জোত্স্না রাতে মেঘ বালিকার খোঁজে
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৪, ১৮:০৯
আমরা কজন ভ্রমণপিয়াসী চাঁদে যাওয়ার শখ না করে ছাদে ভ্রমণ করে এলাম। পার্বত্য জেলা বান্দরবানকে বলা হয় বাংলাদেশের ছাদ। আর সেই ছাদ হচ্ছে অপলক সৌন্দর্যের বান্দরবান। পাঁচ বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিই বান্দরবানের অপার সৌন্দর্য পাহাড়ের উপর প্রকৃতির সৃষ্টি বগা লেক থেকে পূর্ণ জোত্স্না উপভোগ করব। রাতেই ছুটলাম বান্দরবানের উদ্দেশে। সকালে গিয়ে বান্দরবানে পৌঁছাই। নাস্তার পর্ব শেষ করে, রির্জাভ করা জিপ গাড়িতে ছুটলাম রুমার উদ্দেশে। পথে গাড়ি ব্রেক করে নীলাচল জলপ্রপাত, মিলন ছড়ি, চিম্বুক, নীলগিড়ি দেখে রুমা উপজেলার সাঙ্গু নদের পারে গিয়ে পৌঁছাই। সেখানে দুপুরের লাঞ্চ সেরে নৌকায় চড়ে অনন্য সুন্দর সাঙ্গু নদ পার হই। আগে থেকেই আমাদের জন্য চাঁদের গাড়ি অপেক্ষা করছিল। গাড়ি ছুটল পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে বগা লেকের পানে, সন্ধ্যায় গিয়ে পৌঁছাই সেখানে। কি সুন্দর এই রূপ তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, ছবির চেয়েও সুন্দর। উপজাতি লারাম ও ময়াদের বাড়িতে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা হলো। চাঁদনী রাত, জীবনে হয়তোবা আরও অনেকবার বগা লেকে আসা হবে কিন্তু এমন পূর্ণিমা কপালে নাও জুটতে পারে। তাই এই অপূর্ব সুযোগটি হাত ছাড়া না করে গভীর রাত পর্যন্ত জোত্স্না উপভোগ করি। জোত্স্না রাতে বগা লেকের যে অপরূপ দৃশ্য তা স্বচক্ষে না দেখলে কাউকে বিশ্বাস করাতে পারব না। বন্ধু মানিকের কর্কশ কণ্ঠের গান শুনতেও তখন ভালো লাগছিল। পরের দিন খুব ভোরে উঠে কেওক্রাডং পাহাড়ের দিকে ছুটি। জসিম ও মোস্তাক বেশ খুশি। এর কারণটাও পরে জেনেছি। মান্ধাতার আমলের চাঁদের গাড়িতে চড়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে তীব্র গতিতে গাড়ি চলছে। মিনারেলের বোতল মুখে দিতে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পাই বুকে, মনে হলো এই বুঝি দম বের হয়ে যায়। কিন্তু সেই ব্যথা আমাকে ক্ষণিকের জন্যও নির্জীব করতে পারেনি, কারণ পথের একপাশে গভীর খাত, আরেক পাশে উঁচু পাহাড়, এক অজানা অনুভূতি। গাড়ি এসে থামে দার্জিলিং পাড়ায়। মেঘে ঢাকা চারপাশ। পাহাড়ে শুভ্র মেঘের ঢেউ। পাহাড়ি বন্ধু লেমন ও লালজাই দেখা করে। তাদের দোকানে চা-নাস্তা করি। এরই মধ্যে কয়েকজন আদিবাসী ড্রাইভার বলে গাড়ি আর যাবে না। ঝিরির পানি যাওয়ার জন্য রাস্তা কাটা, কেওক্রাডং যেতে হলে পায়ে হেঁটে যেতে হবে। গাড়ি ঝিরি পর্যন্ত যায়। আমি লিটন মিলে কাটা স্থান ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে বুঝি, এখানে সামান্য কিছু বাঁশ, কাঠ দিলেই গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু আদিবাসীরা বারণ করে, গাড়ি নিলে রাস্তার ক্ষতি হবে পরবর্তীতে সংস্কার করতে কষ্ট হবে। ওদের কথা শুনতে দেরি কিন্তু তাদেরকে ম্যানেজ করতে সময় লাগে না। আর এই সুযোগে বেস্ট ট্যুরিস্ট জসিম ও মোস্তাক কাটা অংশের উপরে কাঠ-বাঁশ বিছানোর কাজ শেষ করে। সত্যিই ওদের মতো ট্যুরিস্ট সাথে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। বম আদিবাসীদের (মাংথা) ধন্যবাদ দিয়ে গাড়ি চলল। গাড়ি উপরের দিকে উঠে, আমরা সবাই গান গেয়ে উঠি। কিছুক্ষণ গাড়ি চলার পর মেঘমালা শরীর ভিজিয়ে দেয়। মেঘ কেটেই পৌঁছাই কেওক্রাডং। ওয়াও! মেঘের মাঝেই আমরা, খুঁজে বেড়াই মেঘ বালিকা।
যোগাযোগ :রাতের গাড়িতে বান্দরবান। সকালে চাঁদের গাড়িতে বগা লেক। এক রাত থেকে পরের দিন জিপে করে কেওক্রাডং। দুই দিনে জন প্রতি খরচ চার হাজার টাকা।