জঙ্গিদের বাগদাদ যাত্রা আটকে দিল ইরাকি সেনাবাহিনী
আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৪, ২০:১১
রাজধানীর কাছাকাছি বেশ কয়েকটি শহর দখল করার পর জঙ্গিদের বাগদাদ অভিমুখে যাত্রা ইরাকের সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। বিদ্রোহীদের দখলে থাকা শহরগুলোতে সরকারি সেনাদের গণহারে হত্যা করা হয়েছে বলে এরই মধ্যে অনলাইনে ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করলেও দেশটি ইরাকে বিদেশি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সতর্কতা উচ্চারণ করেছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার দাবি করেছেন, ইরাকের বর্তমান সঙ্কটের জন্য ২০০৩ সালের পশ্চিমা আগ্রাসন দায়ী নয়।
আল কায়েদা সমর্থিত সুন্নি বিদ্রোহীদের রাজধানী বাগদাদ অভিমুখে যুদ্ধযাত্রা রুখে দেয়ার চেষ্টা করছে ইরাকের সরকারি বাহিনী।
এদিকে, বেশ কয়েকটি শহর দখল করে রাখা সুন্নি জঙ্গিরা অনলাইনে এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে যাতে দেখা গেছে ইরাকি সেনাদের গণহারে হত্যা করা হয়েছে। ছবিগুলোতে ধরা পড়া সেনা সদস্যদের তাড়িয়ে নেয়ার দৃশ্য এবং ‘হত্যা’ করার আগে ও পরে তাদের ট্রেঞ্চে শায়িত অবস্থায় দেখা গেছে। বিবিসি জানিয়েছে, ছবিগুলো বিশ্বাসযোগ্য এবং এগুলো দেশটির সালাহউদ্দিন প্রদেশে তোলা বলে ইরাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসিম আল মুসাবি নিশ্চিত করেছেন। তবে ছবিগুলোতে যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিরপেক্ষ কোনো সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যদি এ ঘটনাগুলো সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তা হবে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক দখলের পর থেকে সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতার ঘটনা।
ইরাকে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা মোকবেলায় ইতিমধ্যে আরব উপসাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ইরাকি নেতারা তাদের মতভেদ দূর করতে পারলেই জঙ্গি তত্পরতা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সফল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অপর এক শীর্ষ কর্মকর্তা রবিবার বিবিসির প্রতিনিধিকে বলেছেন, ইরাকে সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে ইরান বলেছে, ‘ইরাকে কোনো বিদেশি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ সংকটকে শুধুমাত্র আরো জটিল করে তুলবে’। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিহে আফখাম এ মন্তব্য করেন।
এদিকে, ইরাকের বর্তমান সঙ্কটের জন্য ২০০৩ সালের পশ্চিমা আগ্রাসন দায়ী নয় বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। বিবিসিকে ব্লেয়ার বলেন, ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের ফলেই ইরাকে আজকের এ সঙ্কট সৃষ্টি হয়নি। এছাড়াও অন্য একটি ‘বড় সমস্যা’ এখনো আছে। ইরাকের চলমান সঙ্কটকে একটি ‘আঞ্চলিক সঙ্কট’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে করে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ব্লেয়ার তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, সিরিয়া-সঙ্কট নিয়ে পশ্চিমা নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা থেকেই আজ ইরাকের এ অবস্থা। তবে সমালোচকরা ব্লেয়ারের বক্তব্যকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তিনি (ব্লেয়ার) তার সব দায়-দায়িত্ব এড়াতে চাইছেন।