আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করবে এটুআই

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের বিভিন্ন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের আগ্রহে গত ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল আমন্ত্রিত দেশের কুটনীতিকবৃন্দের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা-সমঝোতা স্থাপন এবং উন্নত দেশের অভিজ্ঞতা থেকে কীভাবে শিক্ষা নেওয়া যায় সে বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা। ইউএনডিপি ও ইউএসএইডের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশে কর্মরত উন্নয়নশীল দেশসমূহের কনসাল জেনারেল ও অনারারি কনসালগণের ফোরাম, ‘কনস্যুলার করপস ইন বাংলাদেশ (সিসিবি)’-এর সদস্য এবং ৪০টির বেশি দেশের কূটনীতিবিদগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদার ও চিলির অনরারী কনসাল আসিফ এ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার। উল্লেখ্য, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ‘জনগণের দোরগোড়ায় সেবা’ স্লোগানকে সামনে রেখে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রশাসনসহ জীবনধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ ই-সেবা সুবিধা পাচ্ছে। দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষই এখন কোনো না কোনো ই-সেবা সুবিধা গ্রহণ করছে। এটুআই প্রোগ্রামের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে হিসেবে চলতি বছর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (WSIS)’ পুরস্কার প্রদান করে। ইতোমধ্যে মালদ্বীপ, নেপাল, সেসালস ও সুরিনাম সরকার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মডেল ও অভিজ্ঞতা তাদের দেশে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।