কোচ, ট্রেনার ও বোলিং কোচ ঠিক হয়ে যাওয়ায় এখন তারা ফিল্ডিং কোচ, স্পিন কোচ ও ব্যাটিং কোচের সন্ধানে আছেন, ‘আমরা হেড কোচ পেয়েছি, তাছাড়া ট্রেনার নিয়েছি। আমাদের বোলিং কোচ ঠিক হয়ে গেছে। এখন আমরা কথা বলছি ফিল্ডিং কোচ নিয়ে। এছাড়া দুজন স্পেশালিস্ট কোচ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি—স্পিন কোচ ও ব্যাটিং কোচ। এটা একটু সময় লাগবে।’ এছাড়া অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ নিয়ে খেলোয়াড়দের ফোকাসে রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনাও করছেন সভাপতি, ‘আমরা খেলোয়াড়দের কথা শুনবো। সবচে বর কথা; এখন তো ওরা নতুন একটা ম্যানেজমেন্টের সাথে যাবে। খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে আমরা কোচিং স্টাফদের জানাবো। কিছু টার্গেট ঠিক করা হবে, সে অনুযায়ী মূল্যায়নও করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে এবারের বিশ্বকাপ যে কন্ডিশনে সেখানে উপমহাদেশের কোনো খেলোয়াড়ই খুব একটা সুবিধা করতে পারে না।’