ভিন্ন সুরে একজন

গতানুগতিকতাকে পাশ কাটিয়ে ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন ভিন্নভাবে। তখন থেকেই সৃজনশীলতাই তার মূল সত্তা হয়ে ওঠে। সময়ের সাথে সাথে একজন জীবনমুখী গায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ মানুষটির নাম অটমনাল মুন। তার গল্প শুনাচ্ছেন আহসান রনি মঞ্চে প্রথম গান করেছেন মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। মা হারমোনিয়াম বাজিয়েছেন আর তিনি গান গেয়েছেন। নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে স্কুলের গান বিষয়ক সব প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানীয় পুরস্কারগুলো অর্জন করতেন তিনি। এরপর থেকে শেখার আগ্রহ বাড়তে থাকে। ফলে বড় বড় শিল্পীদের গান শুনতে শুরু করেন। তার মধ্যে শচীনদেব বর্মন, মান্না দে, আশা ভোঁসলে, লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার, মাইকেল জ্যাকসন, এলভিস প্রেসলির গান খুব শুনতেন। বড় হতে থাকলেন এবং কিছু করার একটা আহ্বান অনুভব করলেন নিজের মধ্য থেকে। ১৯৯৮ সালে নিজের লেখা ও সুর করা একটা গান তৈরি করেন তিনি এবং সকলের প্রশংসা পান। যা তাকে অনুপ্রাণিত করে ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। ২০০০ সালের দিকে অন্যের গান গাওয়া বন্ধ করে শুধুমাত্র নিজের গান গাওয়া শুরু করেন। ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে একতার মিউজিক কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন। ২০০৩ সালে আশিকুজ্জামান টুলুর সাথে ‘আর্ক’ নামে একটা প্রোজেক্টে কাজ করলেন। অ্যালবামটির নাম ‘হারান মাঝি’। অ্যালবামটিতে তার লেখা সুরে ১০টি গান ছিল। তার কণ্ঠে গাওয়া ছিল ৯টি গান। ২০০১ সালে ‘একতারে নয়া-পুরান’ নামে একটা মিক্সড অ্যালবামে তার গাওয়া ‘তোমার মাঝে নাকি আমি নেই’ বেশ সাড়া জাগায়। ২০০৪ সালে ‘একতারে গাঁথা’ নামে একতারের দ্বিতীয় অ্যালবামেও ‘আমার সাধন’ নামে একটা গান গেয়েছেন ও সংগীত পরিচালনার কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে তার একক অ্যালবাম ‘পেপার’ প্রকাশিত হয় একতার মিউজিকের ব্যানারে। এ অ্যালবামের ‘হারিয়ে যাওয়া ফাতেমা’ এবং ‘ও পেপার’ গানদুটো জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ২০০৮ সালে ‘একতারে আমি+তুমি’ নামে একতারের তৃতীয় অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এ অ্যালবামে ‘তো তো তোমায় ভালোবাসি’ নামে একটা গান গেয়েছেন তিনি। তার একটা ব্যান্ড লাইন-আপ আছে যার নাম—মুন’জ। তার ব্যান্ডের একক অ্যালবামের কাজ চলছে। এটি প্রকাশিত হবে ফুয়েলস্টেশনের ব্যানারে। এর পাশাপাশি তিনি গিটার, গান ও হারমোনিকার প্রশিক্ষক। সংগীত প্রযোজক হিসেবে ‘গানবাংলা’ টেলিভিশনে কাজ করছেন। কাজের ক্ষেত্রে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে অনেকের সাথেই কাজ করেছেন বলে জানালেন মুন। এসব কাজে তার অভিজ্ঞতা যে আসাধারণ তা তার অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট। নতুনদের সম্পর্কে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নতুনদের সাথে অনেক কাজ করতে চাই, তাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে চাই। তারা যেন একজন আরেকজনকে অনুকরণ করে ঝরে না যায়। তাদের প্রতি আমার পরামর্শ—রুচির ব্যাপারে যেন কারো সাথে তারা আপস না করে।’ তিনি স্বপ্ন দেখেন তার নিজের গান বিশ্বের দরবারে স্থান করে নেবে। তার মিউজিক স্টাইলটা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তখন সার্থক মনে করবেন নিজেকে। অটমনাল মুন ডাকনাম :মুন জন্ম তারিখ ও স্থান :১ জুলাই মায়ের নাম :শিবানী দাস বাবার নাম :শচীন্দ্রনাথ দাস প্রথম স্কুল :সেন্ট জোসেফ’স হাইস্কুল, খুলনা প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় উক্তি :বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট সাফল্যের সংজ্ঞা :যা চেয়েছি তা পেয়েছি, কিংবা অনুসরণীয় লক্ষ্যের বাস্তবায়ন।