বিশ্বকাপে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

আর মাত্র পাঁচদিন পরেই ব্রাজিলে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের রাজসিক আসর ফিফা বিশ্বকাপ। এই ফুটবলের আসরকে ঘিরে বিশ্বের সবকটি দেশের চলছে আলোচনা। খাবার টেবিল থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের আড্ডা কিংবা অফিসে কাজের অবসরে কথার ফুলঝুরি ছুটছে ফেভারিট দল নিয়ে। বিশেষ করে তারুণ্যের মাঝেই বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসটা বেশি দেখা যায়। চার বছর পর পর ফুটবলের এই মহাযজ্ঞকে নিয়ে সবাই মেতে উঠেন রঙিন উত্সবে। বিশ্বকাপকে ঘিরে তারুণ্যের সবুজ এই উচ্ছ্বাস নিয়ে এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ বিশ্বকাপ ফুটবল মানে একেবারে আলাদা একটা ব্যাপার। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটা অন্য রকম উত্তেজনা এবং রোমাঞ্চকর এর প্রতিটি মুহূর্ত। সেখানে দুর্দান্ত সব দল খেলায় অংশ নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালের পর শুরু হয় মূল উত্তেজনা। আর শেষটা সুন্দরভাবে রাঙিয়ে দেয় চ্যাম্পিয়ন দলই। সব বয়সের মানুষের সাথে সাথে তরুণদের উচ্ছ্বাস এখানে বেশিই পরিলক্ষিত হয়। তাই তো চির সবুজের তারুণ্য এ সময় আনন্দের জোয়ারে ভাসে। তারা ফ্যাশন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বিশ্বকাপের ছোঁয়া পেতে চান। রাজসিক এই আসরে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার ফুটবল উদ্দীপনা বাংলাদেশের মানুষকে ছুঁয়ে যায় সবসময়ই। বিশ্বকাপ এলে তো কথাই নেই। ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো দেশ। বিশ্বকাপের সময় এখানে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা দুই নামে ভাগ হয়ে পড়ে। বিতর্কও চলতে থাকে ব্রাজিল সেরা নাকি আর্জেন্টিনা। সুখের খবর হলো—বাংলাদেশও থাকছে এবারের ফিফা বিশ্বকাপে। মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজদের থাকার কথা যদিও কল্পনাতীত। তবে বাংলাদেশের নামটি এবার থাকছে ফুটবলের আসরে। কারণ, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জার্সি তৈরি করে সরবরাহ করছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানা। আর পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হলুদ জার্সির নিচে লেখা থাকবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। বাংলাদেশে ফুটবল জনপ্রিয় না হলেও বিশ্বকাপ এলেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলসহ প্রিয় দলের পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো দেশ। সমর্থকরা তার প্রিয় দেশের জার্সিতেই আনন্দ উল্লাস করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের গর্বিত করার মতো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে এবার। লুইজ ফেলিপ্পে স্কলারির দল এবার জানবে বাংলাদেশের নাম। ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলটির জার্সি তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিল বাংলাদেশ। এদিকে দেশের রানা প্লাজা ও তাজরিন গার্মেন্টসের ট্রাজেডিতে সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনকে (সিবিএফ) জানানো হয়। আর তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে জার্সির নিচে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লিখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ফুটবল সংস্থা। মাঠজুড়ে দর্শক-সমর্থকদেরও অনেকেরই গায়ে থাকবে বাংলাদেশে তৈরি জার্সি ও টি-শার্ট। শুধু মাঠ নয়, এই আসরে সময়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা মেতে উঠবেন নানান ফ্যাশনে, যার বড় অনুষঙ্গ পোশাক। ফুটবলের এই রাজসিক আনন্দকে নতুন মাত্রা দিতে ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অংশীদার হিসেবে কোমলপানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস কাপ’ শিরোনামে বিশ্বব্যাপী একটি বৈশ্বিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্থানীয় আঙ্গিকে তৈরি হয়েছে একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন। বেটস অ্যান্ড চি’র ধারণার আলোকে এটি পরিচালনা করেছেন অ্যাপল ব্লু-ফিল্মসের পিপলু খান। এর দৃশ্যধারণ করা হয়েছে সৈকত, গলিপথ, বাড়ির ছাদ ও ক্যাফেসহ দেশের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় স্থানে। এতে ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অনুরাগ-ভালোবাসাই প্রাধান্য পেয়েছে। দেশের আপামর মানুষজনের একযোগে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়াযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করার অবারিত আনন্দ-উচ্ছ্বাস, উত্তাপ-উত্তেজনার চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে এই বিজ্ঞাপনে। ২০১০ বিশ্বকাপ প্রচারণায় কোকাকোলা ব্যবহার করেছিল সোমালীয় বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান হিপহপ গায়ক কেনানের গান। ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ শিরোনামের গানটি জনপ্রিয় হয়েছিল। এবারও কোকাকোলা ২০১৪ বিশ্বকাপ প্রচারণার জন্য তৈরি করিয়েছে একটি গান। এর শিরোনাম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ আওয়ারস’। বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সাম্বা আর ব্যালে ফাংক নাচের ছন্দ ও টেকনো ব্রেগা গানের সুরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি হয়েছে গানটি। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন রিয়েলিটি শো ‘এক্স-ফ্যাক্টর’-এর ফাইনালিস্ট ও ব্রাজিলের পারকাশন ট্রুপ ‘মনোব্লোকো’র গায়ক ডেভিড কুরি। গানটির কথা লিখেছেন রক মাফিয়া আর সুর দিয়েছেন ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভুত মারিও ক্যালদাতো জুনিয়র। গানটি শুনতে ভিজিট করতে পারেন www.cokeurl.com/worldisours ওয়েবসাইটে। এই গান নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন ডেভিড কুরি। কোকা-কোলার এই বৈশ্বিক প্রচার কার্যক্রমের মধ্যে বিশ্বব্যাপী টেলিভিশন বিজ্ঞাপন সম্প্রচার ছাড়াও রয়েছে কোকা-কোলা সংগীত প্রচার ও দুনিয়াজুড়ে ৮৯টি দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল ট্রফি প্রদর্শন ইত্যাদি। গত বছরের ডিসেম্বরে খাঁটি সোনায় তৈরি জমকালো সৌন্দর্যের আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল কোকা-কোলা। ফিফার আসল ট্রফি দেখার আমন্ত্রণ পেয়েছিল দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্টরাও। সুযোগ হাতছাড়া করেনি সদ্য ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। পুরো দল নিয়ে হোটেল রেডিসনে হাজির হয়েছিল ধানমন্ডির এই ক্লাব। আনাগোনা ছিল দেশের ফুটবল জগতের আরও কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক তারকাদের। বিশ্বের সেরা দলগুলোর আকাঙ্ক্ষিত এই ট্রফি চোখে দেখে উজ্জীবিত হয়েছেন তারা এবং দেশের তরুণ সমাজ। দেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের ফুটবলারদের হাতেও একদিন এই ট্রফি দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনেকেই। তাই তো তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে বিশ্বকাপে খেলতে ‘ভিশন ২০২০’ লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।