রোনালদো আলভেজের বাজি নেইমার

সেই বিখ্যাত টাক মাথায় এখন কোকড়া কোকড়া চুল, পরিষ্কার মুখটায় এখন ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি। বয়সের ছাপ পড়েছে চোখে-মুখে। মাঝে বেঢপ হয়ে যাওয়া শরীরটা একটু মানানসই হলেও এখনও তাকে স্থূলাকায় মানুষই বলা যায়। সবমিলিয়ে এই রোনালদোকে দেখে সেই মাঠ মাতানো কিংবদন্তী ফরোয়ার্ড রোনালদো লুইস নাজারিও দে লিমা বলে চেনা কঠিন। অন্য কোনো কোনো সময় না হলেও বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান রোনালদোর ইদানিং বয়স আর ওজন নিয়ে একটু আফসোসও হচ্ছে। কারণ নিজেই বলেছেন, ‘নিজেদের দর্শকের সামনে বিশ্বকাপ হচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, বয়সটা কয়েক বছর কম ও ওজনটা কয়েক কেজি কম হলে মাঠে নেমে পড়তাম!’ তবে নিজে মাঠে নামতে পারুন আর নাই পারুন, দুইবারের বিশ্বকাপ জেতা রোনালদোর দৃঢ় বিশ্বাস, তার উত্তরসূরিরা ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি ২০০২ সালে নিজেদের তারকা খচিত দলের চেয়েও বর্তমান ব্রাজিল দলকে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে অন্তত এগিয়ে রাখছেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা, ‘২০০২ সালে আমাদের যে আত্মবিশ্বাস ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে এই দলটা বিশ্বকাপ শুরু করবে। আমি বিশ্বাস করি, ২০১৪ সালের ব্রাজিল দল অনেক শক্তিশালী। এই দলটা দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ এবং অনেক প্রতিভাধর।’ স্বভাবতই আর সবার মতো রোনালদোরও সেরা বাজি নেইমার। ভূবন কাঁপানো স্ট্রাইকার রোনালদো বলছেন, ব্রাজিলের স্বপ্নের সারথি হওয়ার যোগ্যতা আছে নেইমারের, ‘নেইমার একটা অসাধারণ ছেলে, খুবই প্রতিভাধর। ও আমাদের ভবিষ্যতের, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ভরসা। আমি মনে করি, নিজেদের দর্শকের সামনেও অসাধারণ কিছু উপহার দিতে প্রস্তুত।’ নেইমার যে এমন কিছু করতে প্রস্তুত, সেটা খুব নিশ্চিত তার বার্সেলোনা ও জাতীয় দল সতীর্থ দানি আলভেজও। তিনিও বলছেন, নেইমার এবার বিশ্বকাপে নিজেকে আরও উঁচুতে তুলে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। ইউরোপে প্রথম মৌসুমের খড়া কাটিয়েও নেইমার যে পারফরম্যান্স করেছেন, তাতে মুগ্ধ আলভেজ, ‘নেইমার অসাধারণ প্রতিভাধর খেলোয়াড়। ও খুবই ভালো একটা মৌসুম কাটিয়েছে বার্সায়। মনে রাখতে হবে, ও ইউরোপে এই প্রথম খেললো। অভিষেকের মৌসুমেই লা লিগায় খেলা মোটেও সহজ কাজ নয়। নেইমার সেটা দারুণভাবে করেছে।’ বিশেষ করে বার্সেলোনার অনন্য খেলোয়াড়ী স্টাইলের সঙ্গে নেইমার যেভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন, তা দেখেই আলভেজ নিশ্চিত যে, বিশ্বকাপে আরও চমক অপেক্ষা করছে, ‘বার্সেলোনার খেলোয়াড়ী স্টাইলটা পুরো বিশ্বেই অনন্য। এখানে গিয়ে আপনার মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে, সময় লাগবে। কিন্তু নেইমার মানিয়ে নিতে একদমই সময় নেয়নি। আসলে টেকনিক্যালি নেইমার এতো দক্ষ ও টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো নিয়ে এতো বোঝে, যে ও যে কোনো দলে, যে কোনো টুর্নামেন্টে সেরাটা খেলে ফেলতে পারে। এই বয়সে ওর যে পরিণত মানসিকতা ও খেলার স্টাইল, এটা খুব কম দেখা যায়। এ জন্যই আমি নিশ্চিত, বিশ্বকাপে আপনারা আরও সেরা চেহারার নেইমারকে দেখবেন।’