মহাযজ্ঞের শুরু যেখানে

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও আকাঙ্ক্ষিত আসর ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল। জমজমাট এই মহারণের আয়োজক দেশ রেকর্ড পাঁচবারের শিরোপাজয়ী ব্রাজিল। আগামী ১২ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০তম আসর। আর তাই পুরো ব্রাজিলই যেন সেজেছে নতুন এক সাজে। মন মাতানো সব আয়োজন রাখা হয়েছে বিশ্ব দরবারে ব্রাজিলকে তুলে ধরার জন্য। বিশ্ব অপেক্ষা করছে সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখার জন্য। এ নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ৬৪ বছর পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিশ্বকাপযজ্ঞ সফল করে তুলতে পুরো ব্রাজিলকেই ঢেলে সাজাতে হয়েছে দেশটির সরকারকে। এরপরও পেলের দেশ সাওপাওলোয় উদ্বোধনী মাচের ভেন্যু সংস্কার কাজ যথাসময়ে শেষ করতে যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচ আয়োজনে ইতাকুয়েরা স্টেডিয়ামের অগ্রগতি দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ফিফা মহাসচিব জেরম ভাল্কো। গত ২০ আগস্ট তিনি এ অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন। এখন পর্যন্ত ভেন্যুটির ৮৬ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভেন্যু পরিদর্শন শেষে ভাল্কো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইতাকুয়েরায় উদ্বোধনী ম্যাচটি নিয়ে যদি ফিফার কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তার সমাধান হয়েছে। সময়মতো স্টেডিয়াম উদ্বোধনীর জন্য প্রস্তুত থাকবে।’ বিশ্বকাপ আয়োজনে এই ভেন্যু নিয়ে সমালোচকদের সন্দেহ দূর করেছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আলডো রিবেলোও। তিনি বলেন, ‘আমিও এখন নিশ্চিত ইতাকুয়েরা সময়মতো ম্যাচ আয়োজনের উপযুক্ত হবে।’ ব্রাজিলের ১২টি ভেন্যুতে আগামী বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে ছয়টি ভেন্যু গত বছর জুনে সফলভাবে কনফেডারেশন্স কাপ আয়োজন করেছিল। আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়াকে পেছনে ফেলে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর দ্বিতীয় বারের মতো স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পায় পেলের দেশ। এর ফলে ব্রাজিলে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৫০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়েছিল সাম্বা ছন্দের দেশ। ঐতিহাসিক মারকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়ে গোটা ব্রাজিলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে জিতে নিয়েছিল বিশ্বকাপ। ব্রাজিল পঞ্চম দেশ হিসেবে দুই বার বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর আগে এ কৃতিত্ব দেখানো দেশগুলো হচ্ছে মেক্সিকো, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানি। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো টানা দুই বিশ্বকাপ ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত হবে। কেননা গত ২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকায়। ১২ জুন থেকে ১৩ জুলাই ব্রাজিলের ১২টি ভেন্যুতে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুগুলো হলো বেলো হরিজন্তে (স্টেডিয়াম-এস্তাদিও গভারনেদর ম্যাগহালহিয়েস পিন্টো-মিনেইরো, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৬৯৯৫০ জন), ব্রাসিলিয়া (স্টেডিয়াম-এস্তাদিও মানে গ্যারিঞ্চা-এস্তাদিও ন্যাসিওনাল, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৭১৫০০জন), কুয়েবা (স্টেডিয়াম-এ্যারিনা পান্টানাল গভারনেদর জোশে ফ্রাগেলি-নোভা ভারদাও, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪২৫০০), কুরিটিবা (স্টেডিয়াম-এস্তাদিও জোয়াকিউম অ্যামেরিকো গুইমারিয়াস-এ্যারিনা দ্য বেক্সাডা, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪১৩৭৫ জন) ফোরটালিজা (স্টেডিয়াম-এস্তাদিও প্লাসিডো এদিরাল্ডো ক্যাস্টিলো-ক্যাস্টোলাও, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৬৭০৩৭ জন), ম্যানুস (স্টেডিয়াম-এ্যারিনা আমাজোনিয়া ভিভাল্ডো লিমা-নোভো ভিভাল্ডাও, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৫০০০০ জন), নাটাল(স্টেডিয়াম-এ্যারিনা ডাস ডুনাস-নোভা ম্যাকাডাও-বেইরা রিও, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪৫০০০ জন, নতুন নির্মিত স্টেডিয়াম), পোর্তো এ্যালিগেরো (স্টেডিয়াম-এস্তাদিও জোশে পিনহিয়েরো বোর্দা, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৬২০০০), রিসিফে (স্টেডিয়াম-এ্যারিনা পারনামবুকো, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪৬১৬০ জন), রিও ডি জেনিরো (স্টেডিয়াম-এস্তাদিও মারিও ফিলহো-মারাকানা, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৮২০০০), সালভাদর( স্টেডিয়াম-এ্যারিনা ফোন্টে নোভা, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৫৫০০০ হাজার), সাওপাওলো (স্টেডিয়াম এ্যারিনা করিন্থিয়ান্স, দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪৮০০০)। উদ্বোধনী ম্যাচের টিকেট ব্রাজিলের বাইরের দর্শকদের জন্য উদ্বোধনী ম্যাচের টিকেট রাখা হয়েছে সর্বনিম্ন ২২০ মার্কিন ডলার। সবচেয়ে ভালোমানের আসনের জন্য ১২ জুনে সাও পাওলোতে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে হলে গুণতে হবে ৪৯৫ মার্কিন ডলার। এছাড়া ৪৭টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচের জন্য তৃতীয় পর্যায়ের সর্বনিম্ন ৯০ মার্কিন ডলার করে এবং প্রথমশ্রেণীর টিকেটমূল্য ১৭৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক মারকানায় ১৩ জুলাই হবে ফাইনাল ম্যাচ। এ ম্যাচটির জন্য সর্বনিম্ন ৪৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৯০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হবে ব্রাজিলের বাইরে থেকে আগত বিদেশি দর্শকদের। সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের তুলনায় এবার ১০ শতাংশ বেশি হারেই বিদেশিদের টিকেট কিনতে হবে। এছাড়াও সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের জন্যও কিছু সৌজন্যমূলক টিকেটের ব্যবস্থা থাকবে। কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের জন্য থাকছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টিকেট। এসব ক্লায়েন্টদের ফিফা ম্যাচ হসপিটালিটির জন্য ১২০ মার্কিন ডলারে ব্যয়ে বিশেষ লাইসেন্স দিয়েছে।