প্র জ ন্ম ক থা
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কাপ কিন্তু একটাই...
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪৭
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের প্রজন্মও কাঁপছে সমান তালে। শহর-বন্দর-গ্রামসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে সকল প্রজন্মের সমর্থকেরা এই খেলা উপভোগ করার জম্পেস আয়োজনে ব্যস্ত। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের বিশ্বকাপ ফুটবল উচ্ছ্বাসে ধারা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার
ক্রীড়া সংস্কৃতি হলো এমন একটা সংস্কৃতি যেটার ভাষা, আবেগ-অনুভূতি সব দেশে, সব ভাষাভাষীদের কাছে একই। এটা এমন এক মাধ্যম যেটা নানা দেশের, নানা সংস্কৃতির নানা প্রজন্মকে এক কাতারে আনে। এটা বিনোদনের এমন একটা মাধ্যম যেটা পৃথিবীর সকল প্রজন্মকে একইভাবে বিনোদিত করে, উচ্ছ্বসিত করে। যদিও উচ্ছ্বাস প্রকাশে ভিন্নতা রয়েছে। মানবসভ্যতা আর মানবদক্ষতার সুন্দরতম প্রকাশ ঘটে যে মাধ্যমে তার নাম ফুটবল। শক্তি আর সুন্দরের, বেগ আর আবেগের এর চেয়ে বড় সম্মিলন আর কোথাও ঘটেনি। বিশ্বকাপের একটি মাস আমাদের কাছে ফুটবল ‘ছোটদের-বড়দের-সকলের’ হয়ে ওঠে। কারণ খুব সম্ভব, চার বছর ফুটবল থেকে দূরে থাকলেও আমাদের রক্তে, অতীতে, ঐতিহ্যে তো ফুটবল আছে। সেটা চার বছর রুদ্ধ হয়ে থাকে বলে বিশ্বকাপের সময় প্রকাশ ঘটে বিস্ফোরণের আকারে। চার বছরের জমাট ফুটবল-ভালোবাসার প্রকাশের সময় যখন মাত্র এক মাস তখন তো এমন তীব্রতা সে নেবেই। ফুটবলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা তাই চার বছরের বিরহ আর এক মাসের প্রেম। লম্বা বিরহের পরের প্রেম। তা তো বাঁধ ভাঙবেই। সীমানা ছাড়াবেই। মান-অভিমান-তামাশা-কান্না এসবের রকমারি মেলা তো বসবেই। বিশ্বকাপ আসলে প্রিয় দলের পতাকা উড়িয়ে সমর্থন জানাই। এ নিয়ে চলে জোরেশোরে আয়োজন, যেমন ফার্মগেটের আঁখি টেইলার্সের দর্জি সাইফুল। দ্রুত কাজ শেষ করে ডেলিভারি দেওয়ার সুনাম রয়েছে তার। কোনো উত্সব ছাড়া সাধারণত কাপড় ডেলিভারি দিতে দেরি হয় না তার। কিন্তু এবার যেতেই মুখের উপর বলে দিলেন, ‘এইবার একটু দেরি হবে ভাই।’ কদিন দেরি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসের ১২ তারিখের পর। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, বেশিরভাগ কারিগর পুরান ঢাকায় পতাকা বানানোর কাজে ব্যস্ত। তিনি নিজেও নিয়েছেন বেশ কিছু বড় পতাকা তৈরির অর্ডার। এমনইভাবে চলছে বিশ্বকাপের তোড়জোর। ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নেই তাতে কি, খেলা নিয়ে আমাদের উন্মাদনা তো আর থেমে থাকতে পারে না। চারদিকে এখন ফুটবল বিশ্বকাপের জোয়ার। আর এই জোয়ারে ফুটবলপ্রেমীদের বিগত বিশ্বকাপগুলোর মতো এবারও নিজ নিজ প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা কিনছে সানন্দে। এরই মধ্যে পাড়া মহল্লা, বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা ছাদে নিজ পছন্দের দলের পতাকার দেখা মিলতে শুরু করেছে। আর এ জন্য এখন পতাকা ও নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করতে জার্সি কেনার ধুম চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে নানা জল্পনা কল্পনা, তর্ক বিতর্ক। কে জিতবে বিশ্বকাপ ২০১৪? প্রিয় দল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল না অন্য কোনো তৃতীয় শক্তি? এখন শুধুই অপেক্ষা।
ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা
১৯৮৬ সালেই ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ টিভিতে বিশ্বকাপ দেখানো হয়, সে বছরও বাংলাদেশের শতকরা ৯০ জন ছিল ব্রাজিলের সমর্থক। আর লাতিন আমেরিকান শক্তি এবং আর্জেন্টিনা তাদের বেশির ভাগেরই দ্বিতীয় পছন্দ। ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেওয়ার পর সিংহভাগ লোকই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেছে। কিন্তু গোলমালটা বাধিয়ে দিলেন ম্যারাডোনা, এমন ঐশ্বরিক কীর্তি করলেন যে যারা দেখল তারা ধরে নিল এই হলো ফুটবলের শেষ কথা। এর চেয়ে বড় কীর্তি কোনোদিন হয়নি, হবেও না। ব্যস, আর্জেন্টিনার আলাদা সমর্থক দল তৈরি হতে শুরু হলো। কিন্তু তখনও ব্রাজিল, ম্যারাডোনা এবং আর্জেন্টিনায় খুব বিরোধ নেই। তীব্র বিরোধটা তৈরি হলো আসলে ’৯০ বিশ্বকাপে যখন ম্যারাডোনা এবং ব্রাজিল মুখোমুখি। একটাকে বেছে নিতে হবে। সেই দিনই আসলে দুটি পথ দুটি দিকে বেঁকে গিয়ে এমন শত্রুতার আবহ তৈরি হয়েছে যে বিশ্বকাপে আবার দুটি দেশ মুখোমুখি হলে আমাদের দেশে সম্ভবত ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ হয়ে যাবে। ম্যারাডোনার সেই বিশ্বকাপ-কীর্তি সূত্রে নিরপেক্ষ তৃতীয় বিশ্বে আর্জেন্টিনার একটা সমর্থন-ভিত তৈরি হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মতো ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিভক্তি পৃথিবীর কোথাও নেই। কেন? বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বিভক্তির এই তীব্রতা বোধহয় আমাদের অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্রের বিভক্তি-চিহ্ন মুছে যাওয়া। একসময় ছিল আবাহনী- মোহামেডান, সেটা শেষ হয়ে গেছে এই প্রজন্মে এসে। এরপর ছিল ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলায় সেটার প্রভাবও এখন আর সেভাবে নেই। আমাদের প্রিয় খেলা ক্রিকেট, সেখানে সবাই বাংলাদেশের সমর্থক, ভাগ-বিভক্তি-লড়াই নেই। জিতলে সবাই লাফায়। হারলে সবার দুঃখ। অন্যান্য সব ক্ষেত্রে সেটা মুছে যাওয়াতে এ ক্ষেত্রে আমরা বিভক্তিকে আঁকড়ে ধরেছি আরও তীব্রভাবে। আর তাই বিশ্বকাপ মানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বিভক্তিও। সেই বিভক্তি আমাদের বিশ্বকাপ উপভোগ্যতাকে নিয়ে যায় চড়াইয়ের চূড়ান্ত বিন্দুতে। চার বছরের বিরহের পরের এক মাসের প্রেমটা তাই এমন আবেগময় হয়।
কোন দল এবার চ্যাম্পিয়ন হবে?
আমাদের দেশে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং জার্মানির সমর্থক বেশি। এর মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা একে অপরকে শত্রু মনে করে। ফেসবুকে চলছে এমনই যুক্তি তর্কের যুদ্ধ। ব্রাজিল দলের সেরা তারকা বিবেচিত হচ্ছে নেইমার। অবশ্য তাকে এড়িয়ে অস্কার, ফ্রেড, মাইকন, দানি আলভেজ, থিয়াগো সিলভা নামি খেলা উপহার দিতে পারে। আর্জেন্টিনার মেসি বন্দনা নিয়ে ব্যস্ত তার ভক্তরা। তবে অ্যাগুয়েরা, ডি মারিয়া কম নয়। উরুগুয়ে ফোরলান ও সানচেজ নিয়ে ব্যস্ত। মেক্সিকোর দলটি তারুণ্য নির্ভর। ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে সেরা স্পেন। তবে ইটালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, পর্তুগাল কেউ কারো থেকে কম নয়। মারিও বালতেল্লি ইটালির তারকা। পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বিশ্ব তারকা। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ তারকা না হলেও বাড়তি আকর্ষণ। হল্যান্ডের রোবেন ও ভ্যান পার্সি সেরা তারকা। বলে রাখা ভালো আফ্রিকার দম বেজায়। ফলে তারা অ্যাটাকিং ফুটবল খেলবে। তাদের হারানো কষ্টকর বটে। নাইজেরিয়ায় রশিদ ইয়োকোনীল না থাকলেও খেলা আকর্ষণ করবে সকলকে। ক্যামেরুন ভালো দল। এশিয়ার অন্যতম আকর্ষন অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া ইরানও রয়েছে তালিকায়।
বিশ্বকাপে মেড ইন বাংলাদেশ
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ক্রীড়া পোশাক তৈরির ব্যাপারটা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। অতীতে অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেই বাংলাদেশের তৈরি জার্সি ব্যবহূত হয়েছে। অনেক খেলোয়াড়দের গায়েই উঠেছে এ দেশের কারখানাগুলোয় তৈরি ক্রীড়া পোশাক। এবারের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের তৈরি প্রায় ৫৬ লাখ পিস্ ক্রীড়া পোশাক ব্রাজিলে রপ্তানি করা হয়েছে। এই ক্রীড়া পোশাকের মধ্যে রয়েছে হরেক রকমের জার্সি, ট্র্যাকস্যুটসহ অন্যান্য পোশাক সামগ্রী। ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল বাংলাদেশের তৈরি জার্সি পড়ে মাঠে নামবে—এমন একটি সংবাদ পাওয়া গেলেও সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সমর্থকদের কাছে বিক্রির জন্য ব্রাজিলের যে অফিসিয়াল জার্সিগুলো বিক্রি হবে, সেগুলো যে বাংলাদেশ থেকেই গেছে, এটা একেবারে নিশ্চিত। পুরো ব্যাপারটিই বাংলাদেশের জন্য গৌরবের, সন্দেহ নেই। তবে এই গৌরবের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে একরাশ গ্লানি। এ দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া দুটি বড় দুর্ঘটনার গ্লানি বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দেবে ব্রাজিল বিশ্বকাপ। ব্রাজিলীয় ফুটবল কনফেডারেশন বাংলাদেশের তাজরীন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত হাজার খানেক শ্রমিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সকল মার্চেন্ডাইজিং জার্সিতে লাগানো হবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে হতাহত কর্মবীরেরা আক্ষরিক অর্থেই জীবন দিয়ে দেশকে এই সম্মান বয়ে এনে দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারছি কী!
‘পতাকাযুদ্ধ’
বিশ্বকাপ জ্বর ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে সব প্রজন্মের ফুটবল ভক্তদের মাঝে। রাজধানীসহ দেশের নানা শহরে বাড়ির ছাদে-ছাদে শোভা পাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। এত পতাকার ভিড়ে বাংলাদেশের পতাকা পাওয়া দুষ্কর! বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ানোর চর্চা আমাদের দেশে নতুন নয়। এ নিয়ে রয়েছে কিছু আলোচনা আবার কিছু সমালচনা। যাই হোক কিছুটা সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ঘুরে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব অ্যালাবামা অ্যাট বার্মিংহাম’-এর কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাগিব হাসান লিখেছেন, ‘কাজে ওড়ান পছন্দের দলের পতাকা, মনের আনন্দে, কিন্তু একই সাথে বাংলাদেশের পতাকাও উড়ুক, আর উঁচুতে, আমাদের গর্বে, আনন্দ বেদনার চিরসঙ্গী হিসাবে।’
বি শ্ব কা পে প্র থ ম
প্রথম বিশ্বকাপ :প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে। উরুগুয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম স্বাগতিক দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
প্রথম গোল :ফ্রান্সের লুঁসিয়ে লরা (লুই লরেন্ট) ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম গোলদাতার গৌরব অর্জন করেন।
প্রথম লাল কার্ড :প্রথম বিশ্বকাপে উরুগুয়ের মন্টিভিডিওতে অনুষ্ঠিত পেরু ও রুমানিয়ার মধ্যকার ম্যাচে পেরুর মলিও ভেলা ক্যাসাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম লালকার্ড পেয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হন।
প্রথম হ্যাটট্রিক :১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার গুইলারমো স্ট্যাবিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন।
প্রথম ট্রফির মালিক :বিশ্বকাপ ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ জিতে জুলেরিমে বিশ্বকাপ ট্রফি চিরদিনের জন্য স্থায়ীভাবে নিজেদের দেশে নিয়ে যায়।
প্রথম রেফারি :প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলায় বেলজিয়ামের জাঁ ল্যাভেগানাস প্রথম রেফারি ছিলেন। ১৯৩০ সালের ফাইনালেও রেফারি ছিলেন তিনি।
প্রথম মাস্কট :১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম মাস্কট প্রচলন শুরু হয়।
প্রথম পেনাল্টিতে গোল :১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে ইতালির ইয়ারা গৌরি পেনাল্টিতে প্রথম গোল করেন।
ফাইনালে পেনাল্টিতে প্রথম গোলদাতা :১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে হল্যান্ডের নিসকেন্স পেনাল্টিতে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসের অংশ হন।
প্রথম আত্মঘাতী গোল :১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের গঞ্জালেস বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আত্মঘাতী গোল করেন।
প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন :১৯৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে স্বাগতিক উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।