বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক:উন্নতির সম্ভাবনা বাংলাদেশ যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, সুতরাং সামান্য প্রভাব পড়াটা স্বাভাবিক। তবে মোদী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যে বন্ধুসুলভ আচরণ দেখিয়েছেন তাতে মনে হয় তিনি বাংলাদেশ তথা সার্কভুক্ত দেশসমূহের প্রতি অনেকটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অবনতি নয় বরং উন্নতিই প্রত্যাশা করা যায়। তবে সীমান্তে বাংলাদেশিদের যেভাবে অত্যাচার করা হয় তার প্রতিবাদ, প্রতিকার তথা সমাধানের উপায় খুঁজে বের না করলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। শংকর বিশ্বাস ফিশারিজ অনুুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। === ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নতির প্রত্যাশা করছি ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি বিপুল আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে এবং দলের মনোনীত নরেন্দ্র মোদী একজন সুকৌশলী প্রধানমন্ত্রী তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ তার প্রমাণ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেই পাওয়া যায়। এখনও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের উন্নতি-অবনতি খুব স্পষ্ট না হলেও উন্নতি প্রত্যাশা করছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশকে যে উপকার করেছে তার পেছনেও বড় একটা স্বার্থ ছিল। তবে স্বাধীনতার স্বাদ আরও ভালভাবে পূর্ণ হতো যদি মাওলানা ভাসানীর উক্তির বাস্তব প্রতিফলন ঘটতো। মো. মশিউর রহমান রিয়াজ কৃষি অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। === ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে পররাষ্ট্রনীতিতে সতর্ক থাকতে হবে সদ্যসমাপ্ত ভারতীয় জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি এবং বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ভারতীয় উপমহাদেশে একটি বার্তা বহন করে বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। এই সরকার পরিবর্তন আমাদের দেশের সাথে ভারতের একটা প্রভাব পড়তে পারে। এখন প্রভাবটা কেমন? আগে যখন কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল তখন আমাদের দেশের সাথে ভারতীয় সরকারের খুব একটা প্রেমপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে মনে হয় না। তার সাক্ষী বেশ কয়েকটি ঘোষিত-অঘোষিত বিবাদ। যেহেতু সরকার পরিবর্তন হয়েছে সুতরাং আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োগে সতর্ক হতে হবে। ভারতের সাথে আমাদের বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। যেমন- সীমান্ত হত্যা, ছিটমহল সমস্যা, তিস্তা চুক্তি ইত্যাদি। এসব সমস্যা সম্পর্কে যদি আমাদের পররাষ্ট্রনীতি বিচক্ষণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে তাহলে প্রভাব আমাদের অনুকূলে থাকবে এবং আমরা উপকৃত হব। মো. মাহবুবুর রহমান তৃতীয় বর্ষ, এগ্রিবিজনেস ফ্যাকাল্টি শেরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় === ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কেমন হবে তা সময়ই বলে দেবে সমপ্রতি ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর শোচনীয় ভরাডুবি ঘটেছে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ১৫৩ বছরের পুরোনো ধর্মনিরপেক্ষ দল কংগ্রেসের। হতে পারে বিজেপি ধর্মব্যবসায়ী তারপরেও ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে বিজেপি নেতা গুজরাটের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ধর্মের ভিত্তিতে গোটা ভারতবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বিজেপির বিজয় এটাই প্রতীয়মান হয় যে এই উপমহাদেশে ধর্মই একমাত্র প্রধান ইস্যু। এখানে পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেয়া ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। কারণ লাখ লাখ বছর ধরে হিন্দু রাজারা ধর্মের ভিত্তিতে অর্থাত্ শাস্ত্রীয় আইন দিয়ে ভারত শাসন করেছেন; আবার যখন ইসলাম আসলো তখনও মুসলিম শাসকরা ধর্মের বিধান দিয়ে ভারত শাসন করেছেন। ব্রিটিশদের চাপিয়ে দেয়া ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র এই উপমহাদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা, সমাজ-কাঠামো এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হচ্ছে হিন্দু। তাই হিন্দু ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজেপিকে নিরঙ্কুশভাবে জয়ী করে ক্ষমতায় বসিয়েছে । মোহাম্মদ ইয়ামিন খান শিক্ষার্থী, মাস্টার্স, ইংরেজি বিভাগ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর। === ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ভালই থাকবে ভারত বাংলাদেশের একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আর প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক ভাল থাকাটাই স্বাভাবিক। যদিও মোদি নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘হিন্দুরা আমার ভাই আর মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে’। এর দ্বারা অনেকেই ধরে নিয়েছিল বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভাল হবে না। কিন্তু নির্বাচনের পরে মোদি প্রতিবেশী রাষ্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রী সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সফরে আসবেন। আবার মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে মমতার সাথে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন। এ থেকে বোঝা যায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ভালই যাবে। মো. হামিম শরীফ ম্যাটেরিয়ালস্ সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৩য় বর্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়