ডায়াবেটিক রোগীর ৬৬ ভাগ ভোগেন যৌন সমস্যায়

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (পুরুষাঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা) হার বেড়ে যায়। সেক্সুয়াল ডিসফাংশনের (যৌন সমস্যায় আক্রান্ত) রোগীদের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শতকরা ৩০ ভাগ রোগীর ইরেকটাইল ডিসফাংশন আছে এবং ডায়াবেটিক রোগীদের শতকরা ৬৬ ভাগ এ সমস্যায় আক্রান্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে ও ইউনিহেলথের সহায়তায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে অনুষ্ঠিত ‘আপডেট ম্যানেজমেন্ট অফ ইরেকটাইল ডিসফাংশন (পুরুষাঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যা)’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ সিকদার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর এম এম আই মল্লিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সেক্সলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসান ও ডা. এসএম আতিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার। সেমিনারে প্রায় চার শতাধিক চিকিত্সক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে জানানো হয়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের হার বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন দেশে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ৫০ বছরের নিচে এই রোগের হার ০৯ থেকে ৩৯ ভাগ এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে তা ৪০ থেকে ৮০ ভাগ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের একটি বিশেষায়িত ক্লিনিক-সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক আছে। যেখানে সেক্সুয়াল ডিসফাংশনের রোগীদের চিকিত্সা পরামর্শ দেয়া হয়। সেখানকার রোগীদের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় জানা যায়, শতকরা ৩০ ভাগ রোগীর ইরেকটাইল ডিসফাংশন আছে। অপর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ডায়াবেটিক রোগীদের শতকরা ৬৬ ভাগ ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভুগছেন। উপযুক্ত চিকিত্সার মাধ্যমে এ জতীয় রোগীর প্রভূত উন্নতি সাধন করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশে সেক্সুয়াল হেলথে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব রয়েছে। বক্তারা ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা পৌরুষত্বহীনতার বিভিন্ন দিক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।