বাজি ধরতে নেই

হয়তো মাঠে খেলা চলছে, আমরা হুট করে বাজি ধরে ফেলি, কে জিতবে, কে হারবে। অনেক সময় আরও সূক্ষ্ম বাজিও ধরতে দেখি, এই ওভারে উইকেট পড়বে কি না? অথবা কত রান হবে? এ-তো গেল খেলার মাঠে। আমাদের নিত্যদিনের জীবনেও কি আমরা নিজেদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে জাহির করার জন্য বাজি ধরি না? আর এই বাজি ধরাটা কি নেহাতই শখের বশে? না কি নেশা হয়ে যাচ্ছে? এইসব আলোচনা নিয়েই আমরা আড্ডায় বসেছিলাম নতুন প্রজন্মের বন্ধু সাকিব, স্বাধীন আর শিমুলদের সাথে। সাকিব :আজ তোদের খাওয়াব চল, বাজি ধরে এক হাজার টাকা জিতেছি। ইস আরেকটু হলে সিফাতের কাছেও জিতে যেতাম, যদি না আজ বাংলাদেশ হেরে যেত। স্বাধীন :থাম থাম, তুই আবার বাজি ধরেছিস? সেদিন না কার কাছে অনেক টাকা হারলি? আমার এইসব একদম পছন্দ হয় না। যা ফলাফল হবার তা হবে। তোর আমার কোনো লাভ হয়? মাঝখান থেকে টাকাগুলো অপচয়। শিমুল :আরে, দুইজন দেখি ঝগড়া লাগিয়ে দিলি। বাজিতে জিতেছিস ভালো কথা, এবার আমাদের খাওয়াতে নিয়ে চল। আর শোন, যদি না খাওয়াস, তুই কিন্তু সামনের বাজিতে হারবি। এইটা তোর সাথে আমার বাজি থাকল। হারলে কত দিবি বল। সাকিব :দেখ, তোরা কিন্তু আমাকে শুধু শুধু রাগিয়ে দিচ্ছিস। আমি খাওয়াব বলেছি তো। কিন্তু এমন কথা বললি কেন, যে সামনের বাজিতে হেরে যাব? হেরে গেলে কিন্তু তোর দোষ। স্বাধীন :তুই কেন রাগছিস? তুই এত বাজি ধরবি, আর আমরা পারব না? আর এভাবে সব সিরিয়াসলি নিচ্ছিস কেন? তুই জিতলে তো আমাদের লাভই হয়। আমাদের ট্রিট দিস। শিমুল :কিন্তু এটা তোর অভ্যাস খারাপ করে দিচ্ছে। দেখ সাকিব, বাজির প্রতি একটা শখ থাকা ভালো, শখ করে বন্ধুরা মিলে বাজি ধরবি, সেটা আলাদা কথা। কিন্তু এভাবে বাইরের লোকের সাথে বাজি ধরতে যাস কেন? ওরা সুযোগ মতো তোকে ঠকিয়ে দিতে পারে। আর ওরা হয়তো সংঘবদ্ধ থাকে। সাকিব :তোর জ্ঞানী প্যাঁচাল থামাবি? আমি মোটেও ব্যবসা করতে যাচ্ছি না। আর দেখিস না? খেলার সময় কত নামিদামি বাজিকর বের হয়। ইস একবার তাদের সাথে বাজি ধরতে পারলে বড়লোকই না হয়ে যেতাম। স্বাধীন :আর মিডিয়ায় বড় বড় করে তোর ছবি ছাপা হতো। সাকিব :ঠিক তাই, কিন্তু ওদের সাথে কি আর বাজি ধরার মতো সামর্থ্য আমার আছে? স্বাধীন :আমার কথা তো শেষ করতে দিলি না, ছবির নিচে লেখা থাকত, ‘বাজিকর সাকিব গ্রেফতার’, তাই না? শিমুল :তোরা যা শুরু করলি, এই বকবক তো দেখছি থামবে না। আসল কথাটা বুঝার চেষ্টা কর সাকিব। তুই হয়তো বাজি ধরাটাকে নেশা বানিয়ে ফেলছিস। এটা ঠিক না। কারণ এ রকম চলতে থাকলে নিজের উপর একটা অনাস্থা এসে যেতে পারে। সবকিছুতেই চ্যালেঞ্জিং ভাব এসে যায়। সাকিব :আচ্ছা বাবা, বুঝলাম। আমি আর সিরিয়াসলি এর মধ্যে নেই। আর আমাকে নিয়ে এত চিন্তারও দরকার নেই তোদের। আমি বাজিকর হতে চাইনি কোনো সময়। শুধু ঠাট্টা করছিলাম, এই যা। তাহলে চল এবারের বাজিতে জেতার টাকায় খেয়ে আসি।