জামালপুরে ৪৬ হাজার মেঃ টন ইউরিয়া খোলা আকাশের নীচে
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৪, ২১:৩৭
জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি অবস্থিত যমুনা ইউরিয়া সারকারখানায় (জেএফসিএল) গুদাম সংকটে ৪৬ হাজার মে.টন ইউরিয়া সার খোলা আকাশের নীচে মজুদ রাখা হয়েছে। জানা গেছে খোলা আকাশের নীচে রাখা সার বর্ষা শুরুর আগে ডিলারদের কাছে সরবরাহ করতে না পারলে বিপুল পরিমাণ সার নষ্ট হবার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে কারখানার মহা-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোঃ মঞ্জুর রেজা জানান, যমুনা সার কারখানায় সর্বমোট ৯১ হাজার মে.টন ইউরিয়া সার মজুদ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বাল্ক গোড়াইন ও কারখানার গুদামে ৪৪ হাজার ৮শ’ ১৪ মে.টন এবং কারখানা ও কলোনীর রাস্তায় ত্রিফলে মোড়ানো ৪৬ হাজার ১শ’ ১০ মেঃ টন সার।
অপরদিকে তারাকান্দি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সরকার আবুল হোসেন বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ বিগত ৪ মাস যাবত্ উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় সার সরবরাহ বন্ধ রাখায় প্রায় ৪৬ হাজার মেঃ টন সার অতিরিক্ত মজুদ রাখা হয়েছে। এসব সার দ্রুত সরবরাহ করতে না পারলে বর্ষা মৌসুমে বিপুল পরিমাণ সার নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ব্যাপারে মহা-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোঃ মঞ্জুর রেজা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কোন জেলায় কত মেঃ টন সার সরবরাহ হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ বিষয় কারখানা কর্তৃপক্ষের কোন হাত নেই বলে তিনি জানান।
ঝিনাইদহের এক লাখ ৬৮ হাজার বস্তা
সার খোলা আকাশের নিচে
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাফার স্টক সার গুদামের বাইরে এক লাখ ৬৮ হাজার বস্তা (৮ হাজার ৪শ’ টন) ইউরিয়া সার খোলা আকাশের নিচে মজুত করে রাখা হয়েছে। এ সারের মূল্য ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গুদাম ইনচার্জ আব্দুল লতিফ জানান, এ বাফার স্টক গুদাম থেকে জরুরি সময়ে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার বিসিআইসির’র সার ডিলারদের সার সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এ গুদামের ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজার টন। ভিতরে রাখা হয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ টন। ভিতরে সার কানায় কানায় পূর্ণ রয়েছে। তারপর বাকি ৮ হাজার ৪শ’ টন সার গুদামের চারদিকে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এখন সারের চাহিদা কম থাকায় ডিলাররা সার কম তুলছে্। ফলে সারের মজুত বেড়ে যাওয়ায় বাইরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, জুলাই মাসে রোপা আমন চাষ পুরোদমে শুরু হলে ডিলাররা ডেলিভারি নিতে শুরু করলে মজুত কমে যাবে। ভারি ঝড়-বাদল হলে পানিতে ভিজে সার নষ্টের আশংকা করা হচ্ছে্। মাঝে মাঝেই এ গুদামে স্থানাভাব দেখা দিলে বাইরে এভাবে সার মজুত করে রাখা হয়। জানা যায়, গুদামের ভিতর কয়েক হাজার বস্তা জমাট বাঁধা সার মজুত আছে।