সময়ের দাবি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাজ

বর্তমান সময়ে বলা হচ্ছে—তথ্যই শক্তি। এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যে ব্যক্তি যতবেশি তথ্য সমৃদ্ধ অর্থাত্ যার কাছে যতবেশি তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম বা উপায় থাকবে সে ব্যক্তি যুগের সঙ্গে ততবেশি তাল মিলিয়ে চলতে পারবে। অতীতে যেমন মানুষকে জ্ঞান অর্জনের জন্য দূর-দূরান্তের লাইব্রেরিতে ছুটতে হতো, এখন কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে যে কোনো দুর্লভ বিষয়ের তথ্য নিমিষেই সংগ্রহ করা যায়। দূর্লভ বইগুলো ইন্টারনেটের কল্যাণে ঘরে বসেই পাঠ করা সম্ভব। সময়ের এ অগ্রযাত্রায় মানুষ যেমনিভাবে তার সময়কে কাজে লাগাতে পারছে তেমনি অর্থও সাশ্রয় করতে পারছে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছে। যদিও দেশের এক-তৃতীয়াংশ জনপদের মানুষ এখনও বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন। সম্পূর্ণ দেশকে ডিজিটাল করতে চাইলে দেশের সর্বব্যাপী বিদ্যুত্ সংযোগ আবশ্যক। কম্পিউটার কিংবা এ জাতীয় ডিভাইস চালানোর জন্য বিদ্যুত্ হচ্ছে পূর্বশর্ত। তবু সরকারকে সাধুবাদ তারা অন্তত উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের সুফল দেশের বহু মানুষ পেতে শুরু করেছে। অতীতের বাংলাদেশের তুলনায় বর্তমান বাংলাদেশের যে পরিবর্তন হয়েছে তা অবশ্যই বিস্ময়কর কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। অনেক নিরাশার বানীর মধ্যে আশার বানীও কম নয়। মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের কল্যাণে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে মুহূর্তেই দেশ-বিদেশে ঘটে যাওয়া খবরগুলো জানা যাচ্ছে। প্রিন্ট মিডিয়া যেখানে তাদের সংবাদ পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সেই অসাধ্য কাজটিকে একেবারে সহজ করে দিয়েছে। শহরের একজন মানুষ বিশ্ব সম্পর্কে যতটুকু জানে তার চেয়ে বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন মানুষ কোনো বিষয়ে কম ধারণা রাখে না। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে জ্ঞানের সমতা বিধান সম্ভব হয়েছে। যদিও আনুপাতিক হারে শহরের শিশুদের চেয়ে গ্রামের শিশুরা এখনো অনেক পিছিয়ে তবু সরকার এবং বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানির সদিচ্ছা থাকলে অচিরেই এ পার্থক্য হ্রাস পাবে । কোনো জিনিসের যেমন ক্রিয়া আছে তেমনি প্রতিক্রিয়াও আছে । তথ্যপ্রযুক্তি কেবল দেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে না বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়েও দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ‘আকাশ সংস্কৃতি’ সব থেকে বেশি ভূমিকা পালন করছে । কিছু দেশে যা সংস্কৃতি আমাদের দেশে তা অপসংস্কৃতি। আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর সে সব অপসংস্কৃতি কোনো বাধা না পেয়ে প্রবেশ করছে। সুতরাং আকাশ সংস্কৃতির উন্মুক্ততা বিষয়ে ভাবতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির নেতিবাচক দিক বর্জন করে কীভাবে এর ইতিবাচক দিককে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধন করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে। সরকার দেশকে এবং দেশের শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এ সম্পর্কিত শিক্ষায় শিক্ষিত করছে। সরকারের দেখানো স্বপ্নকে দেশের মানুষের কাছে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারকে ব্যাপক পরিসরে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সকল শিক্ষার্থীর কাছে সম-বণ্টন নীতিতে তথ্যপ্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। দেশকে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পন্ন করার জন্য যতগুলো অন্তরায় আছে সেগুলো সরকারের গঠনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে দূর হবে বলে আশা করি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষমতা সকলের আছে। কাজেই যুব সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা সময়ের দাবি। পিরোজপুর