অ্যান্ড্রয়েড ও উইন্ডোজ ফোনে ‘কিল সুইচ’ যুক্ত

পছন্দের ফোনটি হারিয়ে গেলে ফোনে সংরক্ষণ করা সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বিপাকে পড়ে যান ফোনের ব্যবহারকারীরা। বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের চুরি যাওয়ার পরিমাণও নেহায়েত কম নয়। কাজেই ফোনটি হারিয়ে গেলে যাতে সেটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে অচল করে দেওয়া যায়, তার সুবিধা যুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি ছিল ব্যবহারকারীদের। এর মধ্যে স্যামসাং তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোন গ্যালাক্সি সিরিজে এবং অ্যাপল তাদের আইফোনে এই সুবিধা যুক্ত করেছে। এবারে অ্যান্ড্রয়েড এবং উইন্ডোজ ফোনেও যুক্ত হলো এই সুবিধা। ‘কিল সুইচ’ নামের এই বিশেষ ফিচার অ্যান্ড্রয়েড এবং উইন্ডোজ ফোনের পরবর্তী সংস্করণগুলো থেকেই ব্যবহার করা যাবে। নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে একটি প্রতিবেদনে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নকিয়ার উইন্ডোজ ফোনগুলোর পরবর্তী সংস্করণেই যুক্ত হবে কিল সুইচ। আর অ্যান্ড্রয়েডের পরবর্তী সংস্করণেই যুক্ত হবে এই সুবিধা। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংস্করণগুলোর অবমুক্তির সময় এই ফিচারের বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ‘কিল সুইচ’ চালু হওয়ার মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড এবং উইন্ডোজ ফোন—উভয় ডিভাইসই চুরি হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে যেকোনো স্থান থেকেই সেটিকে ব্যবহারকারী বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে করে ওই ডিভাইসটি যথার্থ ব্যবহারকারীর অনুমোদন ছাড়া আর চালু হতে পারবে না। ফলে ফোনের সব তথ্যই সুরক্ষিত থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ডিভাইসের চুরির হার বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই ফিচারটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩.১ মিলিয়ন মোবাইল ডিভাইস চুরি হয়। একই সময়ে ইউরোপের এক-তৃতীয়াংশ মানুষই মোবাইল হারিয়েছে। আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১২ সালে মোবাইল চুরি বেড়েছে প্রায় চার গুণ। সবমিলিয়ে ‘কিল সুইচ’ ছিল একটি সময়ের দাবি। আর সেটিরই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ও উইন্ডোজ ফোনের আসছে সংস্করণে।