জামায়াত প্রার্থীকে নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. ফরিদুল ইসলামের নাম ঘোষণায় নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও, জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদের মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে  ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। 

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বারবার হেরে যাওয়া জামায়াতের প্রার্থী নিয়ে এবারও নির্বাচনে বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব হবে না। ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করছেন এবার চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনে বিএনপির ক্লিন ইমেজের প্রার্থী ছাড়া এ আসনে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। এ আসনে কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ড. ফরিদকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে আসন রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন এমনই আশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রামপাল-মোংলা এই দুই উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসন। বিভিন্ন কারণে এ আসনটি প্রত্যেকটি দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ সকল নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে এ আসনে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সহধর্মিণী হাবিবুন নাহার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। ১৯৯১ সাল থেকে কয়েকটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী বরাবরই হেরেছেন।

আরো পড়ুন: মির্জা ফখরুলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বিএনপি নেতারা: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি সমর্থিত জোটের এ দুঃসময়ে জামায়াতের প্রার্থী দলের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা এ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে হারানো আসনটি উদ্ধারে বিএনপির প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় নেতাকর্মীরা। তবে এ ব্যাপারে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে, তারা কথা বলতে রাজি হননি। তারা বলেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিবে তাকেই ভোট দিব।

মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির পক্ষে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা অ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরপরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। 

রামপাল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহসীন ইজারাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করার কারণে আমরা এ আসনটি হারিয়েছি। এ বছর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ড. ফরিদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় আমরা খুবই খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করাতে শুধু আমি নয়, আমাদের সকল নেতাকর্মীদের মন ভেঙ্গে গেছে। আমরা চাই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে একমাত্র ড. ফরিদুল ইসলামই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।

মোংলা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদ ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করলে বিএনপির ভরাডুবি হবে। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের যে সেবা করেছেন, তাতে তিনি ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করলে বিএনপির বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নিতিশ বিশ্বাস বলেন, মোংলা-রামপালে বিপুল পরিমাণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করছেন। তারা কখনও জামায়াত নেতাকে ভোট দিবেন না। কিন্তু এ আসনে বিএনপি নেতা ড. ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আমার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি যাতে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করা হয়।

আরো পড়ুন: ‘কেউ তেল চায়, আবার কেউ সেক্স’

রামপাল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কারণে এ আসনে জামায়াত নেতারা বিএনপির পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা বিএনপিকে ভালোবাসলেও জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। এবার সাবেক ছাত্র নেতা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করলে তিনি বিজয়ী হবেন। কিন্তু দল থেকে এবারও যদি জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদকে প্রার্থী করা হয়, সে সিদ্ধান্ত হবে দলের জন্য আত্মঘাতী।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেই থেকেই এলাকার মানুষের সুখে দুখে পাশে থেকেছি। এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তারা চায় আমি ধানের শীষ প্রতীকে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচন করি। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আশাকরি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী দল আমাকে এ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ দিবেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ