প্রজন্ম প্রতিনিধি

স্বপ্ন বুননের প্রচেষ্টায়

নিজের প্রচেষ্টা এবং উদ্যমে এগিয়ে গেছেন আপন ঢঙে। প্রজন্মের এই প্রতিনিধির বেড়ে ওঠাটাও বেশ উত্সাহ ব্যাঞ্জক। সফিক জহুরুল হক বর্তমানে দেশের প্রথম সারির প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন প্রোভাইডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেজমার্ক এডুকেশনের মহাপরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে নিয়ে এবারের আয়োজনে লিখেছেন ইশরাত বিনতে অনন্যা বাবা-মায়ের কর্মের সুবাদে ছোটবেলার পুরো সময় কেটেছে দেশের বাইরে, জন্ম মধপ্রাচ্যের ইরানে, শৈশব-কৈশোরে বেড়ে উঠেছেন সৌদি আরবে। নয় বছর বয়সে প্রথম আবাস গড়েন বাংলাদেশে। ম্যাপেললিফ স্কুল থেকে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল সম্পন্ন করার পরই শুরু করেন চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্সিতে পড়াশোনা। ২০০৬ সালে চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে সাফল্যের সাথে স্বীকৃতি পান। সফিক জহুরুল হক এসিএমএ সিজিএমএ শুধুমাত্র একজন ম্যান্যাজম্যান্ট অ্যাকাউন্টেন্টই নন, পড়াশোনা করেছেন আইন শাস্ত্র নিয়ে, এবং বিপণনে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনেস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে। বর্তমানে দেশের প্রথম সারির প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন প্রোভাইডর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেজমার্ক এডুকেশনের মহাপরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একজন সিআইএমএ কোয়ালিফাইড হিসেবে সফিক জহুরুল হক মনে করেন বর্তমানের চাকরির ক্ষেত্র পুরোপুরি ফাইন্যান্স নির্ভর, একজন চাকরিপ্রার্থীর সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয় তার ব্যবহারিক জ্ঞান কতটুকু সমৃদ্ধ, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুধুমাত্র একটা পর্যায় পর্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সিমা তার শিক্ষার্থীদেরকে ঠিক সেই প্রয়োজনের জায়গাটুকুতেই যোগ্য করে তোলে। এটি ২০০৬ সালের কথা বর্তমানে এই চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। মাত্র ষোল বছর বয়সে প্রথম শিক্ষকতার পেশায় যোগ দেন একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের শিক্ষক হিসেবে। বর্তমানে পেজমার্কের শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষক হিসেবে সমান জনপ্রিয় তিনি। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেন্সি এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্সির পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে সফিক জহুরুল হক বলেন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেন্সি আপনাকে অতীত নিয়ে ভাবতে বলে যার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে লুক ব্যাক। আর অপর দিকে ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্সির প্রধান লক্ষ্য থাকে লুক ফরওয়ার্ড, এটি একজন মানুষকে চিন্তা করতে সাহায্য করে বাণিজ্যের ভবিষ্যত্ প্রসারের ব্যাপারে, একজন ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট একটি কোম্পানির বিজনেস প্ল্যানার হিসেবে কাজ করেন। ২০০৬ সালে যখন বাংলাদেশের মানুষ সিআইএমএ সম্পর্কে অবগত ছিল না বললেই চলে সেই সময় সিআইএমএ পড়াশোনার ইচ্ছে কিংবা আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে সফিক জহুরুল হক তার বাবা মায়ের অবদান বলেই স্বীকার করেন, বাবা জহুরুল হক পেশায় ব্যবসায়ী এবং মা ড. নুরজাহান সৌদি আরাবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চাকরির সুবাদে আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে এই ডিগ্রির চাহিদা সম্পর্কে ভালোই অবগত ছিলেন, যার ফলে তাদের ইচ্ছে এবং তার ব্যক্তিগত আগ্রহের সমন্বয় তাকে সিআইএমএ-তে ভর্তি হতে সহায়তা করে। নিজের স্বপ্ন নিয়ে বলতে গিয়ে সফিক বলেন মানুষের প্রত্যাশাই মানুষের বড় স্বপ্ন। আপনার কর্মনিষ্ঠা আর প্রার্থনাই আপনাকে ঐশ্বরিক সফলতা অর্জনে সহায়তা করবে।