আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

হবিগঞ্জে অস্ত্রভাণ্ডারের তথ্য দেন ভারতীয় গোয়েন্দারা

হবিগঞ্জে সাতছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে জঙ্গিদের অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে বলে খবর দিয়েছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। এরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে জঙ্গলে সাতটি লুকোনো বাঙ্কারের খোঁজ পায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)। ,ে শ’দুয়েক মর্টারের গোলা ও বি েসই বাঙ্কারে মিলেছে ১৮৪টি শক্তিশালী রকেট লঞ্চার, বেশ কিছু ট্যাঙ্কবিধ্বংসী গোলা, ১৫৩টি রকেট চার্জার স্ফারক। আরও দু’দিন তল্লাশি-অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন র্যাবের উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান। গতকাল বুধবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। উলফার সহযোগী জঙ্গি সংগঠন এটিটিএফ (অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স) নেতা রঞ্জিত দেববর্মা ধরা পড়ার পরে তাঁকে জেরা করেই ত্রিপুরা সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সাতছড়ির জঙ্গলে অস্ত্রভাণ্ডারের খবর পান গোয়েন্দারা। তারপর বারবার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়। কয়েকবার অভিযান চালিয়েও পুলিশ কিছু পায়নি। সমপ্রতি ফের ভারতীয় গোয়েন্দারা সাতছড়িতে অস্ত্রের খোঁজ দিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পাঠান। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, উলফার বহিষ্কৃত নেতা পরেশ বড়ুয়া চীন থেকে মায়ানমারের পথে যে অস্ত্র পাঠান, তা এই সাতছড়ির জঙ্গলে জমা করে রাখা হয়। সুযোগ মতো তা ভারতে জঙ্গিদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার তল্লাশির দায়িত্ব দেয় র্যাবকে। স্থানীয় চুনারুঘাট থানার ওসি স্বীকার করেছেন, অভিযানের বিষয়ে এ বার পুলিশকেও আড়ালে রাখা হয়। র্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, মেয়াদ ফুরানো বেশ কিছু বিস্ফোরক মেলায় মনে করা হচ্ছে, অনেক দিন ধরেই সেগুলি জমা করে রাখা আছে। নজরদারি বাড়ায় জঙ্গিরা সেগুলি পাচার করে উঠতে পারেনি। র্যাবের মুখপাত্র হাবিব জানান, মজুদ অস্ত্রের এক তৃতীয়াংশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও বাঙ্কারের সন্ধানে আগামী দু’দিনও চুনারুঘাট উপজেলার এই জঙ্গলে অভিযান চলবে। তবে ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য পেয়ে তাঁরা এই অভিযান চালিয়েছেন, এই তথ্য মানতে চাননি হাবিব। তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্রেই অস্ত্র থাকার খবর মিলছিল। তার ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। উলফার অধিকাংশ নেতাকেই ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে ঢাকা। চট্টামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় পরেশ বড়ুয়াকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। পরেশ বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতে অস্ত্র চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে খবর। তারা মনে করছেন, সাতছড়ির অস্ত্রভাণ্ডার ধরা পড়ার পর এই পথে পরেশের অস্ত্র চালানও বন্ধ হবে।