৭ দিনের সাত জানা
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৪, ১৯:৫৫
পাখি যেভাবে আকাশে উড়ে
পাখির এমন কতগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে যার কারণে এরা অন্যান্য প্রাণীর থেকে আলাদা। ফাঁপা হাড় থাকার কারণে এরা অতি সহজে ভেসে থাকতে পারে। পাখির পালকগুলো খুব হালকা কিন্তু দৃঢ়। এগুলো নমনীয় এবং স্থিতিস্থাপক। পাখিদের পালক বিন্যাস উড়ার সময় এদেরকে হাল্কা রাখতে সহায়তা করে। পালক কেরাটিন নামক পদার্থ দ্বারা তৈরি। এই কাঁটাগুলোর মধ্যে মধ্যে প্রচুর বাতাস থাকে। উড়বার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অনেক। উড়ার সময় ভারসাম্য রক্ষা করে, উড়ার দিক নির্দেশনা দেয়, উপর থেকে নিচের দিকে নামতে সহায়তা করে। ডানা দিয়ে পাখি বাতাসকে পিছনের দিকে আঘাত করে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যায়। পাখি ডানাকে নিচের দিকে নেয় বাতাসও তখন উল্টা দিকে বাধা প্রদান করে যার ফলে উপরের দিকে উঠে যায় এবং উড়তে থাকে।
অশ্রু আসে কোথা থেকে?
আমাদের শরীরে উত্পাদিত রাসায়নিক পদার্থ এবং হরমোনের কারণেই চোখে পানি আসে। আমাদের মস্তিষ্ক ও দেহ এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং হরমোন উত্পাদন করে। অশ্রুর প্রধান উপাদান হলো—লবণ, প্রোটিন এবং লাইসোজাইম নামক একধরনের এনজাইম, যেটি একসাথে চোখের পুষ্টি প্রদান এবং চোখের প্রতিরক্ষার কাজ করে। আসলে চোখকে সুস্থ রাখার জন্যই অশ্রুর প্রয়োজন।
কুকুর চেহারা দেখেই মানুষ চিনে
সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, কুকুর মনিবের চেহারা দেখেই তাকে চিনে থাকে। ‘অ্যানিমেল বিহাবিয়ার’ নামের বিবরণীতে গবেষকদের দল বলেছেন, একটি কুকুর তার প্রিয় মানব বন্ধুর মুখ ঢাকা থাকলে তাকে চিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। এ গবেষণায় মূলত হাজার বছর ধরে গৃহ পালন প্রাণীদের আচরণ কীভাবে প্রভাবিত করছে তা উঠে এসেছে। দুজন লোকের মধ্যে কুকুর তার পরিচিত মনিবের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে এবং তাকে অনুসরণ করে।
বৃত্ত পথে পিঁপড়ার মৃত্যু
একটি পিঁপড়া তার সামনের পিঁপড়াকে অনুসরণ করে চলে। পিঁপড়াদের সুনির্দিষ্ট পথ আছে এবং তারা সেই পথেই চলতে থাকে, সেটা যদি ঘুরে যেতে হয় তবুও তারা সামনের জনের অনুসরণ করে। সৈনিক পিঁপড়ার মধ্যে এক জটিল বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। প্রত্যেকে তার আগের জনকে অনুসরণ করতে গিয়ে তারা বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকে এবং ক্লান্তি এসে যায় তবুও পথ চলা বন্ধ করে না। বৃত্ত পথে ঘুরতে ঘুরতে হাজার হাজার পিঁপড়া মারা যায়।
চিতা কীভাবে দ্রুত দৌড়ায়?
একটি ‘ফেরারি এনজো’ সেকেন্ডে প্রায় ৮ মিটার গতি তুলতে পারে। আর একটি চিতা তুলতে পারে সেকেন্ডে প্রায় ১০ মিটার। প্রথম তিন লাফে এর গতি উঠে যায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি! এর বিশেষভাবে তৈরি দেহ নিয়ে এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ১১২ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম। স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে চিতা সবচেয়ে বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন। চিতা সাধারণত দৈর্ঘ্যে ৪ ফিট এবং উচ্চতায় ৩ ফিট হয়। এর লম্বা লেজটি দ্রুত দৌড়ানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর দেহের আকৃতি ‘অ্যারোডায়নামিক’, অর্থাত্ ছোটার সময় এটিকে খুব একটা বাতাসের বাধায় পড়তে হয় না। এর বড় আকৃতির ফুসফুস বেশি বাতাস ধারণ করতে পারে যা দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
জোনাকি পোকার আলো
কখনও ভেবে দেখেছেন—জোনাকির স্বয়ংপ্রভ নীলাভ-সবুজ দ্যুতির সত্যিকারের রহস্য কী? জোনাকির তলপেটের শেষের দিকে আলাদা একটি উপাঙ্গ আছে, যেখান থেকে এই আলোর উত্পত্তি হয়। এই প্রত্যঙ্গ হতে লুসিফেরিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয়, যা জোনাকির শ্বাসনালী দ্বারা গৃহীত অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়। স্ত্রী প্রজাতির জোনাকিরা এই আলো দিয়ে পুরুষ জোনাকিকে আকর্ষণ করে। যেমন, আমেরিকায় এক প্রকারের জোনাকি আছে, যাদের পুরুষ প্রজাতি পাঁচ সেকেন্ড অন্তর জ্বলে উঠে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় অপেক্ষমান স্ত্রী জোনাকি দুই সেকেন্ড পর পর জ্বলে উঠে। এভাবে তারা মিলন সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদান করে।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল