বিশ্বকাপের রথী-মহারথী

ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। বিশ্বকাপের উত্তাপ শুধু মাঠেই ছিল না, গ্যালারিতেও ছিল। এবারের বিশ্বকাপের গ্যালারিতে উত্তাপ ছড়ানো রথী-মহারথীদের নিয়ে লিখেছেন— সাইমুম সাদ শাকিরা এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত তারকা শাকিরা। বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়াম মাতিয়েছেন কলম্বিয়ান এই পপতারকা । প্রায় এক হাজার নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় আশি হাজার দর্শককে বিমোহিত করেন শাকিরা। শাকিরার সঙ্গে অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন স্থানীয় সংগীত তারকা স্যান্টানা, উইক্লিফ। এছাড়া, ব্রাজিলিয়ান গায়ক অ্যালেকজান্দ্রে পাইরেস একসঙ্গে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল অ্যান্থেম 'দার উম জেইতো'তে গলা মেলান। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ান গায়ক কার্লিনহোসেসহ 'লা-লা-লা' গেয়েছেন শাকিরা। তার মিউজিক ভিডিও ইউটিউব-এ চার কোটিরও বেশি দর্শকের হূদয় কেড়েছে। ফাইনালের দিন তিনি এই গানেই পারফর্ম করেন। বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার এক পর্যায়ে ছেলেকেও মঞ্চে নিয়ে আসেন তিনি। জমকালো সাজে পুত্রকোলে শাকিরা যখন গাইছিলেন পুরো মারাকানা যেন উন্মাদনায় ভেসে যাচ্ছিল। জেনিফার লোপেজ আমেরিকান পপস্টার জেনিফার লোপেজ ব্রাজিলের সাও পা্ওলোতে বিশ্বকোপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। বিশ্বকাপের দু’দিন আগেও শোনা গিয়েছিল, জেনিফার লোপেজ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাইবেন না। কিন্তু সব সংশয়ে জল ঢেলে ৪৪ বছর বয়সী এই পপতারকা ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতিয়েছেন। পিটবুল এবং ব্রাজিলিয়ান শিল্পী ক্লদিয়া লেইতের সঙ্গে একই মঞ্চে লোপেজ পরিবেশন করেন এবারের অফিসিয়াল বিশ্বকাপ সঙ্গীত 'ওলে ওলা'। সাও পাওলোতে প্রায় ৬০ হাজারের অধিক দর্শক এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে। পিটবুল কিউবা-আমেরিকান জেনিফার লোপেজ ও ক্লাউডিয়ার সাথে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সং 'ওলে ওলা'ও তালে তালে কণ্ঠ মেলান। আঞ্জেলা মরকেল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন টিম জার্মানীর চ্যান্সেলর আঞ্জেলা মরকেল প্রথমবার মাঠে এসেছিলেন জার্মানী ও পর্তূগালের মধ্যকার ম্যাচটিতে। পরবর্তীতে ফাইনাল ম্যাচে নিজের দেশকে সমর্থন জানাতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন। মারাকানার ভিআইপি গ্যালারিতে বসে গোটেজ, ক্লোসা ওজলদের খেলা উপভোগ করেন। শেষমেশ তিনি ট্রফিটা নিয়েই দেশে ফিরেন। ভ্লাদিমির পুতিন ফুটবলের প্রতি পুতিনের দুর্বলতা আজ নতুন নয়। একটু সময় পেলেই ফুটবলে বুঁদ হয়ে যান রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট। আগামী বিশ্বকাপটা আয়োজনের দায়িত্বটা তার কাঁধেই পড়েছে। বিশ্বকাপের উত্তাপে গা ভাসাতে ফাইনালে মাঠে হাজির হয়েছিলেন তিনি। দিলমা রোসৌফ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে যেতে না পারলেও আয়োজক দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রোসৌফ বিশ্বকাপের ফাইনালে মহাযজ্ঞে মাঠেই ছিলেন। রিহানা বার্বাডোজের পপস্টার রিহানা বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে শুধু হাজিরই হয়েছিলেন না, রীতিমত আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। রিহানা তিন তিনটা দলকে সাপোর্ট করেছে। ব্রাজিল, জার্মানি, কলম্বিয়া। ফাইনালের মাঠে জার্মান সমর্থক হিসেবেই তিনি মাঠে হাজির হয়েছিলেন। তাই চ্যাম্পিয়ন জার্মানকে নিয়ে তার উচ্ছ্বাসটা একটু বেশিই ছিল। সে কারণেই মুলারদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেলিব্রেশনে ক্লোজে, সোয়াইনস্টাইগার, পোডলস্কিদের সঙ্গে উত্সব করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, কাপে চুমু খেয়ে তার টুইটে লিখেছিলেন, ''কাপটা ছুঁলাম, ধরলাম, চুমু খেলাম তারপর সেলফিও নিলাম"। মূলত আলোচনার জন্মটাই এখান থেকেই। তবে রিহানা সেই আলোচনা-সমালোচনাকে গায়ে মাখছেন না। এদিন ফুটবল লিজেন্ড পেলের সাথেও তিনি সাক্ষাত্ করেন। ডেভিড বেকহাম ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহামও ফাইনাল ম্যাচে মাঠে ছিলেন। মাঠে একা আসেননি সঙ্গে দুই ছেলে রেমিও ও ক্রেজকেও সঙ্গে এনেছিলেন। মাঠে পেলে, কাকাদের সাখে বেশ কিছু সময় জমিয়ে আড্ডা দেন। গ্রুপ ছবি তোলেন। ফাইনাল ম্যাচে বেকহাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে হারবে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। জো বাইডেন বিশ্বকাপের মাঠে রথী-মহারথীদের তালিকায় বেশ ক’জন আমেরিকান আছে। তাদের মধ্যে অন্যতম আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি নিজের দেশকে সমর্থন জানাতে আমেরিকা ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচে নাটালের মাঠে বসে উপভোগ করেন। অ্যাস্টন কুচার আমেরিকান বিখ্যাত অভিনেতা অ্যাস্টন কুচার বিশ্বকাপের মাঠে আলাদা উন্মাদনার জন্ম দিয়েছেন। ফাইনালের দিন ব্রাজিলের মাঠে বসে পুরো খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি বেশ কিছু সেলফি তোলেন। সেপ ব্লাটার বিশ্বকাপ চলছে আর মাঠে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা প্রেসিডেন্ট থাকবেন না। এটা কি কখনো হয়! আর তাইতো ব্লাটার ফাইনালের দিন পুরোটা ম্যাচ উপভোগ করেছেন মাঠে বসে। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। আদৃয়ানা লিমা ব্রাজিলের সাড়াজাগানো মডেল আদৃয়ানা লিমা। নিজের প্রিয়দল ব্রাজিল ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ায় বিমর্ষ হলেও ফাইনালের মাঠে ঠিকই ছিলেন। শুধু তাই নয় মাঠে বিভিন্ন পোজ দিয়ে ছবি তোলেন। লেবরেন জেমস জেমসকে বাস্কেটবলের মেসি বলা হয়। মাঠে এক মেসি খেলবেন আরেক মেসি থাকবে না এটা কিভাবে হয়! বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটা দেখতে ঠিকই তিনি ব্রাজিলে উড়ে এসেছিলেন। মাইক জিগার ইংল্যান্ডের মাইক জিগার সময়ের আলোচিত একজন সংগীত শিল্পী। তার দেশ বিশ্বকাপ থেকে অনেক আগেই ছিটকে পড়েছে। কিন্তু ফাইনালটা তিনি কিছুতেই মিস করতে চাননি। সব কাজকর্ম ফেলে বিশ্বকাপের ফাইনালের মাঠে ঠিকই ঢুঁ মেরেছিলেন। গিসলে ব্যান্ডচেন ব্রাজিলের তারকা সুপার মডেল গিসলে বিশ্বকাপের মাঠ মাতিয়েছেন। স্বামী টমের সাথে ফাইনালের দিন মাঠে ছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি প্রদর্শনীতেও তিনি অংশ নেন।