প্রজন্ম ভাবনা

দুই প্রজন্মের বন্ধুত্ব গড়তে

বর্তমান প্রজন্মের সাথে আগের প্রজন্মের রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। আগে হয়তো কঠোর অনুশাসনের উপর সন্তান মানুষ হতো, আর এখন ঠিক তার উল্টো, এখন সন্তানকে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে, হতে হবে তার বন্ধু । নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কীভাবে ভবিষ্যত্ বিনির্মাণ করা যায় এমনই নানা আলোচনা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া সমবয়সী ছেলেমেয়েরা চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই একজন আরেকজনের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু একজন বাবা কিংবা মায়ের পক্ষে আপন সন্তানের সাথে এই বন্ধুত্ব চাইলেই সেভাবে করতে পারবেন না। কারণ বাবা-মায়ের সাথে যে বন্ধুত্ব তার ধরন স্বভাবতই বন্ধুর সাথে বন্ধুত্বের মতো হবে না এবং কিছু মৌলিক পার্থক্য থাকবেই, আর এটাই বাস্তবতা। তাই বলে এমনটি সঠিক নয় যে, সন্তানের সাথে আপনার বন্ধুত্ব হবে না, বন্ধুত্ব অবশ্যই হবে, তবে তার ধরন, এটি গড়ার প্রক্রিয়া হবে কিছুটা ভিন্নভাবে এবং ভিন্ন সময়ে। যদিও এর অনেকটাই নির্ভর করে পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর। বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই বা যেকোনো বয়সেই বন্ধুত্ব গড়া যায়—প্রচলিত এই কথাটি সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব গড়ার প্রশ্নে চলবে না। যাদের বাবা-মা দুজনই চাকরি বা ব্যবসা করেন, তাদের সন্তানদের কি অবস্থা সেই নির্মম আলোচনায় এখন যাব না। বলছিলাম সন্তানের বন্ধু হবেন যেভাবে। আগেই বলেছি সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব হতে হবে তার শিশু বেলাতেই, অর্থাত্ যত ব্যস্ততাই থাকুক সন্তান নিদ্রায় যাওয়ার আগেই আপনাকে ঘরে ফিরতে হবে এবং যতটা সম্ভব তার পাশে থাকতে হবে। অনেকেই হয়তো বলবেন, যে শিশু কথা বলতে পারে না তার পাশে বসে বা সময় কাটিয়ে কী হবে! পাশে বসে আপনি তাকে দেখবেন, সে আপনাকে দেখবে এবং তার কৌতূহলী দৃষ্টির সাথে স্নেহ সোহাগ মাখা কথা বলবেন, ওই সময়ে এটাই বন্ধুত্ব। এভাবেই সে আপনাকে চিনবে ও জানবে এবং বড় হতে হতে সম্পর্ক গড়াবে অটুট বন্ধুত্বের দিকে, একই সাথে বন্ধু ও বাবা-মা। যেসব পরিবারে এই বন্ধন গড়ে উঠেছে, সেসব ঘরে লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাবা-মা সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দেয়, এটা আমার বন্ধু বাবা অথবা সন্তান বলছে, এটা আমার আব্বু বন্ধু বা মামা বন্ধু। পরিবারে আমার স্ত্রী দিলরুবা বেগম এবং তিন সন্তানের মধ্যে বড় ডা. মাশরুরা রুবালিয়া, মেজো মেয়ে মাফরুজা রুবালিয়া (লিনা) এবং সর্ব কনিষ্ঠ ছেলে এ এস এম মুনাইমুল হোসাইন (সিজান), ট্রেনি পাইলট। প্রফেশনের বাইরে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার কারণে দিন-রাত অসম্ভব ব্যস্ত থাকতে হয় আমাকে।== কিন্তু ব্যস্ততা যতই থাকুক প্রতিদিন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে যে পারিবারিক বৈঠক হয়, সেটা কখনও মিস করিনা। আমার স্ত্রী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, তাকেও অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু ব্যস্ততা যতই থাকুক সন্তানদের সময় দেয়ার ব্যপারে তার কোন কার্পন্য নেই। ওরা সবাই মোটামোটি বড়ই এখন, ফলে ওদের নিজস্ব একটা জগত্ গড়ে উঠেছে, কিন্তু মা-বাবা তথা পরিবারের ব্যাপারে তারা বেশ সিনসিয়ার। প্রতিদিনের পারিবারিক বৈঠকটিতে তারা সানন্দে অংশগ্রহণ করে। কারণ এই বৈঠকটিতে আড্ডা হয়, যে আড্ডায় থাকে সমসাময়িক রাজনৈতিক, সামাজিক, বিশেষকরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলাধুলা সংক্রান্ত আলোচনা। সব শেষ বলব, ছেলেমেয়েদের পছন্দ-অপছন্দ জানার চেষ্টা করবেন এবং পড়ালেখার পাশাপাশি তারা অবসরটা যাতে পারতপক্ষে ঘরেই কিংবা বাইরে নিকটাত্মীয়দের সাথে বা ভালো বন্ধুদের সাথে আনন্দ করে কাটাতে পারে (ভালো হয় কোন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করলে) সেই সুযোগ করে দিন।