বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে ভারতের সরকার পরিবর্তন হয়েছে সে দেশের মানুষ চেয়েছে বলে এতে বাংলাদেশের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না তবে রাজনীতির উপর একটু প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ হিসাবে ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিলো তাদের প্রয়োজনে আমরা আমাদের প্রয়োজনে তারা। সম্পর্ক বন্ধুত্ব থাকবে, সরকার পরিবর্তন তাই কিছু কিছু ব্যাপার পরিবর্তন হবে আর হওয়াটা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে যেমন বলা যায় ভারতে অনুপ্রবেশ অবাধে হচ্ছে, বসবাস অবৈধভাবে, ক্ষমতাসীনরা সুযোগ-সুবিধা একটু বেশি নিচ্ছে হয়তো এই বিষয়গুলো একটু হলেও পরিবর্তন হবে। মো. দেলোয়ার হোসাইন মাস্টার্স ১ম বর্ষ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মহাখালী, ঢাকা। ভারত নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মোদি সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া ভারতে যখন যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, জাতীয় স্বার্থে তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে কোন পরিবর্তন আসে না। বাংলাদেশ ভারতের এক বিশাল বাজার, ভারত নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখবে। সমপ্রতি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক ”যুগশঙ্খ” পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ভারতের মোদি সরকার বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে নির্দিষ্ট বয়সের বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা ছাড়া ভারত ভ্রমণের প্রস্তাব রয়েছে। তাই ঢাকা-দিল্লি দৃঢ় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাও একটি পদক্ষেপ হতে পারে। শোয়েখ মোহাম্মদ রাব্বি বিবিএ, ২য় বর্ষ, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ধানমন্ডি ক্যাম্পাস, ঢাকা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নতির সম্ভাবনা নেই কংগ্রেস সরকার-এর সাথে বর্তমান সরকার-এর খুব ভাল সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকার থেকে আমরা ভালো আচরণ পাই নাই। তিস্তা, পানি বণ্টন, সীমান্ত সমস্যা, ছিটমহল-এর মত সমস্যাগুলোর সমাধান হয় নাই। বর্তমান ভারত সরকার বিজেপির সাথে আমাদের সরকার-এর সম্পর্ক তেমন একটা ভালো হবে আশা করা যায় না। ভারত সবসময় নিজেদের স্বার্থটাই বেশি দেখে। তাই সমস্যাগুলোর সমাধান তেমন একটা বেশি আশা করা যায় না। মোহাম্মাদ ইয়াছিন বিবিএ, ২য় বর্ষ, বিজেপির জয়ের পরেও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অটুট থাকবে ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র। প্রতিবারই ঘাটতি বাজেট পূরণের জন্য অন্য রাষ্ট্রের শরণাপন্ন হতে হয়। অন্যদিকে ভারত অর্থনীতির দিক থেকে অনেক এগিয়ে। সেদেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করার জন্য দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক বজায় থাকবে। কেননা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যতটা উপকৃত হয় তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয় ভারত। যেমন বাংলাদেশের করিডোর ব্যবহারের ফলে ভারতের ব্যবসায়ের পরিবহন খরচ অনেকাংশেই কমে গেছে। তাই অর্থনৈতিক স্বার্থেই দু’দেশের সম্পর্ক বজায় থাকবে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ ভারতের কাছে একটি ট্রানজিটের দেশে পরিণত হয়েছে। ভারত ট্রানজিট ব্যবহারের স্বার্থেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অটুট রাখবে। তাই আমি মনে করি মৌলিক কারণেই দু’দেশের সরকারই পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অটুট থাকবে। মো: আসাদুজ্জামান আসাদ হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ। ভারত-বাংলাদেশ দু’টি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিভক্ত হয়। এ দু’সময়েই ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ছিল এবং প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা সাহায্য করেছে। আমাদের বিভিন্ন সুখ-দুঃখের ভাগিদার হয়েছে। বাংলাদেশ বা ভারতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এই প্রতিবেশী সম্পর্কের উপর কখনো প্রভাব পড়েনি। বর্তমানে ভারতের ক্ষমতায় আছে বিজেপি। বিজেপি ক্ষমতায় আসায় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নির্ভর করছে দুই দেশের সরকারের মধ্যে। তারা যদি চায় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে ভালো করা দরকার তাহলে ভালো হবে। আর যদি মনে করে যেমন আছে তেমন থাকবে তাহলে সেভাবেই কাজ হবে। সার্বিকভাবে দেখলে বোঝা যায় ভারত-বাংলাদেশ দু’টি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে যতটুকু সম্পর্ক রাখা দরকার ততটুকু বজায় থাকবে। তবে আশা করা যাচ্ছে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো হবে। আব্দুল্লাহ আল ফারুক শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া