লক্ষ্য থাকা চাই ছাত্রজীবন থেকেই

অপেক্ষাকৃত সীমিত ব্যয়ে উন্নত বিশ্বের আধুনিক শিক্ষা সকলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মেথডিস্ট চার্চ ট্রাস্ট’ মিরপুরে ১৯৯৮ সালে গড়ে তোলে একটি অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেথডিস্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। যেখানে নির্বিঘ্নে পড়ালেখা করছে সকল ধর্ম-গোত্রের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মি. এস. কে কিম এবং সুব্রত এডওয়ার্ড গোমেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ গোমেজ ইতোপূর্বে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে নটরডেম কলেজে শিক্ষকতাসহ অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে উপাধ্যক্ষ ও হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। নতুন প্রজন্মের জন্য তিনি দিয়েছেন কিছু পরামর্শ প্রথমত নতুন প্রজন্ম পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হতে সচেষ্ট হতে হবে। এজন্য ছাত্রজীবন থেকেই ক্যারিয়ার রোড ম্যাপ তৈরি করে অগ্রসর হতে হবে। এই প্রয়াস ভবিষ্যতে আলোকিত ক্যারিয়ার গড়তে ব্যাপক সহায়তা করবে। এই প্রয়াসের মাধ্যমে রাতারাতি কোনো বড় কিছু হতে না পারলেও শিক্ষা জীবনের গুরুত্ব অনুধাবন করাসহ ধৈর্য সহিষ্ণু হতে বিশেষ সহায়তা করবে এবং জানতে পারবেন জীবন ও বাস্তবতাকে। পাশাপাশি বাড়তি রোজগারও কিছু হতে পারে। বিশেষকরে অবসর সময়ের অপব্যয় হবে না। হয়তো আপনার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী, তাতে কী? আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে আত্মনির্ভরশীল হতে সচেষ্ট হতে হবে শিক্ষাজীবন থেকেই। মনে একটি পণ রাখতে হবে, সবসময় লালন করতে হবে যে, আমি স্বীয় চেষ্টায় যত দ্রুত সম্ভব কর্মমুখী হবো। সেজন্য ছাত্রজীবনে প্রথমে সবচেয়ে সহজ যে কাজ—গৃহ শিক্ষকতা, সেটা থেকেই হাতেখড়ি নিতে পারেন। তবে অবশ্যই অবসরে। যাতে পড়াশোনার ক্ষতি না হয়। শিক্ষকতার কাজটি বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখে নিজের শিক্ষার ক্ষেত্রেও। পড়াতে গেলে নিচের লেভেলের পড়াশোনাগুলো আরও ঝালাই হয় এবং কোনো শূন্যতা থাকলে তা পূরণ হয়ে যায়। অথবা এসএসসি-এইচএসসি কিংবা ‘ও’-‘এ’ লেভেল পরীক্ষার পর গা ভাসিয়ে না দিয়ে বরং স্কাউট কিংবা বিএনসিসিতে অংশগ্রহণ করে মানবিক ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন। অথবা আপনি যদি ব্যতিক্রম হন তবে পরীক্ষার পর গ্রামের বাড়িতে যাদের পরিত্যক্ত জমি আছে, সেখানে নার্সারি বা হালকা চাষাবাদ ও খামার তৈরির মাধ্যমেও আপনি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। চাইলে পার্টটাইম চাকরিও করতে পারেন। আসলে সবই নির্ভরশীল আপনার চিন্তা-চেতনা ও সদিচ্ছার উপর। তবে পড়াশোনার গুরুত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি দিতে হবে। কারণ শিক্ষিত হলে এটাই সর্বোচ্চ সম্পদ। আমাদের প্রতিষ্ঠান এ প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠতে পারে একটি উল্লেখ্যযোগ্য ক্ষেত্র। মেথডিস্টে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ২০০৩ থেকে শুরু করা হয় ‘আইজিসিএসই/‘ও’, ‘এ’ লেভেল কোর্স। এখানে প্লে গ্রুপ থেকে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত পড়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু চার দেয়ালের দৃষ্টিনন্দন ভবনই নয়, এর সামনে রয়েছে বৃহত্ আঙ্গিনা, খেলার মাঠ এবং ভেতরে আধুনিক শ্রেণীকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি ও সায়েন্স ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। মেথডিস্টে শিক্ষকদের প্রত্যেকেই বিশেষায়িত অভিজ্ঞ শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও সময়ের সাথে সাথে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকতর এগিয়ে রাখার প্রয়াস চলে প্রতিনিয়তই। এখানে আদর্শিক ও মানবীয় গুণাবলি অর্জনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান। একই সাথে শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির নিমিত্তে বেশি বেশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়। আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করার নিমিত্তে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম তথা খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির জন্য এসব কার্যক্রমের, বিশেষ করে খেলাধুলা ও ডিবেটে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। একই সাথে নিশ্চিত করতে হবে, মেধাভিত্তিক সৃজনশীল শিক্ষাও। যে লক্ষ্যে আমরা প্রতিনিয়তই কাজ করছি। বিশেষকরে আমরা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থী সংখ্যা নির্ধারণ এবং সময়ের সাথে সাথে শিক্ষক প্রশিক্ষনের কাজটি করছি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই পারে একটি আলোকিত প্রজন্ম উপহার দিতে।