প্রস্তুত ওয়েবও

কষ্ট আর সহ্য করতে না পেরে বসেই পড়লেন হাওয়ার্ড ওয়েব। হাপরের মতো ওঠানামা করছে বুক। পানির তৃষ্ণায় ছটফট করছেন। দুই হাত আর দুই পা ছড়িয়ে দিলেন দুই দিকে। শেফিল্ড হ্যালেম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ইউনিটের বিশেষ একটা কক্ষে ওয়েবকে গতকাল দেখা গেল এমনই অবস্থায়। হ্যাঁ, ব্রাজিলের দুঃসহ উত্তাপ আর আর্দ্রতার সাথে মানিয়ে নিতে প্রায় সব দেশের খেলোয়াড়রাই নিচ্ছেন বিশেষ প্রস্তুতি, তাদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ পোশাক, আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ সব খাবারের, তখন ওয়েবই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? কারণ, মাঠে লিওনেল মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের কেউ অন্যায়ভাবে বাধা দিলেন কিনা, অথবা প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে দিদিয়ের দ্রগবা শুধু শুধুই ডাইভ দিলেন কিনা সেটা তো দেখতে হবে তাকেই। আর তাই, ব্রাজিলের কৃত্রিম আবহ তৈরি করে সেখানেই নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছেন গত বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করা এই তারকা রেফারি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের রেফারি হিসাবে দিন দুয়েকের মধ্যেই ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে উড়াল দিতে যাওয়া ওয়েব আর্দ্রতা আর উত্তাপকেই মানছেন মূল চ্যালেঞ্জ হিসাবে, ‘এটা কঠিন, দারুণ কঠিন একটা বিষয় হতে যাচ্ছে এটা। প্রচণ্ড উত্তাপ আর আর্দ্রতা ব্রাজিলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে আমাদের জন্য। এটা সবাই জানে।’ ফিফার কোন নির্দেশনা না থাকলেও সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোরেশোরেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন ওয়েব। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মানাউসে ইতালির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। ধারণা করা হচ্ছে, শতকরা ৯০ ভাগ আর্দ্রতার পাশাপাশি সেখানে তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এটাকে একটা মাপকাঠি ধরে নিয়ে ৮০% আর্দ্রতা এবং ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস উষ্ণতায় গত একমাস ধরে প্রতিদিন বিশবার ১৫০ মিটার সিপ্রন্ট অনুশীলন করছেন রিয়াল মাদ্রিদ-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যকার সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল পরিচালনা করা ওয়েব। বলা যায় না হয়তো ফিলিপ লাম-মার্সেলোদের গতির সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের রক্ষণ থেকে প্রতিপক্ষের গোলমুখ পর্যন্তও হয়তো দৌড়াতে হতে পারে বিশ্বকাপে। সে কথা মনে করেই কিনা ওয়েবের এমন নিবিড় অনুশীলন! বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে যেখানে পান থেকে চুন খসলেই ঠাঁই হবে ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়ে, সেখানে সঠিকভাবে ম্যাচ চালাতে হলে এই ‘ভয়াবহ’ অনুশীলনের বিকল্প নেই বলেই জানালেন ওয়েব। ৪২ বছর বয়সী এই রেফারি বলেন, ‘যতটা সম্ভব প্রস্তুতি নিয়েই ব্রাজিল যেতে চাই আমি। এই কক্ষটা আমাকে সেই সুযোগটা দিচ্ছে। এটা আমাকে একটা সুবিধাও দিচ্ছে। যদি আমি এখানে কাজটা করতে পারি, তাহলে সেখানে কেন নয়?’ একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিমিয়ার লিগের একটা ম্যাচে যেখানে, দুই হাজার ২০০ ক্যালরি পোড়াতে হয় ওয়েবকে সেখানে ব্রাজিলে ম্যাচ প্রতি তাকে খোয়াতে হবে তিন হাজার ক্যালরি। প্রতি ম্যাচে ঘাম ঝরবে প্রায় ১০ পাইন্ট। ফলে, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় এক কেজি করে ওজন হারাবেন তিনি! ওয়েবের কঠিন অনুশীলনের কারণ বুঝতে পারাটা বোধহয় কঠিন কিছু নয়! এদিকে, এবারের ফাইনাল পরিচালনা করতে পারলে রেফারি হিসাবে বিরল একটা রেকর্ডই স্থাপন করবেন ওয়েব। টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালন করা রেফারিতে পরিণত হবেন তিনি। এ বিষয়ে ফিফার কোন নির্দিষ্ট বিধিমালা না থাকলেও, টানা দু’বার একই রেফারিকে এই দায়িত্ব ফিফা দেবে না বলেই মনে করছেন ওয়েব। তিনি বলেন, ‘এরকম কোন বিধান নেই যেখানে লেখা আছে, একজন লোক টানা দু’বার এই কাজ করতে পারবেন না। তবে আমি বলবো যদি এটা হয়, সেটা হবে খুবই অস্বাভাবিক একটা ব্যাপার।’ -বিবিসি।