‘লাল সবুজ’ স্বপ্নের বাহক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৪, ১৯:৫৭
স্যারের বকুনি খেয়ে খুব মন খারাপ ছেলেটার, কই স্যারকে নিয়ে কুত্সা লিখবে, লিখে ফেললেন রম্য! খালামনি পড়ে দারুন খুশি, স্কুলে পড়া এই ছেলে এত সুন্দর লেখে। তাকে লেখালেখিটা যে চালাতেই হবে। পত্রিকা বের করার জন্য উত্সাহ দিলেন তাহসীনকে। আর বরিশালের ছেলে তাহসীন উদ্দিন তাতেই লেগে পড়লেন পুরোদমে। বন্ধুকে নিয়ে প্রেসে প্রেসে ঘোরা, বাঁধ সাধে টাকা-পয়সাতে, তবু চাই পত্রিকা বের করা। ফটোকপি করে করে বের হয় ‘মাসিক লাল সবুজ’-এর প্রথম সংখ্যা, বছর ঘুরতেই সেই ছেলেদের দেখা স্বপ্নটা রঙিন হয়ে বের হলো। শুধুই কী তাই? সম্পাদকও পেলেন ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। দক্ষিণাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের প্রিয় এই পত্রিকার ভাবনার বাহক তাহসীন উদ্দিন।
প্রথম থেকেই অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। এখনও যে নেই তা না। এখন ‘লাল-সবুজ’ বের হয় ট্যাবলয়েড সাইজে। চার কালারের ঝকঝকে ‘লাল-সবুজ’। ‘লাল-সবুজ’-এর গেটআপ, নিউজ কোয়ালিটির কাছে সহজেই হার মানে স্থানীয় ২০টি পত্রিকা। যা স্বীকার করেছেন সেই সব পত্রিকার সম্পাদকরাই। মজার বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্ত এ সবকিছুই করছে শিশুরা। ‘লাল-সবুজ’-এর ২৩টি সংখ্যায় ছোটরা অনেক কিছু তুলে ধরেছে তা কেউ আগে তুলে ধরতে পারেনি। বতর্মানে এ পরিবারের সদস্য ২০ জন। আর প্রশিক্ষণ চলছে আরও ২০ জন নতুন শিশু সাংবাদিকের। যে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল ৮০ জন শিশু। অকপটে কথাগুলো বলে গেছেন তাহসীন, স্বপ্নের পথে এগোতে বাধা আসবেই, তা উের যাওয়াটাই যে সফলতা। তাহসীন ছেলেবেলা থেকেই অনেক নরম প্রকৃতির। শোরগোলের মধ্যে তো নেই-ই, নিরিবিলি পছন্দ করতেন বরাবরই। আর অবসরটা খেলাতেই। দারুণ ক্রিকেট খেলতেন, টিভিতে কোনো খেলাই বাদ যেত না। জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছে থেকেই বিকেএসপিতেও কিছুদিন প্রশিক্ষণ নেন। ফিরে এসে অবশ্য আর খেলাধুলা অতটা টানেনি। আর তারপর তো ‘লাল-সবুজ’-এ বুঁদ হয়ে গেলেন। তাহসীন এখন বরিশালের একটি কলেজে পড়ছেন, সামনের বছর এইচএসসি দেবেন। বরিশাল জিলা স্কুল থেকে জিপিএ ৫ পেয়েই মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েছেন তিনি। বাবা মো. রফিকুল ইসলাম স্থানীয় নুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মা সৈয়দা জিয়াসমিন ইসলাম সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক। বাবা-মা কখনই তার কাজে সরাসরি অনুপ্রেরণা দেন না। ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা নিয়েই পড়তে চান তাহসীন। তাহসীন স্বপ্ন দেখেন, রাজনৈতিক হানাহানি, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত এবং শিশুবান্ধব বাংলাদেশ। অবশ্যই সেখানে শিশুদের স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট টিউটর আর এক গাদা বই নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে না। তারা পড়বে নিজের পছন্দের বই।