ব্যক্তিত্বের সংঘাত এড়িয়ে চলতে

সমাজে চলতে গেলে আপনার সাথে অপরের মতের মিল নাও হতে পারে। বস বা সহকর্মীর সাথে ব্যক্তিত্বের সংঘাত এগিয়ে না চললে পারস্পরির সদ্ভাব বজায় রাখা যায় না। ব্যক্তিত্বের সংঘাত এড়িয়ে পুরোপুরি টেনশন ফ্রি থাকার কয়েকটি সহজ উপায় সম্পর্কে লিখেছেন সাইফুল ইসলাম জুয়েল অফিসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মিসেস সোহানীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না মিস রেহানার। একই সেকশনে কাজ করার পরেও কেউ কারো ফাইল করার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র হেল্পফুল নন। যেদিন মিস রেহানা অফিসে এলেন না সেদিন মিসেস সোহানী সোজা তাদের বসের কাছে নালিশ পেশ করলেন—আজ মিস রেহানার ফাইল তিনি কিছুতেই করতে পারবেন না। সে যে পদ্ধতিতে ফাইলটা রেডি করছিলেন সেটা ছিল ভুলে ভরা। এখন করতে হলে তাকে সব নতুন করে করতে হবে। পর দিন অফিসে এসে নিজের বিরুদ্ধে এই ‘ভুলের’ অভিযোগ শুনে মিস রেহানা তো ফায়ার। ভাবলেন—আজই অফিসের সবাইকে ডেকে মিটিংয়ে বসবেন। আর সেখানে মিসেস সোহানীকে একটা উচিত শিক্ষা দিতেই হবে! কর্মক্ষেত্রে মত নিয়ে বিরোধ কোনো নতুন ঘটনা নয়। একই কাজে নিয়োজিত দুই সহকর্মীর মধ্যে চিন্তাভাবনার ফারাক, কাজ করার পদ্ধতির পার্থক্যের জন্য মতের অমিল হতেই পারে। কিন্তু এই সাময়িক ফাটলটা বাড়তে বাড়তে একসময় সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তখন বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই একে অপরের সঙ্গে চলতে থাকে ব্যক্তিত্বের লড়াই। এক কথায় ‘ইগো ক্ল্যাশ’। কী করবেন  অফিসের কাজ সংক্রান্ত কোনো বিরোধের সময় কথাবার্তার অভিমুখ যেন সব সময় কাজের উন্নতির দিকে হয় সে দিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন। আলোচনার সময় নিজের পদাধিকার, ক্ষমতা বা রিজিডিটি দূরে সরিয়ে খোলা মনে অন্যের মতামত গুরুত্ব দিয়ে বিচার করুন। নতুন এক্সপেরিমেন্ট থেকে পুরোপুরি মুখ ঘুরিয়ে থাকা কিন্তু নিজে পিছিয়ে পড়ারই নামান্তর।  অফিশিয়াল মিটিংয়ের সময় সব সিদ্ধান্ত আপনার মনের মতো না হলেও চেষ্টা করুন একটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে। কিছুটা ফ্লেক্সিবল হয়ে অন্যের কিছু কিছু মতামত মেনে নেওয়া মানে পরাজয় স্বীকার নয়। কলিগদের যুক্তি মেনে নিলে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হবে, যার ভিত্তিতে আপনিও ভবিষ্যতে তাদের কনভিন্স করতে পারবেন।  মতবিরোধের সময় মেজাজ যতই খারাপ হোক গলা চড়িয়ে তর্কবিতর্ক চালাবেন না। এটা অফিসের ডিসিপ্লিনবিরুদ্ধ অশালীন ব্যবহার। ঠাণ্ডা মাথায়, যুক্তি সাজিয়ে নিজের মতামত সবার সামনে উপস্থাপন করুন। তাতে সামান্যই কাজ হোক, সেটাই পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করুন। খানিকটা হলেও আপনার চেষ্টার সুফল ভবিষ্যতে পাবেন।  অফিসের কোনো মিটিং বা আলোচনায় আপনার কোনো মতামত যদি গ্রহণ করা না হয়, তাহলে সেটা ব্যক্তিগত হার হিসেবে দেখবেন না। কোনো সহকর্মী বা বসের সঙ্গে রাগ পুষে রাখাও বোকামি। কারণ, তাতে আপনার মানসিক চাপ বাড়বে বৈ কমবে না। যারা আপনার বিরোধিতা করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের অপমান করা বা অসুবিধায় ফেলা কুরুচির পরিচয়। এতে সহকর্মীরা আপনার উপর বিশ্বাস হারাবেন।  অফিসের কাজ সংক্রান্ত কোনো মতবিরোধের সময় কারও ব্যক্তিগত জীবন বা সম্পর্কের জের টেনে তাকে বিব্রত করা অত্যন্ত অন্যায়। কলিগদের সব সময় তাদের পারফর্মেন্স এবং এফিশিয়েন্সি অনুযায়ী বিচার করুন। যদি নিজে এ ধরনের মন্তব্যের শিকার হন, তা হলে তত্ক্ষণাত্ প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজন বোধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।