বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৪, ২০:৩৮
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে
নতুন এক অধ্যায়ের
সূচনা ঘটবে
দক্ষিণ এশিয়ার দুইটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত, বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের সাহায্য অতুলনীয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই অবদানের মত ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকবে চির অম্লান। যদিও রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে একটি দেশের অনেক পরিবর্তন সাধিত হয় যা তার পার্শ্ববর্তী দেশের উপর প্রভাব পড়ে। যদিও তিস্তা চুক্তি প্রভৃতি নিয়ে এখনও সংশয়। আমার মতে, বিজেপি’র সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বিগত বছরগুলোর চেয়েও আরও সাফল্যের দিকে। শুরু হবে নতুন এক বন্ধুত্বের সূচনা। উন্মোচন হবে নতুন এক ধারা।
নাঈম ইসলাম
১ম বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বিজেপি আগের
সরকারের মত
আচরণ করবে
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশ নিয়ে কিছু কটু কথা বলেছিলেন। যা ছিল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আমরা আশা করি, প্রতিবেশী দেশের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক থাকুক। আমরা চাই মোদী সরকার অতীতের সরকারের চাইতে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সীমান্ত হত্যা, তিস্তা চুক্তি, ছিটমহল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত এগিয়ে আসুক। সর্বোপরি আমরা চাইব ব্যবসায়িক উন্নয়ন, সীমান্ত হত্যা, তিস্তা চুক্তি, ছিটমহল ইত্যাদি। সমস্যাগুলো সমাধানের মধ্য দিয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক গড়ে উঠুক।
মো. আমির হোসাইন আদি
বিএসসি (অনার্স) ১ম বর্ষ
বিভাগ পরিসংখ্যান, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
ঢাকা-দিল্লি
সম্পর্ক সবসময়ই
ভাল থাকবে
ভারতের নির্বাচনের আগে অনেক পর্যবেক্ষকই বলে এসেছিলেন যে, এবার কংগ্রেসের ভরাডুবি হবে। এবার নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিই ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করবে। সত্যি হয়েছেও তাই। কংগ্রেসের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। অর্থনীতিতে ধস পড়তে শুরু করে। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ এর সঠিক জবাব দিয়েছে। যদিও অনেকে মনে করেন কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারের ঘনিষ্ঠতা ছিল কিন্তু তাই বলে এই নয় যে, নতুন সরকারের সঙ্গেও সম্পর্ক হবে না। সবারই এটা জানা উচিত উন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পূর্ব থেকেই পরিকল্পনা করা থাকে। যে দলই ক্ষমতায় থাক না কেন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হলে দেশ উন্নত, সমৃদ্ধ ও অগ্রগতির পথে এগোতে পারে না। ভারত একটি সুপার পাওয়ার দেশ। আর প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে নাড়ীর সম্পর্ক। তাই যে সরকারই আসুক না কেন প্রতিবেশি দেশ হিসাবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক সবসময়ই ভাল থাকবে।
সুস্মিতা আচার্য্য
লোক প্রশাসন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ-ভারত
সম্পর্কে কোন প্রভাব
পড়বে না
প্রতিবেশী দেশ ভারতে সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি’র জয় এবং সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেমন হবে, সম্পর্ক কি আগের মত থাকবে না কি পরিবর্তন হবে না কি কংগ্রেস সরকারের সাথে যে সম্পর্ক ছিল তার থেকে উন্নয়ন ঘটবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে কানাঘুষা চলছে। কিন্তু আসল ব্যাপার হল, ভারত এখন পর্যন্ত তাদের স্বার্থের বাইরে কিছু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের স্বার্থ আমাদের আদায় করে নিতে হবে। অমীমাংসিত বিষয়গুলোর জন্য চাপ দিতে হবে। আরেকটা বিষয় বাংলাদেশে বিদ্যমান দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল যদি হিংসাত্মক রাজনীতি ত্যাগ না করে তবে ভারত অবশ্যই আমাদের দুর্বলতাগুলো তাদের স্বার্থে ব্যবহার করবে। সুতরাং বিজেপি’র জয় আমাদের দেশের সাথে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না যদি না আমরা আমাদের অধিকারগুলো আদায় করতে পারি।
মো. নাহিদ হোসেন
আইন বিভাগ, ৩য় বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নিজেদের স্বার্থের
ব্যাপারে আপোষহীন
থাকতে হবে
ঐতিহাসিকভাবেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক আছে। দুই দেশের সম্পর্কের একটা দীর্ঘ ঐতিহ্যও আছে। যেহেতু গণতান্ত্রিক দেশের নিয়মই হচ্ছে সরকার বদলাবে, সেহেতু ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হলেও রাতারাতি সেই সম্পর্ক পাল্টে যাবে বলে মনে হয় না । তাছাড়া প্রতিবেশী দুটি দেশ হিসেবে আমাদের সম্পর্ক ভালো না থাকলে একটা সময় আঞ্চলিক সমস্যাগুলো আমাদের প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের মতো সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে । ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অনেক বিষয় আছে যার মধ্যে পানি একটি বড় সমস্যা । যদি এই পানি সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তাহলে হয়তো দুই দেশের মধ্যে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে। এতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের আরও উন্নতি হবে। তাই ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় কারা এলো সেদিকে তাকিয়ে না থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিজেদের স্বার্থের ব্যাপারে আপোসহীন থেকে ভারত সরকারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
জাহিদ হাসান
মাস্টার্সে অধ্যয়নরত
বায়োএনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়