বাজেটে দৃঢ় আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৪, ২১:১৯
বাজেট উচ্চাভিলাষী নয় বরং দৃঢ় সংকল্পের যা বরং একটি উন্নয়ন বিলাসী। মুক্তি ও স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বৃহত্ রাজনৈতিক দলের জন্য এই বাজেট অবশ্যি মানানসই সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তবে সকল দলের গ্রহণীয়তা বা সমালোচনা যদি আমলে আনা হয়, তাহলে বাস্তবায়নের জন্য সফলতা বয়ে আনবে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে জনগণ আসবে ও থাকবে। তবে দুর্নীতি, সহিংস রাজনীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি প্রধান হুমকি। বাজেট ব্যবসায়ী ও অবকাঠামো উন্নয়ন তথা ধনী ও তাদের সমর্থকদের আরো ধনী ও সুবিধার জায়গায় নিয়ে যাবে। বাজেট গরীবকুলের নিরাপত্তাজাল সমর্থন বাড়ালেও তা তুলনামূলকভাবে বৈষম্য কমানোর জন্য মাত্র ও পর্যাপ্ত নয় ও ন্যায্যতার নয়। হয়ত বাজেটকে এভাবে বলা যায় ‘রুটি তৈরি আগে, ভাগ-বন্টন পরে’। বিপরীতে বৈষম্য ও সুষম বন্টন ব্যবস্থা ঠিক করতে হলে রুটি বানানোর পূর্বেই বাস্তবসম্মত বন্টন-হিস্যা ঠিক করতে হয়। এ বছরের বাজেটে এর প্রতিফলন না ঘটলেও ভবিষ্যতে নজর দিতে হবে। যেমন মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকার পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়িয়েছে তা চাহিদার ও সাম্যতার হিসাবে কম। ধনী গরীব বিভেদ কমানোর দৌড়ে, বৈষম্য থেকেই যায় বরং রাষ্ট্রযন্ত্র ও ধন-ভোগকারী চতুর্মুখী সমর্থক শক্তি, বৈষম্য গ্রহণযোগ্যতাকে আরো এগিয়ে দেয়। চলতি সামাজিক ব্যবস্থায় লালিতও হয়। সাম্যতা ও অধিকারকে নিশ্চিত করার জন্য নাগরিক সমাজের কাছে ন্যায্যতা কনসেশনের দৃষ্টিতে পাকাপোক্তভাবে স্থাপিত হয়।
ধনীদের সুপারক্সে, জেলা বাজেট, বাড়ি ভাড়া ব্যাংকিং মাধ্যমে কর, গরীবদের তালিকা তৈরি লক্ষ্যে ডাটা বেইজ, বিকেন্দ্রীকরণ ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য খুবই সহায়ক দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উদ্যোগ। তবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক দৃঢ়তা বহাল রাখতে হবে। নয় হাত শাড়ি দিয়ে, ঘরের বউ শাড়ি পরতে জানে না এ কথা বললে হবে না, শাড়ি দশ হাতি দিতে হবে। বছরকে বছর আমরা আকাশের তারা গুনতে পারি না, তাই আমাদেরকে অবশ্যি নির্বাচিত লক্ষ্য ও একটা বটম লাইন ঠিক করতে হবে। বটম লাইন হবে ‘মা’ এবং গরীব ও প্রথম মা। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে যেখান থেকে আমরা বিশ বছর এক প্রজন্ম মেয়াদী দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে ‘মা’ কেন্দ্রিক, ১. পুষ্টি, পানি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ২. শিক্ষা ৩. আবাসন ৪. জীবিকায়ন কর্মসংস্থান ৫. সঞ্চয় ও প্রয়োজনে উন্নয়ন ঋণসহ সমন্বিত ‘স্বপ্ন’ প্যাকেজ সূত্রপাত করতে হবে। সরকারকে অভিনন্দন ২০১৪-১৫ বাজেটে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় আওতায় পাইলট আকারে ৬ কোটি টাকায় সীমিত বাজেটের বাস্তবায়ন উদ্যোগ তৃণমূলের বাজেট ট্যাকিং সংগঠন ‘ডর্প’সহ শুরু করতে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের সদিচ্ছায় এটা মাইলফলক হিসাবে ঐতিহাসিক পথ-রচনা তৈরি হবে। সাহস ও স্বনির্ভর চেতনার প্রতীক যেমন নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ হতে যাচ্ছে যার জন্য আট হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ। অপরপক্ষে সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হবে ১২.৪ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা জাল বেষ্টনীতে আছে ৬.১% শতাংশ, ব্যবসা ব্যয় হ্রাসে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বরাদ্দ, এরকম প্রণোদনাসহ আরো কিছু খাত আছে যা এ সকল শ্রেণির নিরাপত্তার জন্যই।
এসবের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে অর্থাত্ মানব সম্পদ বিনির্মাণের জন্য, বছরে মাত্র পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বরাদ্দ রাখতে পারা কি বেশি? প্রয়োজন, পদ্মা সেতু। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের মত সাহসি সিদ্ধান্ত যা শেখ হাসিনাই দেখিয়েছেন এবং তিনিই পারবেন। এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক মুক্তির সোনার বাংলার পুনরাবির্ভাব ও ভিত্তি ঘটবে বলে আমরা দৃঢ় আশাবাদী।
এ প্রেক্ষিতে বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় দারিদ্র্য বিমোচন অথরিটি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানাই। একইসঙ্গে অনুশীলকৃত তথ্য-উপাত্ত প্রমাণিত পাবলিক পুয়র প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপিপি) ব্যবস্থা চালু করা হোক। দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হোক।
লেখক :উন্নয়ন কর্মী ও গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার লরিয়েট
nouman@dorpbd.org