রাজধানীতে নাগরিক বিড়ম্বনার একটি দিক

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল একটি শহর। বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, ঢাকা এভাবে সমপ্রসারিত হইতে থাকিলে ২০২৫ সাল নাগাদ ইহার জনসংখ্যা ২ কোটি ছাড়াইয়া যাইবে। এই নগরজীবনের একটি অনুপেক্ষণীয় সমস্যা হইল, চলমান বা ভ্রাম্যমাণ নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব। বর্তমানে দেড় কোটি লোকের বসবাস এই ঢাকা মহানগরীতে ২০ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে নগরীর এক প্রান্ত হইতে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত যাতায়াত করিয়া থাকেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আছে রিক্সাচালক যাহাদের নাগরিকবোধ ততটা উন্নত নহে। ইহাছাড়া প্রতিদিন গ্রাম-গঞ্জ হইতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ এই রাজধানীতে প্রবেশ করেন। তাহাদের মধ্যেও অসচেতন মানুষের অভাব নাই। সর্বোপরি যখন কোন উপায়ান্তর থাকে না, তখন এক্ষেত্রে কোন প্রকার সচেতনতাও কাজ করে না। ফলে এই মহানগরীতে আমরা প্রতিদিন বিব্রত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যাহা পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। এখন প্রশ্ন হইল, তিলোত্তমা নগরীর এই হাল কেন হইল? ইহার প্রথম কারণ রাজধানীতে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নাই। যাহা আছে তাহার অবস্থাও শোচনীয় ও বেহাল। সমপ্রতি একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে মোট ৬৭টি পাবলিক টয়লেট বা শৌচাগার আছে। ইহাছাড়া কিছু ভ্রাম্যমান টয়লেটও মাঝে মাঝে চালু দেখা যাইতো। তন্মধ্যে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি শৌচাগার সম্পূর্ণরূপে চালু আছে। আর অধিকাংশই মূলত আংশিকভাবে চালু রহিয়াছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই ভাঙা-চোরা ও জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থা বিরাজমান। এসব শৌচাগারের ৪৩ ভাগে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হয় এবং ২০ ভাগে লাইটিং সুবিধা কার্যকর আছে এমন তথ্যও পাওয়া যায়। এইগুলি যাহাদেরকে লিজ দেওয়া হইয়াছে, তাহারা নিয়মিত চুক্তি লঙ্ঘন করিয়া চলিলেও সিটি করপোরেশন তাহাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতেছে না। মামলা-মোকদ্দমা থাকার কারণে অনেক শৌচাগারের ওপর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ নাই বলিয়াও জানা গিয়াছে। দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার কারণেও অনেক সমস্যা তৈরি হইয়াছে। যে হারে মহানগরীতে জনসংখ্যা বাড়িতেছে, সে হারে এই ধরনের সুবিধা সম্বলিত অবকাঠামো না বাড়িলে এই সংকট শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়া উপনীত হইবে তাহা চিন্তা করাও কঠিন। ২০০৫ সালে জাতীয় স্যানিটেশন স্ট্রাটেজি গ্রহণ করার কারণে সারাদেশের বিবেচনায় আমরা এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করিয়াছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কার পরই এই ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান মজবুত। অনুরূপভাবে রাজধানী ঢাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পাবলিক টয়লেট নির্মাণে বিভিন্ন মেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। এসব টয়লেট বা শৌচাগারে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা একান্ত কাম্য। কেননা তাহারাই এক্ষেত্রে অধিক বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগের শিকার হইয়া থাকেন। তাই এ খাতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।