ষোল কর্মকর্তাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন
প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৪, ২২:৩৪
প্রাইম ব্যাংকে ৯৫ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির শীর্ষ ১৬ কর্মকর্তাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া ঐ চার্জশিটে ব্যাংকটির আরো ১৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এই চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর দিলকুশায় প্রাইম ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাসহ বেশ কয়েকটি শাখা থেকে বিভিন্ন হিসাবের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া ঋণগ্রাহক দেখিয়ে ঐ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ বছরে প্রাইম ব্যাংকের দিলকুশা শাখার প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ অফিসার কামরুল আহমেদ ফেরদৌস ব্যাংকটির আইটি সিস্টেম, নিজের পাসওয়ার্ড এবং ঐ শাখার সংশ্লিষ্ট অপর কর্মকর্তার পাসওয়ার্ড কৌশলে ব্যবহার করেন। বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় বিভিন্ন ভুয়া ঋণগ্রাহক দেখিয়ে ৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ৯০৩ টাকা তুলে আত্মসাত করেন। প্রাথমিকভাবে ৪৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় ২০১২ সালের ২৯ মার্চ প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইফতেখার হোসেন বাদী হয়ে ব্যাংকের ঐ শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ ফেরদৌসকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলাটিতে দুদকের তফসিলভুক্ত এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ থাকায় পরে মতিঝিল থানা পুলিশ তদন্তের জন্য মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে দুদকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মামলাটির তদন্ত শেষ করেন। তদন্তে ৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ৯০৩ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে ৩৮ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। যার মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের ১৬ জন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ২২ জন। এর ধারাবাহিকতায় কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়। অনুমোদন হওয়া দুদকের চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে ব্যাংকটির ১৬ কর্মকর্তারা হলেন— প্রাইম ব্যাংকের দিলকুশা শাখার প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ অফিসার কামরুল আহমেদ ফেরদৌস, আইবিবি দিলকুশা শাখার প্রাক্তন ম্যানেজার ইজবাহুল বার চৌধুরী, অফিসার এফ এম আশফাকুর রহমান, সিনিয়র অফিসার আবু ওয়াহেদ মো. আমিনুল ইসলাম, জুনিয়র অফিসার মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম মানিক, প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, প্রধান কার্যালয়ের বরখাস্তকৃত ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এম জাকির হোসাইন, ফার্স্ট অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বালী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন, মো. কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া, মিরান হোসেন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, এস এম এ মজিদ আনছারী, সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ নূরুল আমিন ও প্রাক্তন ট্রেইনি অ্যাসিসট্যান্ট মুহাম্মদ শামসুল আলম।
এছাড়া অন্য ২২ জন হলেন— নিউ এস কে এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজেদুর রহমান, কে এস এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শাহাদাত ইসলাম, এস কে এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহমুদুল ইসলাম, এস এল এন্টারপ্রাইজের মালিক কাউছার আলী খান, ত্রি-টেক ৬৯ প্রতিষ্ঠানের মালিক তাসনিম আলম, ব্রাঞ্চ সলুশনের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম, লুলু কর্নারের মালিক জাকির হোসেন, ইলহাম এন্টারপ্রাইজের মালিক তাসমিন শারমীন, চন্দ্রঘোনা শেরপুরের বাসিন্দা রুহুল আমীন সিদ্দিকী, ফিরোজ ট্রেডার্সের মালিক মো. ফিরোজ আলম, নাজমুন নাহার, মিরপুরের বাসিন্দা রাজিয়া জান্নাতী ডালিয়া, কামরুন নাহার, মিসেস রত্না মাহবুব, মকবুল হোসেন খান, ইউরো এক্সপ্রেসের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন, ইজরা এশিয়া ট্রেড অ্যান্ড প্যাক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এনায়েত উল্লাহ ইকবাল, পরিচালক এম এরশাদ উল্লাহ আকমল, মিরপুর-১ এর বাসিন্দা মিসেস ফাহানা আক্তার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কৃষিবিদ আবুল হাসেম ও সাব ভেলি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব-ই-এলাহী। এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের যে ১৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির জন্য সুপারিশ করেছে কমিশন।