সুয়ারেজ কেন কামড়ায়?

মাত্র এক ম্যাচের ব্যবধানে কিভাবেই না বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোল লুইস সুয়ারেজ গোটা বিশ্বের কাছেই হয়ে গিয়েছিলেন নায়ক। কিন্তু ইতালির বিপক্ষে এর পরের ম্যাচেই ঘটলো বিপত্তি। জর্জিও চিয়েলিনিকে কামড় দিয়ে পৃথিবীর কাছে তিনি এখন ভিলেন। সুয়ারেজের জন্য বিশ্বকাপটাও তাই সেখানেই শেষ হয়ে গেল। অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য সুয়ারেজ অবশ্য বেশ আগে থেকেই আলোচিত এক চরিত্র। চার বছর আগে বিশ্বকাপে ইচ্ছাকৃত ভাবে হ্যান্ডবল, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্যাট্রিক এভরার সাথে বর্ণবাদী আচরণ — এসব তো আছেই, পেশাদার ক্যারিয়ারেই মোট তিন বার ‘কামড়-কাণ্ড’ ঘটিয়েছেন সুয়ারেজ। ২০১০ সালে আয়াক্সে থাকতে পিএসভি আইন্দোভেনের মিডফিল্ডার অটোমান বাক্কালকে কামড় দিয়েছিলেন উরুগুয়ের এই তারকা। এরপর ২০১৩ সালে লিভারপুলে থাকতে চেলসির ব্রানিস্লেভ ইভানোভিচেও সাথে ঘটেছিল একই ঘটনা। আর এই শেষ নিদর্শনটি দেখা গেল চলমান বিশ্বকাপ। ইভানোভিচকে কামড় দেয়ার পর ক্ষমা চাইলেও নিজেও কামড়ের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তিনি, ‘ম্যাচের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল। কি করেছিলাম নিজেরও ঠিক মনে নেই। আসলে দুশ্চিন্তা থেকেই এরকম হয়ে গেছে। আমি ভুলের জন্য ইভানোভিচের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ওর সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে।’ সম্প্রতি, নিজের ভুল স্বীকার করে ইতালির জর্জিও চিয়েলিনির কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন সুয়ারেজ। তাতেও মুখরক্ষা হচ্ছে না। শুকনো কথায় তো আর চিড়ে ভিজে না। বরং ঘুরে ফিরে একটা প্রশ্নই বার বার সামনে চলে আসছে — ‘খেলার মাঠে কেন কামড়ান সুয়ারেজ?’ তাত্ক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা কেউই দিতে পারছে না। তবে বার্মিংহাম সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড উইলসন সুয়ারেজের ঘটনাগুলোকে অপরাধ হিসেবেই দেখছেন। সাথে তিনি এও জানিয়েছেন যে, যত দিন যাবে এই অপরাধ প্রবণতা তত বাড়বে, ‘প্রথম ২০১০ সালের নভেম্বরে ও কামড় দেয়। তখন ও আয়াক্সের হয়ে খেলতো। দ্বিতীয়বার কামড় দেয় গত বছর, লিভারপুলের হয়ে চেলসির বিপক্ষে এক ম্যাচে। দুটি ঘটনার মধ্যে ব্যবধান ২৮ মাস। তৃতীয় ঘটনাটা ঘটলো ১৫ মাসের মাথে। আমার মতে চতুর্থ ঘটনাটা আরও দ্রুত ঘটবে।’ তাহলে এই অপরাধ প্রবণতা দমনের উপায় কি? একটা উপায়ের কথা বলেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। মনোবিদ ড. সালমা লতিফকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ‘সমস্যার শিকড় খুঁজে বের করতে হলে সাইকোলজিকাল থেরাপির প্রয়োজন হবে।’ মনোবিদরাও ভাবতে শুরু করেছেন সুয়ারেজকে নিয়ে। নটিংহ্যাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ ড. মার্ক গিফিথ একে ধাক্কা লাগার মতো এক ঘটনা হিসেবেই দেখছেন, ‘ফুটবল মাঠে আমরা অনেক রকম সংঘর্ষই দেখি। ঘুষাঘুষি, ধাক্কাধাক্কি থেকে শুরু করে মাথা দিয়ে ঠুঁস দেওয়া — এসব কিছু এখন অনেকটা ফুটবলের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কামড় দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। তাই এটা কিছুটা ধাক্কা লাগার মতোই একটা ঘটনা।’ ফুটবলে আগে দেখা গেলেও ক্রীড়াবিশ্বে কামড় দেওয়া মোটেই অধুনা কোনো ব্যাপার নয়। ১৯৯৭ সালে এক বক্সিং ম্যাচে ইভান্ডার হলিফিল্ডের কান কামড়ে দিয়েছিলেন মাইক টাইসন!