রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালখাদ্য প্রতিরোধ

প্রতি বছর রমজান মাস এলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি করার প্রবণতা দেখা দেয়। এতে করে সংযমের পবিত্র এই মাসটিও মহাসংকটে কাটাতে হয়। একদিকে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি আর অন্যদিকে রাস্তার পাশে ফুটপাথের দোকানগুলোতে হরদম বিক্রি চলে অস্বাস্থ্যকর খাবার—যা খেয়ে নিম্নআয়ের রোজাদার মানুষেরা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। রমজান মাসে জনজীবনে দারুণ দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য মূলত কতিপয় প্রতারক ব্যবসায়ীই দায়ী। দেশের প্রচলিত আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ঠিক তেমনি অধিক মুনাফার লোভে পড়ে খাদ্যপণ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষের জীবনকে হুমকির সম্মুখীন করে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই রমজান মাসে ফলমূলের চাহিদা বাড়ে। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা ফলের দাম বাড়িয়ে দেয়। বেশি দাম দিয়ে কিনেও ঠিক জিনিসটা ক্রেতার কপালে জুটছে না ফরমালিন নামক বিষের কারণে। আম, পেঁপে,আঙুর, কলা থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের টমেটো, মাছ পর্যন্ত কিসে নেই বিষাক্ত এই ফরমালিন! কার্বাইডে পাকানো ফল খেয়ে আমাদের শরীরে সৃষ্টি হচ্ছে বিষক্রিয়া। মাছে ফরমালিন, ফলে কার্বাইড, শাকসবজিতে বিষাক্ত কীটনাশক, চালে ক্রোমিয়াম, গরু-ছাগলকে মোটাতাজা করতে ব্যবহূত হচ্ছে স্টেরয়েড। শুঁটকিতেও ব্যবহূত হচ্ছে বিষাক্ত কীটনাশক। বিশেষ করে আম, পেঁপে, আপেল, কলা ইত্যাদি ফল সুরক্ষার জন্য যেসব রাসায়নিক স্প্রে করা হয়, তা মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল খাদ্য খেয়ে মানুষের কিডনি, লিভার,পরিপাকতন্ত্র, হূদযন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এমনকি এর ফলে মানবদেহে প্রাণনাশক ক্যান্সার রোগের প্রবণতাও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জীবনের জন্য অপরিহার্য যে পানি তাও এখন নিরাপদ নয়। বোতলজাত পানি পানও নিরাপদ নয়। এতে পানিবাহিত রোগের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। ফরমালিন মিশ্রিত যে তাজা মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে তা খেয়ে আমাদের হার্ট, লিভার, মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। অল্পসময়ের মধ্যে মুরগির মাংস অধিক বৃদ্ধি করতে যে স্টেরয়েড ব্যবহূত হচ্ছে তা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। রাসায়নিকযুক্ত বিভিন্ন খাবার খেয়ে মানুষ অসুস্থতার কারণে যখন নিরুপায় হয়ে চিকিত্সকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করে—তখন হিতে হয় বিপরীত। কারণ ওষুধের গুণগত মানেও রয়েছে ভেজাল। আমাদের দেশে সুযোগসন্ধানী মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যদ্রব্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অধিক লাভের আশায় অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। এতে করে সীমিত ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। তাই স্বার্থপর ব্যবসায়ীরা যাতে বিশেষ করে এই পবিত্র মাসকে কেন্দ্র করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একইসঙ্গে জোরদার করা হোক খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ অভিযান। ঢাকা