‘ব্রাজিলিয়ান’ ডেভর সুকার
প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৪, ২২:৫৯
১২ জুন, ২০১৪। অ্যারেনা ডি সাও পাওলো। ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ দিয়ে শুরু হল অনেক অপেক্ষার বিশ্বকাপ। সুন্দর ফুটবলের দেশে পর্দা উঠলো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উত্সবের। সেদিন কি একবারও একটি মুহূর্তের জন্য হলেও চোখ ছলছল করবে না এডোয়ার্ডো ডা সিলভার? কোন জাতীয় সংগীত গাইবেন তিনি? তার যে দুটোই জানা!
আর দশটা ব্রাজিলিয়ান বালকের মতই শুরু হয় এডোয়ার্ডোর ফুটবল জীবন। রিও ডি জেনিরোর ভিলা কেনেডির রাস্তায় ফুটবল খেলে বেড়াতেন। দেশটিতে জন্ম নেয়া হাজারো শিশুর মত স্বপ্ন দেখতেন একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্রাজিলের হয়ে ফুটবল খেলবেন। এডোয়ার্ডোর স্বপ্ন যে পুরোটা পূর্ণ হয়নি, আন্তর্জাতিক ফুটবল তিনি খেলছেন বটে, তবে সেটা ক্রোয়েশিয়ার হয়ে।
জাতীয় দলের হয়ে খেলার অনুভূতিটা কেমন? এডোয়ার্ডোর ভাষায়, ‘দেখুন আমি একজন ব্রাজিলিয়ান আর সব সময় তাই থাকবো। কিন্তু ক্রোয়েশিয়াকে আমি অনেক ভালবাসি। আমার সমর্থক, আমার সতীর্থরা আমার নিজের লোক। আমার শরীরে ব্রাজিলিয়ান রক্ত, কিন্তু হূদয়টা ক্রোয়েশিয়ান। ইশ... যদি দুটো দেশের জাতীয় সংগীতেই গলা মেলাতে পারতাম।’
ডেভর সুকারের কথা মনে আছে? ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মত বিশ্ব মঞ্চে সুযোগ পাওয়া ক্রোয়েশিয়ার বড় তারকা; একাই সাত গোল করে দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া, গোল্ডেন বুট, সিলভার বল — এমন অনেক অর্জন শেষে ফ্রান্স থেকে বিজয়ীর বেশে ফিরলেন।
বিশ্বকাপ থেকে ক্রোয়েশিয়ার প্রাপ্তি বলতে ওইটুকুই। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকায় তো বাছাইপর্বই পার করা হয়নি। এবার আবারও ব্রাজিলে আসছে ক্রোয়েশিয়া। কে হবেন এবারের ডেভর সুকার? বর্তমান বোর্ড সভাপতি ডেভর সুকার ৪৫টি আন্তর্জাতিক গোল করে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা ফুটবলার। ২৪ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এডোয়ার্ডো ডা সিলভা হয়ে পেয়ে যেতে পারেন সেই সেরার মুকুট।
একটু উনিশ-বিশ হলে হয়তো ব্রাজিলিয়ান জার্সিই থাকতো তার শরীরে। হয়তো নেইমারের পাশে মাতিয়ে দিতেন মারাকানা স্টেডিয়াম। কিন্তু ভাগ্যের দোষে আজ সেই হলুদ-সবুজ-নীল জার্সিতে কোন অধিকার নেই তার। পেলে-রোনালদো নন ডেভর সুকার হয়ে ওঠাই তার ধ্যান-জ্ঞান। ৩১ বছর বয়সী এডোয়ার্ডোর এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। আর কাকতালীয় ভাবে সেটা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রাজিলে। ডায়নামো জাগরেব ও আর্সেনালের সাবেক এই স্ট্রাইকারের দল ক্রোয়েশিয়া গত বিশ্বকাপে সুযোগই পায়নি। এর আগে ২০০৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের সময়ও ছিলেন ইনজুরিতে। তাই ২০১২ সালের ইউরো না খেললে এই বিশ্বকাপই হয়ে যেত তার ক্যারিয়ারের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট।
তবে, ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেস্কের এই তারকা বিশ্বকাপে আক্ষরিক অর্থেই ক্রোয়েশিয়ার জন্য ডেভর সুকার হয়ে উঠতে পারেন। আর ব্রায়ার্নের মারিও মানজুকিচের অনুপস্থিতিতে দলটির সবচেয়ে বড় তারকাদের একজনই তিনি। বিশ্বকাপে বিশ্বকে চমকে দেয়ার প্রস্তুতিই নিচ্ছেন এডোয়ার্ডো, ‘আমি দলের সাথে অনেক দিন ধরে আছি। এখন আমার সব চিন্তা বিশ্বকাপকে ঘিরে। এই সময়টির জন্য আমি অপেক্ষা করেছি সেই শিশুকাল থেকে। সেটাই এখন বর্তমান। আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত।’
শরীরে ব্রাজিলিয়ান রক্ত আর পায়ে ইউরোপিয়ান পাওয়ার ফুটবল — দুয়ের মিশেলে নিজের জন্মভূমিতে শত্রু হয়ে উঠতে পারেন ভিনদেশী জার্সি গায়ে। ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করতেও কি পা কাঁপবে না এডোয়ার্ডোর!